প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নতুন আরও পাঁচটি বিদ্যুৎ ইউনিট স্থাপন: বিদ্যুতের মেগাসিটি হতে যাচ্ছে আশুগঞ্জ

গোলাম সারোয়ার :দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড এর অধীনে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরো নতুন পাঁচটি ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার।

এই ইউনিট গুলো থেকে ৩০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।ইতোমধ্যে নতুন ইউনিট গুলো স্থাপনের জন্য মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে।

সবগুলো ইউনিট চালু হলে পাওয়ার স্টেশন থেকে দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।যা দিয়ে দেশের মোট চাহিদার প্রায় ১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে এবং দেশের বিদ্যুতের মেগাসিটি হবে আশুগঞ্জ।

১৯৭০ সালে ৬৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট দিয়ে মোট ১২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্য দিয়ে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড যাত্রা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে এখন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছোট-বড় আটটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১৬৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের নিজস্ব আটটি ইউনিট ছাড়াও নতুন ৪শ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিসিপিপি ইস্ট নামে আরো একটি ইউনিট নির্মিত হচ্ছে।

২০২২ সালের মে মাসে এ ইউনিটি উৎপাদনে আসবে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে চারটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৩৫০ মেগাওয়াট।সরকারি-বেসরকারি সব মিলিয়ে ১২ টি ইউনিট থেকে উৎপাদিত ২ হাজার ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যোগ হচ্ছে।নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়েছে।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক(পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী ক্ষিতিশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান,আশুগঞ্জ হাবের ভিতরে পাঁচটি ইউনিট কনস্ট্রাকশনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমাদের যে পুরাতন ইউনিটগুলো রয়েছে সেখানে ২টি ৬০০ মেগাওয়াটের ইউনিট বসবে। আর বি -টাইপের পুরাতন ভবনগুলো ভেঙে সেখানে ৬শ ইউনিটের ৩ টি প্রকল্প প্রতিস্থাপন করবো।এবং আমাদের লোকদের থাকার জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করবো।আমরা কনসালটেন্ট নিয়োগ করব, তারা আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করবে।

আগামি ২ বছর পর ৬শ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্পের কাজ হাতে নিতে পারবো। এছাড়াও পটুয়াখালীতে ১হাজার স্কয়ার ফিটের জায়গা একোয়ার করা হচ্ছে।সেখানে এলএসজি গ্যাস কম্বাইন্ড সাইকেলের পরিকল্পনা করবো।বর্তমানে ৪২০ মেগাওয়াটের নির্মাণাধীন প্লান্টের কাজ শতকরা ৮২ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।আশা করি এ প্লান্ট আগামি বছরের মে মাসে উৎপাদনে যাবে।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এএমএম সাজ্জাদুর রহমান জানান, ১৯৭০ সালে জুন-জুলাই মাসে ৬৪ মেগাওয়াট করে ২টি ইউনিটের ১২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে এ কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ উৎপাদন দাঁড়ায় ৭২৮ মেগাওয়াটে।২০০৩ সালে কোম্পানির কার্যক্রম শুরু হয়।কোম্পানির আওতায় ২০১১ সালে ৫০ মেগাওয়াট গ্যাস ইঞ্জিন চালু করি।তারপর পর্যায়ক্রমে ২৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, ৪৫০ মেগাওয়াট সাউথ, ৪৫০ মেগাওয়াট নর্থ,২০০ মেগাওয়াট মডিউলার চালু করি।

বর্তমানে আমাদের ক্যাপাসিটি ১৬৯০ মেগাওয়াট। ইতোমধ্যে আমাদের ১,২,৩,৪,৫ সবকটির সার্ভিস লাইটের মেয়াদ শেষ।সেগুলো ভেঙ্গে সে জায়গায় ৬শ মেগাওয়াট করে ২টি ইউনিট নির্মাণ করবো।তাছাড়া বি টাইপের পুরাতন ভবনগুলো ভেঙ্গে সেখানে ৬শ ইউনিটের ৩টি প্রকল্প প্রতিস্থাপন করবো।বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসলে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে।পাশাপাশি বহু লোকের কর্মসংস্থান হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসবে।

গ্যাসভিত্তিক এই ৫টি নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইউনিট নির্মাণ করতে ব্যয় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেডের উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রি করে বছরে ২৩ হাজার ৬৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে।আর ইউনিটগুলো চালু হলে দেশের চলমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিমিটেড।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত