প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বোয়ালমারীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দাম উর্ধ্বমুখী

সনতচক্রবর্ত্তী বোয়ালমারী ফরিদপুর :নতুন করে আবার বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দাম। যদিও মাঝে সবধরনের জিনিসপত্রের দাম কিছুটা কম ছিল।

গত কয়েকদিন ধরে বোয়ালমারীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এতে প্রয়োজন মেটানোর জন্য হাটবাজার করে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষেরা।

দেশে এখন লকডাউন নেই, তারপর সবধরণের পন্য পরিবহন চালু থাকার মাঝেও জিনিসপত্রের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দরিদ্র শ্রেনীর ক্রেতারা বিপাকে পরেছেন।

সরেজমিনে বোয়ালমারীর কয়েকটি বাজার বোয়ালমারী মাছবাজার,বোয়ালমারী তালতলা বাজার, চৌরাস্তা বাজার,ঠাকুর পুর বাজার, সাতৈর বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী বেড়েছে চিনি, পেঁয়াজ, ডাল, আটা ও তেলের দাম। পাইকারি দরে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা খুচরা বাজারে কেজি ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুসুরির ডাল খুচরা ৯০ টাকা কেজি, পামওয়েল তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪০টাকা কেজিতে। গত এক সপ্তাহে চিনি, ডাল ও তেলের দাম কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

বাজারে দ্রব্যমূল্যে সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে পেঁয়াজ। গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০-৪৫ টাকায়, এক সপ্তাহ ব্যাবধানে পেঁয়াজের দাম এখন ১৫-২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে। যেখানে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের।

তবে পেঁয়াজের দাম বাড়লেও স্বস্তির মাঝে রয়েছে রসুন। রসুন প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, তুলনামূলক চড়া শাকসবজির বাজার।

বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার ঠাকুরপুর বাজারে প্রতি কেজি আলু ২০-২৫, মরিচ প্রতিকেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, টমেটো ৮০-১০০, লালশাক ২৫-৩০, সিম ১০০-২২৫, গাঁজর ১০০ -১২৫ , পটল ৪০ -৫০, শসা৩৫- ৪০, বরবটি৪০- ৫০, ঢেঁড়স৪০- ৫০, পেঁপে১৫- ২০ ও মুলা৪০- ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

শাকসবজির মধ্যে ফুলকপির দাম বেশ চড়া, বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া বাঁধাকপি৪৫- ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দামের বিষয়ে বোয়ালমারী বাজারের ব্যবসায়ী আমির মোল্লা বলেন, বন্যা ও বৃষ্টির কারণে সবজি খেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে সবজির দাম বাড়তি। তবে আস্তে আস্তে বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ছে। তাই আমাদের ধারণা কিছুদিনের মধ্যে সবজির দাম কিছুটা কমে আসবে।
যদিও মৌসুমের আগাম সবজিগুলোর দাম একটু বেশি।

এদিকে, কিছুটা স্বস্তিদায়ক রয়েছে মাছের বাজার। বাজারে শিং মাছ ৪০০, মৃগেল ২০০, রুই ২০০, ব্রিগেড ১৫০, গ্রাসকার্প ২০০, তেলাপিয়া ১২০ ও পাঙ্গাশ মাছ ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও আকার অনুযায়ী দামে ভিন্নতা রয়েছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী সুশান্ত জানান, মাছের দাম হাতের নাগালেই রয়েছে। কিন্তু, বাজারে আগের তুলনায় ক্রেতা কম আসেন, তাই বেচাকেনা কম।

অন্যদিকে মাংস আগেরদামেই বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৫৫০, খাসির মাংস৭০০- ৭৫০, পোল্ট্রি ১২০-১৪০,সোনালী মুরগী ২০০, টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা শেখ আনিসুজ্জান জানান, বাজারে মাছের দাম আগের তুলনায় কম থাকলে ও শাকসবজির দাম বেশি, কিন্তু কি আর করার। বেশি দামেই কিনে খেতে হবে। তিনি আরও বলেন বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক ভাবে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। এতে অসাধু বিক্রেতা বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে না। কিছুটা হলেও দাম নিয়ন্ত্রণ থাকবে।