প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যে কারণে রেগে গিয়ে মন্ত্রীত্ব ছাড়তে চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী !

আখিরুজ্জামান সোহান: [২] পদত্যাগ করতে চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।  ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিকার বাংলাদেশ আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সভাপতি সুবল সরকার একটি প্রশ্ন করলে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করতে চান খাদ্যমন্ত্রী।

[৩] জানা গেছে, ওই ওয়েবিনারে কয়েকজন বক্তা চালের দাম বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে অটো রাইস মিলগুলোর ভূমিকাকে দায়ী করেন। যেখানে বাজারে অদৃশ্য শক্তির ভূমিকা নিয়েও কথা ওঠে। এ সময় বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সভাপতি সুবল সরকার বলে ওঠেন, ‘মন্ত্রী নিজেই তো অটো রাইস মিলের মালিক।’

[৪] সুবল সরকার ওই অভিযোগ তোলার পর মন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘এটা কে বলেছেন, দয়া করে সামনে এসে বলেন। ফ্রন্টে এসে বলেন।’ এ সময় আয়োজকদের পক্ষে সঞ্চালক খাদ্য অধিকার বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী এ ধরনের কথা এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় বলে মন্তব্য করেন।

[৫] তখন খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ কথা যে বলেছে, তাকে সামনে আসতে হবে। প্রমাণ দিতে হবে। এই কথা পুরো অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করেছে। আমার মনে হয়, সভা থেকে প্রস্থান করা উচিত। এই কলঙ্ক নেওয়ার চেয়ে আমার পদত্যাগ করা ভালো। আপনারা চাইলে আমি আজই পদত্যাগ করতে পারি।’

[৬] এ সময় মহসীন আলী ও সভার সভাপতি কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ সুবল সরকারকে ক্ষমা চাইতে বলেন। সুবল সরকার তখন তার ক্যামেরা চালু করে বলেন, ‘আমি বলেছি, মন্ত্রী নওগাঁর লোক। তার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ধান-চাল হয়। সেখানেই সবচেয়ে বেশি চাল মজুত হয়। তার এলাকায় সবচেয়ে বেশি চালকল। তাই এই কথা বলেছি। মন্ত্রী আমার কথায় মন খারাপ করলে আমি ক্ষমা চাচ্ছি।’

[৭] কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ বক্তব্য প্রদানকারী সুবল সরকারকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন উল্লেখ করে বলেন, ‘ওনাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য কাজ করছেন। উনি হয়তো ভুলবশত এই কথা বলেছেন। মন্ত্রীর কাছে উনি ক্ষমা চেয়েছেন। মাননীয় মন্ত্রী, আপনি ওনাকে ক্ষমা করে দেবেন, আশা করি।’

[৮] এরপর খাদ্যমন্ত্রী শান্ত হন। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘আমার এলাকায় সবচেয়ে বেশি চালকল, এটা ঠিক নয়। দিনাজপুর, বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি চালকল। আর আমি কৃষক। আমার পরিবারের সবাই কৃষক। তবে আমি প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েছি। বলা হয়েছে, আমাদের সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাব আছে। এটা ঠিক নয়। আমাদের মধ্যে কোনো সমন্বয়ের অভাব নেই। তবে এটা স্বীকার করতে হবে, কিছুটা তথ্যবিভ্রাট আছে। মন্ত্রী হিসেবে আমাকে স্বীকার করতে হবে।’

[৯] খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রায়ই সাংবাদিকেরা আমাকে প্রশ্ন করেন, চালের দাম বাড়ল কেন। তাদের জন্য আমি বলতে চাই, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চালের কোনো আমদানি শুল্ক ছিল না। ফলে চালের দাম কম ছিল। আমরা ২০১৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ৬২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করি। তখন কথা উঠল, চাল রপ্তানি করতে হবে। দরকার হলে ব্যবসায়ীদের ভর্তুকি দিয়ে রপ্তানি করতে হবে। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে রপ্তানি বন্ধ করেছি।’

[১০] এসময় খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের সততার অভাব রয়েছে। তাদের মধ্যে মানবতার চেয়ে লাভের প্রতি বেশি লোভ রয়েছে। বাজার তদারকি করতে হলে মূল্য কমিশন করতে হবে। তাদের মধ্যে চালের বাজারদর নির্ধারণ করা উচিত। মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় হতে হবে। সততা ও নিষ্ঠার মধ্যে থেকে নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে আমি কাজ করছি। আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের বিষয়গুলো দেখবে, আশা করি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত