প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেলাল মহিউদ্দিন: বামপন্থা ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাস বিশ্লেষক হিসেবে হাওয়ার্ড জিন

হেলাল মহিউদ্দিন: হাওয়ার্ড জিন তিনটি নাটক লিখলেও তিনি পেশাদার নাট্যকার নন। তার লেখা নাটকগুলো বিখ্যাত হয়েছে মূলত তার নামে, তার খ্যাতির টানে। বামপন্থা ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাস বিশ্লেষক হিসেবে তিনি সুখ্যাত ও অদ্বিতীয় হওয়ায় তার নাটককেও অনেকের কাছে অদ্বিতীয় মনে হয়েছে। ঘটনা এটুকুই! আজ মহিলা সমিতি মঞ্চে ‘মার্কস ইন সোহো’র শেষ মঞ্চায়নটি দেখলাম। অনুবাদক জাভেদ হুসেন মূল নাটকটিকে প্রায় হুবহুই উপস্থাপন করেছেন। এ বিষয়ে তাই কথা হওয়ার বা তাকে দায়ী করার সুযোগই নেই। নাটকটি লেখার পর অবশ্য অনেকেই হাওয়ার্ড জিনের সমালোচনা করেছিলেন। কেউ বলেছিলেন ‘অ্যাপলোজেটিক’, কেউ বলেছিলেন ‘হুইমজিক্যাল’ কাজ। ‘আরোপিত কাজ’ অভিযোগও ছিলো অনেকের। ‘

অ্যাপলোজেটিক কাজ’ বলা অভিযোগকারীদের কথা ছিলো মার্কসের এমন কী দায় ঠেকছে যে ফের দুনিয়াতে ফিরে এসে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনে নামতে হবে? ‘আই অ্যাম নট অ্যা মার্কসিস্ট’ কেন বলেছিলেন, সেই ব্যাখ্যা দিতে বসতে হবে? কেন বলতে হবে, সোভিয়েত ইউনিয়ন তার মানবিক ধারণাকে বিকৃত করেছে (এক সাম্যবাদী কীভাবে আরেক সাম্যবাদীর মৃত্যুদ দিতে পারে)? ধর্ম প্রসঙ্গে এঙ্গেলস নিরীশ্বরবাদী ছিলেন, তিনি ঠিক তেমনটি ছিলেন না, তার খতনাও হয়েছিলো, তিনি ব্যাপ্টাইজডও হয়েছিলেন এগুলো অনেকের কাছেই আরোপিত মনে হয়েছে, তলবি কৈফিয়ত মনে হয়েছে। ‘অ্যাপলজি’ দেওয়া মার্কসের স্বভাববিরুদ্ধ কাজ ছিলো বলেই নাটকটির অ্যাপ্রোচ অনেকে পছন্দ করেননি। নাটকে মার্কসের মনোলগ শুনলে মনে হতে পারে ‘রিলিজিয়ন ইজ দ্যা অপিয়ম অব দ্যা ম্যাসেজ’ বিষয়ে কম পড়–য়া ধার্মিকদের অভিযোগে মার্কস বিব্রত! (নাকি হাওয়ার্ড জিন বিব্রত!)। মার্কসের বয়েই গেছে ফিরে এসে ‘অপিয়ম’ অ্যানালজির আগে পরে কী লিখেছেন, পুরো প্যারাগ্রাফ পড়িয়ে শুনিয়ে আমধার্মিকদের তুষ্ট করার চেষ্টায় নামার।

কারণ পুরো প্যারাগ্রাফটি হাজারো আলোচক আলোচনা করেই রেখেছেন। নব্বই দশকের শেষ দিকে বিশ্বায়ন, ওপেন মার্কেট ইকোনোমি ইত্যাদির কুফল হতে এটি প্রমাণিত যে মার্কসের তত্ত¡ ও ভাবনা এখনো সমান প্রাসঙ্গিক মার্কস নিজেই এ রকম আত্মপক্ষ সমর্থনদায়ক কথাবার্তা বলবেন, বিষয়টি মার্কসের ব্যক্তিত্বের বেঠিক উপস্থাপন মনে করেছেন অনেকেই। অর্থাৎ নাটকটি নিয়ে সমালোচনা আগেই হয়ে আছে। বাংলায় উপস্থাপনের ভালো দিক মনে হয়েছে নেপথ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে বাংলা পত্র-পত্রিকার শিরোনাম, তথ্য, ছবি ইত্যাদির প্রক্ষেপণ। ৯৭ সালের নিউ ইয়র্কের ঘটনা বয়ানকালে নিউ ইয়র্কের সেই সময়ের পত্রিকার শিরোনাম না দেখিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে সম্পর্কিত করা বেশ বুদ্ধিদীপ্ত ও দায়িত্বশীল নাট্যভাবনা মনে হয়েছে। নায়লা আজাদ নুপুরের নির্দেশনায় জেনি চরিত্রের অভিনেত্রীর কোরিওগ্রাফি উঁচু মানের ও নিখুঁত। মার্কস চরিত্রটিকেই বরং একঘেয়ে ও ক্লান্তিকর মনে হয়েছে। পরবর্তী প্রদর্শনী যেখানেই হোক, মার্কস চরিত্রের অভিনয়ে, স্বরপ্রক্ষেপণে ও মেক-আপে বেশ কিছু ঘষামাজা দেখা যাবে আশা করা যায়। ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত