শিরোনাম
◈ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার ◈ শিক্ষার্থী আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স, বন্ধ ৪ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ◈ বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ময়মনসিংহে নিহত ৭ ◈ বিমানবন্দরে তর্ক-বিতর্ক : মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা ◈ গয়না থেকে স্মার্টফোন-মহাকাশযান, খাবারেও ব্যবহার হয় সোনা—জেনে নিন স্বর্ণের যত ব্যবহার ◈ সরকারের অজানা শত্রু কারা: ক্ষমতা বদলের পর আমলাতান্ত্রিক অন্তর্ঘাতের ঝুঁকি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ◈ ভিসা সহায়তা দিতে ঢাকায় আসছে রোমানিয়ার টিম  ◈ মক্কার পর এবার মদিনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথি, দাবি সৌদির ◈ বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তিন তরুণীর নেপালযাত্রায় বাধা, নেপথ্যে কী? যা জানাগেল ◈ শিল্পের আকার ও রফতানি সক্ষমতা বাড়লেও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০১ অক্টোবর, ২০২১, ০২:১৭ রাত
আপডেট : ০১ অক্টোবর, ২০২১, ০২:২৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আলী রীয়াজ: রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যার কারণ বোঝা দরকার

আলী রীয়াজ: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নেতা মহিবুল্লাহর হত্যা একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। যদিও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহিংসতার ঘটনা আগেও ঘটেছে, কিন্তু শরণার্থীদের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে আসীন কোনো ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা খুব স্বাভাবিক ঘটনা নয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে মোহাম্মদ ইউসুফের হত্যাকাণ্ডের পরে এ ধরনের বড় ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হয় না। হেড মাঝি আরিফ উল্লাহকে হত্যা করা হয়েছিলো ওই বছরের জুলাই মাসে। ২০১৯ সালে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে হত্যার ঘটনার পরে যেসব রোহিঙ্গা তরুণ পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন তাদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের একজন নেতা নূর মোহাম্মদ ছিলেন। শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মধ্যে মহিবুল্লাহর প্রভাব ছিলো ব্যাপক, তিনি বহুল আলোচিতও বটে। ২০১৯ সালে হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও সাক্ষাতের কারণে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন, অনেকে তার সমালোচনাও করেছেন। মহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস-এর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিশাল সমাবেশের সংগঠক হিসেবে মহিবুল্লাহ বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে কয়েক লাখ শরণার্থীর উপস্থিতি নিয়ে কোনো কোনো মহলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিলো। সে সময়ে এই ধরনের সমাবেশের ব্যাপার সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘রোহিঙ্গারা আমাদের ‘রেড সিগন্যাল’ দেখিয়েছে’ কালের কণ্ঠ, ২৯ আগস্ট ২০১৯। কোনো কোনো মহল থেকে সাম্প্রতিককালে বলা হচ্ছিলো যে,রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি আরসা’র উপস্থিতি আছে। সম্প্রতি ক্যাম্পে আরসার সদস্যদের উপস্থিতি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো ‘সালিম সামাদ, ঢাকা ট্রিবিউন, ১৭ আগস্ট ২০২১’। এই কারণে পুলিশের অভিযান চালানো হয়েছিলো। যদিও ২০২০ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো যে ক্যাম্পে আরসার উপস্থিতি নেই ‘ঢাকা ট্রিবিউন,১৮ আগস্ট ২০২০’। এখন মহিবুল্লাহ’র হত্যাকাণ্ডের পর কেউ কেউ পরোক্ষভাবে আরসার দিকে ইংগিত করছেন। কিন্তু এই ইংগিত অন্যকিছুর ইংগিত কীনা সেটা বিবেচনায় রাখা দরকার।

এই হত্যাকাণ্ড কেবল ক্যাম্পের নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত নয়, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেক বেশি। এর প্রতিক্রিয়া হবে বিভিন্ন ধরনের। এতে করে রোহিঙ্গাদের স্বার্থ ককোটা ক্ষুণ্ন হবে, রোহিঙ্গাদের ভেতরকার শক্তিগুলোর কী ধরনের বিন্যাস ঘটবে এটা যেমন বিবেচ্য তেমনি বিবেচ্য হচ্ছে এই ঘটনার আগে-পরে রোহিঙ্গাদের বাইরের কোনো শক্তি কী ধরনের আচরণ করছে। মহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা জরুরি। অপরাধীদের শাস্তি প্রাপ্য। তাদের খুঁজে বের করা দরকার এই কারণেও যে, এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বোঝা দরকার, এর ব্যপ্তিও বোঝা জরুরি। হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য কী সেটা আগামীতে কী ঘটতে পারে তার ইংগিত দেবে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে যা ক্যাম্পগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ