প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঈন চৌধুরী: শিল্প সংগ্রহ : যে কারণে আমি রাঘববোয়াল হতে পারিনি

মঈন চৌধুরী: দুদিন আগে আমি পোস্টে আমার লাইব্রেরির কিছু ছবি দিয়েছিলাম। সবাই ছবিগুলো দেখে বইয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা জাগিয়ে আনন্দিত হয়েছেন, অনেকেই আমার বাসায় আসতে চেয়েছেন লাইব্রেরি আর বাগান দেখতে। কিন্তু আমার এক দূর সম্পর্কের বন্ধু ইনবক্সে আমাকে লিখেছেন, টাকা থাকলে সবাই বই কিনতে পারে, লোক দেখানোর জন্য তো কিনেই। তার কথায় আমি রাগ করিনি, শুধু বলেছি, আপনাকে দিয়ে জীবনেও বই কেনা হবে না। তাকে কথা শোনানোর পর আমি নিজেই আমার বই, পেইন্টিং, এ্যান্টিক, ভাস্কর্য, অর্কিড়, ক্যাক্টাস, বনসাই সংগ্রহ করা আর ছবি আঁকা, ভাস্কর্য গড়া আর বাগান করা নিয়ে ভেবেছি। কী ভাবলাম, তাই লিখছি এখন।

সুন্দরের প্রতি আমার আকর্ষণ ছিলো ছেলেবেলা থেকেই, আর এই আকর্ষণ জন্মানোর প্রেক্ষাপটে ছিলেন আমার বাবা সাহিত্যিক/সাংবাদিক চৌধুরী শামসুর রহমান আর আমার পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার বাবার নিজস্ব লাইব্রেরি ছিলো, প্রতিদিন পড়াশোনা করতেন রাত ১টা পর্যন্ত। আমাদের কাকরাইলের বাসার লনে বাবা নিজ হাতে বাগান করতেন, আর পাড়ার লোক সেই বাগানের রূপ আর সৌন্দর্য দেখতে আসতো। একুশে ফেব্রয়ারির রাতে বাবা ঘুমাতেন না, সারারাত জেগে বাগান পাহারা দিতেন ফুলচোরদের হাত থেকে বাগানটিকে বাঁচানোর জন্য। সব সুন্দর সৃষ্টি করার পাশাপাশি আমার বাবা আর মা চাইতেন, আমি আর আমার একমাত্র বোন যেন ভালো মানুষ হয়ে উঠি। আমরা মনে হয় আমরা ভালো মানুষ হয়েছিলাম।

দেশে-বিদেশে শীর্ষ যোগ্যতাসহ পড়ালেখা শেষ করার পর দেশে এসে আমি যেহেতু সরকারি চাকরি করিনি, ব্যবসা করিনি, রাজনীতিতে যোগ দিইনি, দালালী পছন্দ ছিলো না, সেহেতু আমি টাকার কুমির হতে পারিনি। একজন ভ‚প্রকৌশল উপদেষ্টা হিসেবে আমি দেশে-বিদেশে কাজ করতাম আর আমার মাসিক আয়ও বেশ ভালো ছিলো। কিন্তু আমার ঘাড়ে সবসময় নন্দনতত্তে¡র এক ফেরেশতা বসে থাকতো আর আমি সেই ফেরেশতা আর আমার সুন্দর আত্মার নির্দেশে বই, পেইন্টিং, ভাস্কর্য, এ্যান্টিক ইত্যাদি কিনে, বাগান সাজিয়ে আর ভ্রমণ করে আমার মোট আয়ের ২৫/৩০ শতাংশ খরচ করে ফেলতাম। খরচের পর যা থাকতো তাতেও আমি সচ্ছল ছিলাম। আমি যদি আমার ঘাড়ে চাপা নন্দনতত্তে¡র ফেরেশতা তাড়িয়ে আর মনকে দমিয়ে সুন্দরের পেছনে খরচ না করতাম, তবে আমি টাকার কুমির না হলেও, রাঘববোয়াল হতাম। এখানে একটা কথা বলা আবশ্যক। আমার এই নন্দনতাত্তি¡ক কর্মকা আমার বাবা, মা, স্ত্রী আর ছেলে মেয়ের সমর্থন ছিলো। এখন আমি রিটায়ার্ড, তবে আমার সঞ্চয় আর মনের মতো মানুষ হওয়া আমার ছেলে আর মেয়ের জন্য, আমি এখনও সচ্ছল ও সুখী। আমি আমার সব বন্ধু আর আত্মীয়-স্বজনের দোয়া আর শুভকামনা চাই।
আজ আমি আমার শিল্প সংগ্রহের বেশকিছু ছবি পোস্ট করছি, যা আমার ঘাড়ে চাপা নন্দনতত্তে¡র ফেরেশতার চরিত্র বোঝাবে আর আমি যে কেন টাকার বোয়াল মাছ হইনি, সে সত্যও প্রকাশ করবে। Mayeen Chowdhury-র ফেসবুক ওয়ালে লেখাটি পড়ুন।

 

সর্বাধিক পঠিত