প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপু তৌহিদুল: আপনি ভারতের সিরিয়ালের কাঁধে নিজেদের সামাজিক অবক্ষয়জনিত দোষগুলোকে চাপিয়ে কীভাবে পার পাবেন?

দীপু তৌহিদুল: বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো সংসার ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে ভারতের সিরিয়ালকে একক দায়ী করে একের পর এক প্রতিবেদন করেই যাচ্ছে। বিষয়টা আজব মনে হয়েছে, কারণ সংসার ভেঙে যাওয়ার পেছনে বহুবিধ কারণ থাকে, যা নিয়ে দেশের সমাজবিজ্ঞানীদের যথেষ্ট আর্টিকেল প্রিন্ট মিডিয়া অনেক আগেই পাবলিশ করে রেখেছে। স্বামী-স্ত্রীর মনের মিল না হওয়া, বহুগামী আচরণ, পারিবারিক অশান্তি, যৌতুক প্রবণতা, উভয় পক্ষের কারো না কারো অতিরিক্ত ডোমিনেটিং আচরণ সংসার ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ। সামাজিক অনাচার আজকাল আর কোনো গোপনীয় বিষয় নয়, অনাচাররা বাতাসেও ভেসে বেড়াচ্ছে না, তারা এখন রিতিমতো পার্টি করছে। ঢাকার আশপাশের আর টুরিস্ট জোনগুলোতে কী হচ্ছে খবর রাখেন? নিজেরা মৌজ ফুর্তিটা করে ভারতের সিরিয়াল সংসার শেষ করার ধোঁয়া তুলবেন! এটা মেনে নেওয়া যায় না।

বাংলাদেশের নারী-পুরুষরা কোন আমলে সাধু চরিত্রের ছিলো? যে খারাপ ও বদ, সে সময়ই তা ছিলো আর থাকবেও তাই। আপনি ভারতের সিরিয়ালের কাঁধে নিজেদের সামাজিক অবক্ষয়জনিত দোষগুলোকে চাপিয়ে কীভাবে পার পাবেন? ভারতের সিরিয়াল প্রচারের আগে কী এই দেশে সংসার ভাঙেনি? এতে নতুন কী আছে বুঝতে অক্ষম হচ্ছি। এক হিসেবে ভারতের সিরিয়ালকে সাপোর্ট করি, কারণ ওইসব সিরিয়াল দেখে দেখে আজকালকার ছেলেমেয়েরা অত্যাচার খুব বেশি সময় ধরে সয় না। যেকোনো একটা পক্ষ বেঁকে বসে সংসার ভেঙে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে, তাদের কেউ কেউ ফের বিয়ে করে কিংবা একা থেকে যায়। আপনি কাউকে অশান্তি ও অত্যাচার সহ্য করে করে সংসার জীবন ধরে রাখতে জোর করতে বলতে পারেন না। যে ব্যক্তিগত জীবনে ঝামেলা পোহায় সেই-ই একমাত্র বুঝে তার কী হচ্ছে। সমস্যা যার তাকে বুঝতে দেওয়া উচিত।কিন্তু বাংলাদেশের চ্যানেল মিডিয়া মধ্যযুগীয় বর্বরতার প্র্যাকটিস হিসেবে নাগরিকদের বোঝাচ্ছে ‘যাই-ই ঘটুক সংসার ভাঙা যাবে না।’ এই আলগা মাতব্বরিটাকেই চরম অপছন্দ করছি।

আমাকে বলেন মিডিয়ার লোকজন বছর বছর নিজেদের বিয়ে ভাঙে আবার করে কেন? চ্যানেল মিডিয়ার লোকজন নিজেরা যা যা করবে, নাগরিকরা যদি একই কাজ করে, তাহলে কাকে দোষ দেবেন? সম্পর্ক লাশ হয়ে গেলে সেই সম্পর্ক দ্রæত দাফন করতে হয়, না হলে দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলে যেভাবে দেশের মানুষের চরিত্র নানাভাবে হনন করেছে, সেটাকে পাশ কাটাবেন কী করে ? আয়নার সামনে নিজেকে দাঁড় করে বলুন মিছা কথা বলছি। কতো চরিত্রবান নারী-পুরুষ এই জীবনে দেখে ফেললাম তার ইয়ত্তা নেই। এখন এই বদগুলোই আসছে সংসার ভাঙাগড়ার হিসাবটা নতুন করে শেখাতে, চড়িয়ে তাদের গালের দাঁত খুলে ফেলা উচিত। মুখ খারাপ হুজুর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত