প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: শিক্ষায় অবহেলাই হলো সকল সমস্যার মূল

অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন: সদ্য প্রকাশিত Innovation Index-এ আবার বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার তলানিতে। এবারও ১৩২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান গতবারের জায়গা অর্থাৎ ১১৬তম স্থানেই আছে। যেখানে ভারত দুই ধাপ এগিয়ে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং-এ ৪৬তম, শ্রীলংকা ৬ ধাপ এগিয়ে ৯৫তম, পাকিস্তান ৮ ধাপ এগিয়ে ৯৯তম আর নেপাল ১৬ স্পট সাজিয়ে ১১১তম। অর্থাৎ অন্যরা এগিয়েছে কিন্তু আমরা এগোইনি এবং যথারীতি দক্ষিণ এশিয়ায় সবার নিচে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের শিক্ষার মান ২.৮ শতাংশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার শিক্ষার মান যথাক্রমে ২০.৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানের শিক্ষার মান ১১.৩ শতাংশ! আবার ২০২০ সালে CEOWORLD magayine-এর তৈরি পৃথিবীর সেরা এডুকেশন সিস্টেমের একটি ইনডেক্স প্রকাশ করে। সেই ইনডেক্সে ভারতের অবস্থান ৩৩, শ্রীলঙ্কার অবস্থান ৭৭, পাকিস্তানের অবস্থান ৮৩, মিয়ানমারের অবস্থান ৯২ আর আমার প্রাণের বাংলাদেশকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওয়ার্ল্ড নলেজ ইনডেক্সে দক্ষিণ এশিয়ার তলানিতে বাংলাদেশ। আবার রিসার্চ ও ইনোভেশন ইন্ডেক্সেও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ তলানিতে। অথচ আমাদের কী ভাব? আমরা নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে। পৃথিবী নাকি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখে আর আরও বেশি করে অবাক হয়। ইৎধমমরহম কাকে বলে বিশ্বকে আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি!

তাছাড়া বাংলাদেশের কতো মানুষ প্রতিদিন কেবল চিকিৎসার জন্য ভারত যান? শুধু চিকিৎসা বাবত বাংলাদেশ কতো বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে? বাংলাদেশে শিক্ষিত যোগ্য বাংলাদেশি না পাওয়ার কারণে কতো ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি করে? একমাত্র টয়লেট এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যু এরকম দুয়েকটি ক্ষেত্রে নাকি আমরা এগিয়ে। এসব এগিয়ে থাকার পেছনে কতোটা সরকারের অবদান আর কতোটা আমাদের এনজিওর অবদান সেটাও ভেবে দেখবেন। বাংলাদেশের এনজিওদের অবদান সবচেয়ে বেশি হাইজাক হয়েছে। হবে না কেন? যেই দেশে শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ জিডিপির মাত্র ২.২ শতাংশ! যেখানে এটা হওয়ার কথা ন্যূনতম জিডিপির ৫.৫ শতাংশ! তারপরও সবাই চুপ। শিক্ষায় অবহেলাই হলো সকল সমস্যার মূল।

লেখক : শিক্ষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বাধিক পঠিত