প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: ছাত্ররা সহনশীল রাজনীতি কিভাবে শিখবে? 

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে : ১৯৯০ এ যেমন স্বৈরাচারের পতন ঘটে তেমনি তখন যতটা গণতন্ত্র ছিল সেখান থেকে পতনের ধারা শুরুও ঘটে! আর সেটা ঘটে দুই বড় দলের হাত ধরে সময়ের সাথে increasingly বেশি হারে।

বলা হয়ে থাকে ১৯৯০ সালের পর থেকে নাকি স্বৈরাচারের বিদায়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রের সূচনা ঘটেছে। What a mockery!!! আমিতো বলি স্বৈরাচারের বিদায়ের সাথে সাথে গণতন্ত্রের গলায়ও বেড়ি পড়ানো হয়েছে যা দিন যত গিয়েছে গলার সেই বেড়িটাকে আরো tight করা হয়েছে। এমনি গণতন্ত্র এসেছে যে স্বৈরাচারের বিদায়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ভিন্নমতের ছাত্রদের সহাবস্থানও বিদায় নিয়েছে। ঠিক ১৯৯০-এর পর থেকেই একমাত্র ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংঘটন হলে থাকতে পেরেছে আর ক্ষমতাচ্যুত দলের ছাত্র সংঘটনের ছেলেদের হল থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। এর এক সুদূরপ্রসারী ইমপ্যাক্ট সমাজেও পড়েছে। ছাত্রবস্থায় যদি ভিন্নমতের ছাত্রদের সাথে পরমত সহিষ্ণুতা দেখিয়ে একসাথে থাকতে না শিখে তাহলে এরা যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে রাজনৈতিক নেতা হয় তারা কিভাবে ভিন্নমতকে সম্মান দেখাবে?

১৯৯০ সালে নাকি স্বৈরাচারের বিদায়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রের আগমন ঘটেছে। এমনি গণতন্ত্র এসেছে যে স্বৈরাচারের বিদায়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনের সংস্কৃতি বিদায় নেয়। অর্থাৎ অহমবোধ সম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এখনকার ছাত্র নেতারা সাধারণ ছাত্রদের মঙ্গলের জন্য শিক্ষার পরিবেশের কথা ভাবতে হয় না। তাদের দৃষ্টি তোষামোদি আর সহমতবাদিতার দিকে কারণ তাদের যারা বানায় তারা সেটাই পছন্দ করে। তারা চায় ছাত্রনেতাদের ক্ষমতার সিঁড়ি বানিয়ে রাখতে। ফলে ওরা তাদেরই বানায় যারা সিঁড়ি হওয়ার প্রতিযোগিতায় জয়ী।

এমনই গণতন্ত্র এসেছে যে স্বৈরাচারের বিদায়ের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের গেস্টরুমগুলো যেন একেকটা ছাত্র নিপীড়ন কেন্দ্র। অর্থাৎ তখন থেকেই শুরু হয় সাধারণ ছাত্র নিপীড়ন। যেই দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন এই ব্যাপারে তাদের যেন গলায় গলায় মিল। অর্থাৎ কোন দল ক্ষমতায় সেটা ইমমেটেরিয়াল। ছাত্রদের জোর করে মিছিলে নেওয়া, ছাত্রদের manner শেখানোর নামে মাথা নত করে চলতে শেখানো হয়। এইভাবে ১৯৯০-এর পর থেকে একশ্রেণীর ছাত্রনেতারা যারা নিজেরা নেতা হয়েছে তোষামোদি করে তারা আবার সাধারণ ছাত্রদের কাছ থেকে জোর করে সম্মান আদায় করে। অথচ আমরা শিক্ষক এবং দেশের সাধারণ মানুষ সেই ১৯৯০ সাল থেকে এইসব মেনে নিয়েছি। দিন যত যাচ্ছে সাধারণ ছাত্রদের উপর নির্যাতন ততই বাড়ছে।

নির্বাচিত ছাত্রসংসদ না থাকায় ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতারাই ছাত্রসংসদের মত আচরণ করে। আবাসিক হলের প্রভোস্টরাও ক্ষমতাসীন ছাত্রনেতাদেরকে নির্বাচিত ছাত্রসংসদের মর্যাদা দেয়। নির্বাচিত ছাত্রসংসদ থাকলে ছাত্রসংসদ নেতারা যেই কাজগুলো করতো সেগুলো এখন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রনেতারা করে। যেহেতু তারা মানের দিক থেকে খুবই দুর্বল তারা সম্মান অর্জন করতে পারে না। তাই এই জোর জবরদস্তি। এটাই এখন সংক্রমিত হয়েছে পুরো জাতির উপর। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন নির্বাচিত সংসদ নাই বলতে গেলে বা এফেক্টিভলি দেশেও নির্বাচিত সংসদ নাই। যদিও একটা তথাকথিত নির্বাচিত সংসদ আছে সেটা কতটা নির্বাচিত জনমনে প্রশ্ন আছে। পুরো দেশটা যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই আয়নায় প্রতিফলন।

এ থেকে আমাদের ছাত্রছাত্রীদের মুক্ত করা ব্যতীত এই জাতির সামনে আর কোন বিকল্প নেই কারণ এভাবে চলতে থাকলে দেশে এক সময় মেরুদন্ডওয়ালা মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এর ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই দেখতে পাচ্ছি। এমনকি শিক্ষকদের এক বিরাট অংশের কোন মেরুদন্ড নেই। বিশেষ করে তথাকথিত নেতৃস্থানীয়দের কোন মেরুদন্ড নেই। অথচ শিক্ষকদেরই হওয়ার কথা সত্যজিতের উদয়ন পন্ডিত।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত