প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: নোংরায় ভরা বাংলাদেশের রাজনীতির অতীতগুলো ভাঙতে পেরেছেন শেখ হাসিনা

দীপক চৌধুরী: সেমিনার, আলোচনাসভা, গণমাধ্যম ও টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা টকশো’তেও প্রায়ই শুনে থাকি – দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। অথচ ফেইসবুকে ও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নিজ নিজ মতামত প্রকাশ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বরং কোনো কোনো ফেসবুক মতামতের নামে কী রকম ভয়ংকর গুজব ছড়ানো হচ্ছে দেশ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তা বলার বাইরে। ‘স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ নেই’ একথাটি কী পরিমান অসত্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইসলামপন্থী, বিএনপি ও সমমনা দলগুলো প্রতিনিয়ত বলে চলছে, ‘দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই।’ বিএনপি নামের রাজনৈতিক দলটি ‘গণতন্ত্র রুদ্ধ’ বলেই আসছে। তারা এখন নির্বাচন কমিশন গঠন করে তাদের ক্ষমতায় বসাতে বলছে! অর্থাৎ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন এমনভাবে তৈরি করবে যা ‘চড়ে’ বিএনপি ক্ষমতায় বসবে! পাগলামির আর কী বাকী বিএনপির? কী রকম গর্দভী চিন্তা। সার্চ কমিটিই নির্বাচন কমিশন গঠন করবে এটা পরিষ্কার।

অতীতে কী ছিল প্রক্রিয়া! সবধরনের গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিএনপি আমলেই নস্যাৎ হয়েছিল। তাদের দলনেতা জিয়াউর রহমান আমলে কী এক ভয়ঙ্কর পদ্ধতিতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ধ্বংস করা হয়ছিল। ক্ষমতার আড়ালে কীভাবে তছনচ করা হয়েছিল ইতিহাস তার সাক্ষী। এ কথাগুলো বলা দরকার এজন্যই যে, বিএনপির এখনকার সার্বিক পতন বলে দিচ্ছে, এটা তো রাজনীতিরই বৈশিষ্ট্য কিংবা চরিত্র। ইতিহাস সত্য আবিষ্কার করে যথাসময়ে।

বাংলাদেশের রাজনীতির অতীত নোংরায় ভরা। ষড়যন্ত্র আর কূটিলতায় আক্রান্ত পথে এখন তাদের একমাত্র চিন্তা যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় চেয়ার দখল করা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসা। অতীতের চক্রান্তরীদের অনেকে আজ দুনিয়ায় নেই। এই বলে তৃপ্ত হওয়ার সুযোগও নেই। এখনো যারা জীবিত তাদের ধারণা ও পরিকল্পনা ‘তোরা যে যা বলিস– ভাই কেবল ক্ষমতায় বসতে চাই।’ কোনোভাবে কী সরকার হটানো সম্ভব– ওদের এই একটি চিন্তা সারাক্ষণ? সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণে এটা প্রমাণিত যে, ষড়যন্ত্রকারীরা এখন মরণকামড় দিয়েছে। অপপ্রচার চালাচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে। দেশে-বিদেশে ‘হাসিনাবিরোধী’ ষড়যন্ত্রের ঐক্য চলছে। ঘটনা পরম্পরায় পরিষ্কার হয়ে উঠেছে, সম্প্রীতি নষ্টের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে নানাঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। সবকিছু বাদদিয়ে এটাই মনে রাখতে হবে, এটা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার। এই আমলে কোনো ক্ষমতাধরকেই অন্যায় করে পার পাওয়ার কথা নয়।

কবি কুসুম কুমারীর বিখ্যাত কবিতা ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে – -’ কবিতাটি আমার ভীষণ পছন্দের। কারণ সময়ে সময়ে, যুগে যুগে আমাদের একটা আফসোস্ ছিলো। তবে এটাও সত্য, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের ঘূর্ণনে জনগণের ইচ্ছায় ও জনগণের ভোটে ক্ষমতায় রয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তাও একবার নয়, চার-চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগে অনেকেই রাষ্ট্র দখল করেছেন, জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক জান্তা, স্বৈরতন্ত্রের হোতারা দেশের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন কিন্তু একটিও গণমুখী কাজ তারা করেননি। জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়া তো একশ্রেণির মানুষের প্রিয় নেতা হয়ে উঠেছিলেন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের দিয়ে রাজনৈতিক দল কুখ্যাত ‘ফ্রিডম পার্টি’ গঠন করান। আর খালেদা জিয়া স্বামী জিয়াউর রহমানের পথ ধরে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই প্রকৃতপক্ষেই নারীজাগরণের কাজটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সবার সামনে আসেন।

জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ আন্তরিক ও হৃদয় দিয়ে মানুষকে মূল্যায়ণ করতে জানেন বলেই আজ নারী ইউএনও, নারী ডিসি, পুলিশ- সেনাবাহিনীতে উচ্চপদস্থ নারী কর্মকর্তা, নারী সচিব এমন কী গুরুত্বপূর্ণ পদেও নারীরা মর্যাদার সঙ্গে কাজ করছেন। নারী চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নারী আনসার কর্মকর্তা, নারী পুলিশ, নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নারী নার্স তৃণমূলে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের মনে এ বিশ^াস কাজ করে যে, শেখ হাসিনাও একজন নারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নারীদের নিয়ে আসেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়নের অগ্রযাত্রা শুরু করেন। তারমধ্যে অন্যতম দৃষ্টান্ত তিনি নারীদের সচিব করেছেন। প্রশাসনে এখন ৯/১০ জন নারী সচিব। এছাড়াও রয়েছেন অনেক অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিব থেকে পরের পদগুলোয় রয়েছেন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে যখন একটি অরাজক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনী ও যুদ্ধাপরাধীদেরকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দিয়েছিলেন, যখন কোনো আইনের শাসন ছিল না- সেই দুর্বিসহ সময়ে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন আলোর দিশারী হয়ে। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেই দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর প্রতিটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করেছেন। ভোট-ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে শত শতবার বাধার মুখে পড়েছেন। তাঁর সমাবেশে গুলি চালানো হয়েছে। হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করেননি। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মানুষের মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু যেমন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন ঠিক তেমনি জাতির পিতার মতো শেখ হাসিনাও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সেই ব্রত নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে এবং খালেদা জিয়ার বিএনপিসহ সমমনা দলের কারসাজিতে সৃষ্ট অগ্রণতন্ত্রেক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়েও তিনি নেতৃত্ব দেন।এককথায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করতেই শেখ হাসিনাকে কষ্টভোগ করতে হয়েছিল।

বাংলাদেশকে বিশে^র মানুষ এখন মর্যাদার চোখে দেখে। এদেশের সকল অর্জনই সম্ভব হয়েছে তাঁর সাহস ও সততার কারণে। সহজ নিরাভরণ জীবন যাপন করেন তিনি। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। দেশের প্রতিটি খাত নিয়ে তার একটা পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা মতো তিনি এগিয়ে চলেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনায় অত্যন্ত মানবিক ও আন্তরিকতা দেখা যায়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাহসী না হলে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচার হতো না, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের মানুষ এখন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে। এসব অজর্নে দেশের মানুষ তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। কৃতিত্বের সম্পূর্ণটা দেশরত্ন শেখ হাসিনার।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

সর্বশেষ