প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডলারের রেকর্ড দামে উদ্বেগ

নিউজ ডেস্ক: খোলাবাজার বা কাব মার্কেটে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম বৃহস্পতিবার ছিল ৮৯ টাকা ২০ পয়সা; যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড হিসেবে দাবি করছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার প্রতি ডলারের ক্রয় ও বিক্রয় দাম ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। সংকট সামাল দিতে প্রতিদিনই ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এদিকে ডলারের রেকর্ড দামে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে হুন্ডি কমছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে দেশে এখন মার্কিন ডলারের দাম সর্বোচ্চ। অর্থ পাচার ও আমদানি বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার দাম বাড়ে। করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় দেশে আমদানি বাড়ছে। আবার অর্থ পাচারও বাড়ছে। কিন্তু রপ্তানির গতি কমেছে। রেমিট্যান্সও কম আসছে। ফলে ডলারের দাম বাড়ছেই। এখন ডলারের দাম কমাতে হলে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানি কমাতে হবে। দেশে পরোটাও আমদানি হয়! এটা মেনে নেওয়া যায় না।’

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সম্ভবত হুন্ডির কারণে দাম বাড়ছে। ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ব্যবসায়ীদের আমদানি খরচ বাড়বে। যার প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর পড়বে। করোনাকালে দ্রব্যমূল্য বাড়লে বিপাকে পড়বে সাধারণ মানুষ। তাই ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ জরুরি।’
এ প্রসঙ্গে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোস্তফা খান বলেন, ‘দেশে এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে মার্কিন ডলারের দাম। কাব মার্কেটে এখন প্রতি মার্কিন ডলার ৮৯ টাকা ২০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যাংকগুলোয় দাম কিছুটা কম।’ ডলারের দাম বাড়ার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে প্রবাসীদের যাতায়াত কমেছে। এখন আসতে পারছেন না।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া পরিসখ্যান বলছে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাসজুড়ে প্রতি মার্কিন ডলারের ক্রয়-বিক্রয় দাম ৮৫ টাকার ওপরে ছিল। এ সময়ে ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য যেখানে ৮৫ টাকা ১৫ পয়সা ছিল, সেখানে ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। আবার ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারের বিক্রয় দাম যেখানে ৮৫ টাকা ২০ পয়সা ছিল, সেখানে ৩০ সেপ্টেম্বর ছিল ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী পুরো সেপ্টেম্বরে ডলারের ক্রয়-বিক্রয় মূল্যে ৩০ থেকে ৩৫ পয়সার ব্যবধান থাকলেও বাস্তবে এ চিত্র ভিন্ন বলে মনে করনে সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে রেমিটার ও রপ্তানিকারকরা লাভবান হন। আর ক্ষতিগ্রস্ত হন আমদানিকারক ও সাধারণ মানুষ। কারণ ডলারের দাম বাড়লে পণ্যমূল্যও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রপ্তানি আয়ে ধীরগতি ও রেমিট্যান্স প্রবাহের নিম্নমুখিতার মধ্যে আমদানিতে গতি আসায় অনেক ব্যাংকে দেখা দিয়েছে ডলারের সংকট। ফলে কিছুদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ডলারের দাম।

জানা গেছে, আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবে খোলাবাজারে চড়েছে ডলারের দাম। খোলাবাজারে প্রতি ডলার কিনতে এখন খরচ হচ্ছে ৮৯ টাকা ২০ পয়সা। করোনার মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে একই জায়গায় স্থির ছিল ডলারের দর। ৫ আগস্ট টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। এখন প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ৫ আগস্ট আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলার ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি হয়। বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ৮৫ টাকা ৫০ পয়সায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলামের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ায় এখন আমদানি বেশ বাড়ছে। আবার বিলম্বে পরিশোধ শর্তে যেসব পণ্য আমদানি করা হয়েছিল সেগুলোর এখন পেমেন্ট করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। এতে দামও বাড়ছে। তবে সংকট সামাল দিতে বাজারে প্রয়োজনীয় ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে- বাজার স্থিতিশীল করতে ডলার বিক্রি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। প্রতিদিনই ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর আগে আগস্টে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি হয়। চলতি অর্থবছরের ১ জালাই থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।

মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনাকালে বিদেশি পর্যটক ও যাত্রীদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় খোলাবাজারে নগদ ডলারের সরবরাহ দীর্ঘদিন ধরেই কম। এখন লকডাউন উঠে যাওয়ায় বিদেশি পর্যটক ও যাত্রীদের আসা-যাওয়া কিছুটা শুরু হয়েছে। আবার চিকিৎসাসহ একান্ত প্রয়োজনে অনেকেই দেশের বাইরে যাওয়া শুরু করেছেন। তারা খোলাবাজার থেকেই নগদ ডলার কিনছেন। এতে খোলাবাজারে ব্যাপক চড়েছে ডলারের দাম। বৃহস্পতিবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৮৯ টাকা ২০ পয়সা। এর মানে এখন খোলাবাজারের সঙ্গে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারের দামের পার্থক্য সাড়ে ৩ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে এ পার্থক্য থাকে দেড় থেকে ২ টাকার মধ্যে। সরবরাহের চেয়ে চাহিদা বেশি থাকায় খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়ছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

সর্বাধিক পঠিত