প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: জঙ্গিবাদী সহিংসতার চিন্তাভিত্তিসাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ

খান আসাদ: ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার কীভাবে নিজ দেশের মানুষের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে হতে পারে তা ১৯৭১ সালে আমরা দেখেছি। ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার কীভাবে নিজ জাতির নারীদের বিদেশি সৈন্যের হাতে তুলে দিতে পারে, সেটাও আমরা ১৯৭১ সালে দেখেছি। কীভাবে একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয় (১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১) আমরা দেখেছি। রাজাকার আলবদর যারা ছিলো, তাদের একটি রাজনীতি ছিলো, একটি বিশ্বাস ছিলো, সেটি ধর্মীয় (ইসলাম) রাজনীতি। আজ যারা নানা রকম ইসলামী রাজনীতি করছে, তারাও ওই একই রাজনৈতিক ধারার, মতাদর্শের। ধর্মকে ধর্মের অবস্থান থেকে বাইরে এনে, ধর্ম শুধু ধর্ম নয় তা হচ্ছে ‘জীবনবিধান’, ‘সংস্কৃতি’, ‘সভ্যতা’ ও ‘ভাষিক ঐতিহ্য’, ইত্যাদি নাম দিয়ে যা বানানো হয়, তা হচ্ছে একধরনের ‘আত্মপরিচয়’ ও ‘রাজনীতি’। যা আসলে সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মজীবী শ্রেণির স্বার্থে। এই সমস্যার কারণে অনেকে ‘ধর্ম’ শব্দটি আর ব্যবহার করতে চান না, বলেন ‘স্পিরিচুয়ালিটি’ বা ‘আধ্যাত্মিকতা’।

স্পষ্ট করার জন্য যে ‘আধ্যাত্মিকতা’ কোনো ‘আত্মপরিচয়’ বা ‘রাজনীতি’ নয়। তারা ‘ধর্মকে’ ‘আধ্যাত্মিকতা’ নাম দিয়ে সহিংস-রাজনীতি থেকে আলাদা রাখতে চান। এই উপমহাদেশে ধর্মীয় আত্মপরিচয়ের সহিংস রাজনীতির সূচনা দ্বিজাতি তত্তে¡। এরপর আমরা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ সবকিছুই দেখি ধর্মের নামে। সাম্প্রদায়িকতা মানে একমাত্র আত্মপরিচয় নির্ধারণ করা হয় ধর্ম দিয়ে এবং একই সঙ্গে ঘৃণা করা হয় অন্য ধর্মের মানুষকে। যেমন হিন্দু বা মুসলমানই একমাত্র আত্মপরিচয়। তারা আগে ‘মানুষ’ নয়, আগে ‘দক্ষিণ এশীয়’ নয়, আগে ‘বাঙালি’ বা ‘গুজরাটি’ নয়, আগে ‘কৃষক’ বা ‘শ্রমিক’ নয়, আগে ‘উদারনীতিক’ বা ‘সাম্যবাদী’ নয়, সবার আগে ‘হিন্দু’ বা ‘মুসলমান’। এই ধর্ম-আত্মপরিচয় যা দেয়, তা শ্রেষ্ঠত্ববোধের বিভক্তি ও অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি ঘৃণা। নিজ ধর্মসম্প্রদায়কে ‘সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ’ কিংবা ‘পৌরাণিক ও আদিসভ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি সাদা শ্রেষ্ঠত্ববাদ, পুরুষশ্রেষ্ঠত্ববাদ, জাতপাত শ্রেষ্ঠত্ববাদের মতো একটি মতাদর্শ। ভিন্ন ভিন্ন সাম্প্রদায়িক চেহারা কিন্তু একই সাম্প্রদায়িক চেতনা ও রাজনীতি। রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসেবে ফ্যাসিবাদ। সাম্প্রদায়িকতা শেষ হয় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদে। এই ‘অপরকে ঘৃণা’ ব্যবহার করে ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসে।

বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতার জন্য জামায়াতের সঙ্গে জোট করে। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপোস করে, কোথাও পৃষ্ঠপোষকতা করা। এই সাম্প্রদায়িক বোধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাদ্রাসা শিক্ষাকে বৈধতা দেয়। শিল্পী আরবি ক্যলিগ্রাফি দিয়ে পেইন্টিং বানিয়ে বাজার খোঁজে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা যেমন আছে, তেমনই বাংলাদেশে সেক্যুলার জাতীয়তাবাদের আত্মপরিচয়ের রাজনীতিও আছে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ যেমন আছে অন্যান্য আদিবাসী (সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ইত্যাদি) সেক্যুলার জাতীয় চেতনার বাস্তবতাও আছে। ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ এর সংবিধান প্রণয়ন পর্যন্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী রাজনীতি ক্রমঅগ্রসরমান ছিলো, যার প্রভাব এখন অবশিষ্ট আছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী রাজনীতির চিন্তাভিত্তি প্রধানত সাম্প্রদায়িকতা। শুধু সামরিক পন্থায় জঙ্গিবাদ নির্মূল করা যায় না। এজন্য জঙ্গিবাদের মতাদর্শভিত্তি সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ নিয়ে কাজ দরকার। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী বুদ্ধিবৃত্তিক কিংবা সাংস্কৃতিক বিকাশের অবস্থা কী? সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে কী আছে, প্রগতিশীল মানুষদের চিন্তায়? যে শব্দটি বহুল প্রচারিত, তা হচ্ছে ‘অসাম্প্রদায়িকতা’। ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ আসলে কী? উত্তর হচ্ছে ‘যা সাম্প্রদায়িক নয়’। কী সেই চিন্তা বা আদর্শ যা সাম্প্রদায়িক নয়? ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ কী? এর উত্তর কী আমাদের কাছে আছে? থাকলেও কী তা যথেষ্ট পরিষ্কার? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত