প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিএসএমএমইউতে বিশ্ব প্রবীণ দিবসকে সামনে রেখে ৩টি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ

শাহীন খন্দকার: [২] বিশ্ব প্রবীণ দিবস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ পরিচালিত বাংলাদেশে প্রবীণদের অপুষ্টির কারণসমূহ,বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের প্রবীণদের বাত ব্যথার ব্যাপকতা এবং নিরাময় অযোগ্য রোগীদের জন্য হোম বেসড প্যালিয়েটিভ কেয়ার, বাংলাদেশে সম্ভাবনা এই ৩টি গবেষণার ফলাফল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাশা অনুযায়ী বর্তমান প্রশাসন গবেষণা কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

[৩] বিএসএমএমইউতে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা কর্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুরষ্কৃত করা হবে। তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত সময়োপযোগী তিনটি গবেষণা কর্ম সম্পন্ন করার জন্য পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান।

[৪] এই অনুষ্ঠানে প্রধান গবেষক ডা. কে এম তৌহিদুর রহমান ও তত্ত্বাবধায়ক গবেষক ডা. মো. খালেকুজ্জামান সম্পন্নকৃত গবেষণা বাংলাদেশে প্রবীণদের অপুষ্টির কারণ সর্ম্পকে বলেন, সারা বিশ্বেই অনান্যদের তুলনায় প্রবীণদের বয়স মধ্যে অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বেশি।

[৫] গবেষকগণ আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা আনুমানিক ১দশমিক ৫ কোটি। ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সালে সংখ্যাটি ৩ধশমিক ৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। ১২৫ জন প্রবীণকে নিয়ে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশের এক চতুর্থাংশ প্রবীণ অপুষ্টিতে ভুগছেন এবং অর্ধেকেরও বেশি পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। পুরুষের (২২ শতাংশ) তুলনায় নারীদের (২৮ দশমিক ৮ শতাংশ) মধ্যে অপুষ্টির হার বেশি। জীবনসঙ্গীবিহীন (বিধবা, বিপত্নীক, অবিবাহিত) প্রবীণদের মাঝে অপুষ্টির হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ ও পুষ্টিহীনতার ঝুঁকির হার ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রবীণদের অপুষ্টির জন্য চিহ্নিত প্রধান কারণসমূহ হচ্ছে-বিষন্নতা, মুখ ও দাঁতের খারাপ স্বাস্থ্য, বিশেষ খাদ্য পরিহারের অভ্যাস এবং অসংক্রামক রোগের উপস্থিতি।

[৬] গবেষক ডা. তৌহিদুর রহমান আরো বলেন বিষন্নতায় ভোগা প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবীণ অপুষ্টিতে ভুগছেন। স্বাভাবিকের তুলনায় বিষন্নতায় ভোগা প্রবীণদের অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা ১৫ দশমিক ৬ গুণ বেশি। যেসব প্রবীণদের মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ, তাদের প্রায় এক তৃতীংাংশ অপুষ্টিতে ভুগছেন। মুখ ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য থাকা প্রবীণদের তুলনায় মুখ ও দাঁতের খারাপ স্বাস্থ্যযুক্ত প্রবীণদের অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভবনা ৭ দশমিক ৩ গুণ বেশি। মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, এবং ডিম জাতীয় খাবার পরিহার করা প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টি এবং পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি, দুটোই বেশি। স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতপ্রস্ত প্রবীণদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেশি।

[৭] এই গবেষণায় সুপারিশসমূহ হলো প্রবীণদের অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টি বিষয়ক সুনিদিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করা, যেখানে নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রবীণদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাদের মানসিক ও মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে জোর দিতে হবে। প্রবীণদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে তাঁদের সঠিক খাদ্যভাস নিশ্চিত করতে হবে।

[৮] প্রধান গবেষক ডা. মঈনুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের প্রবীণদের জন্য বাত ব্যথা একটি অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রবীণদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বাত ব্যথার ব্যাপকতা নির্ণয়ের পাশাপাশি যথোপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামাঞ্চলে বসবাস করা ৩৮০ জন প্রবীণকে নিয়ে এই গবেণাটি করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, ৫২ শতাংশ প্রবীণ বাত ব্যথার ভুগছেন, যাঁদের অর্ধেকেরও বেশি মাঝারি মাত্রায় শারীরিকভাবে অক্ষম, পুরুষদের (৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ) তুলনায় নারীদের (৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ) মধ্যে সমস্যাটি বেশি পাওয়া গেছে। বাত-ব্যথায় ভোগা প্রবীণদের মধ্যে কোমর ব্যথা (৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ) এবং হাঁটুতে ব্যথার (৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ) সমস্যা বেশি দেখা গেছে। বাত-ব্যথায় ভোগা প্রবীণদের মধ্যে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং ফ্রোজেন শোল্ডারে ভোগার হার হলো যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।