প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. ফেরদৌস খন্দকার: আমরা কি আসলেই সন্তানদের হৃদয় ‘ছুঁয়ে যেতে’ পারছি?

ডা. ফেরদৌস খন্দকার, নিউইয়র্ক : বাবার সঙ্গে এপয়েনমেন্ট, আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করবেন না শাহরুখ খান। বাবা হিসেবে আমি কিছুটা স্বার্থপর বরাবরই। আমার ভালোবাসা আমার আদর,আমার পাওনা সবসময় ছেলেদের থেকে আদায় করেই নিয়েছি। আজ সকালের কথাই বলবো। দুদিন হলো বড় ছেলেকে দেখি না। বাড়িতেই আছে। যখন রাতে বাসায় ফিরি, সাতটা-আটটা হবে, হয় সে কলেজ শেষে জিমে গিয়েছে, নয়তো বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছে অথবা কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারপরও জানি ছেলে দুটো বাড়িতেই আছে। দুদিন দেখিনি বলে মনটা একটু খারাপ ছিলো। সকালে বের হওয়ার সময় ঘুমাচ্ছিলো বড়টা। দরজা নক করে ঢুকে একটু দেখলাম। বড় হয়ে গেছে। একটু ছুঁয়েও দিলাম। কিছুক্ষণ হাত দিয়ে তার ত্বকের স্পর্শ নিলাম।

কতোদিন ‘ছুঁয়ে’ দেখা হয়নি বাবা তোকে। আর ভাবছিলাম শাহরুখ খানের কথা। আমার ছেলেরা সত্যিকার অর্থেই বড় হয়ে যাচ্ছে। একজনের কলেজ প্রায় শেষ। আরেকজন কলেজে ঢুকলো মাত্র। বিদেশে বড় হওয়া প্রায় সব ছাত্ররাই বাড়ি ছেড়ে হোস্টেলে চলে যায়। কিছুটা তাদের স্বপ্নের কারণে, কিছুটা পরিস্থিতির। এই জায়গাটাতেই আমার ভয় ছিলো। ছেলেগুলো বাড়ি ছেড়ে গেলে আমি কীভাবে তাদের ছেড়ে থাকবো। আমার নানামুখী কাজের ব্যস্ততায় সময় হয়তো কেটেই যাবে, কিন্তু মনতো পড়ে থাকবে তাদের কাছে। তাদের বড় হয়ে ওঠাটা কীভাবে দেখবো, কীভাবেইবা তাদের প্রয়োজনে পাশে থাকবো। যাই হোক, শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ানের উক্তিটুকু দেখে খারাপই লাগলো। অবাক হওয়ারই কথা। বাবারা যতোদিন না তাদের সন্তানদের কষ্ট না বুঝবেন ততোদিন এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এটিই বাস্তবতা। বিপদ ঘটার আগে আসুন সন্তানদের পাশে থাকি, তাদের বুঝি।

শাহরুখ খান হয়তো আজ বুঝেছেন তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিনেমা আর করবেন না। তবে বুঝতে মনে হয় একটু দেরিই হয়ে গেলো। আমরা বাবা-মায়েরা মনে করি সন্তানদের পাশেই তো আছি। অর্থ উপার্জন করছি তাদেরই জন্য। খাওয়াচ্ছি, পরাচ্ছি, যখন যেটা লাগছে দিচ্ছি। শাসন করছি। অনেকে বলবেন, ‘সময় দিই যথেষ্ট’। তবে সেটি যেন কোয়ালিটি টাইম হয়। পাশে বসে থাকাই মানে ‘সময়’ দেওয়া নয়। বিপদ আসার আগেই আসুন নিজেকে প্রশ্ন করি। আমরা কি সত্যিকার অর্থেই সময় দিতে পারছি সন্তানদের। ‘ছুঁয়ে’ যেতে পারছি তাদের। এ প্রশ্নের উত্তর যতোদিন না পাবো ততোদিন কিন্তু সত্যিকার ‘ছুঁয়ে’ যাওয়া হবে না। ততোদিন আরিয়ানরা আমাদের দোষ দিতেই থাকবে। আসুন একটু অনুভব করি সন্তানের ত্বকের ছোঁয়া সঙ্গে ভালোবাসার আদান প্রদান আর বুঝতে চেষ্টা করি এই ‘ছুঁয়ে’ যাওয়া অর্থবহ কিনা। ফেসবুক থেকে