প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সামান্য বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয় কুমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে !

শাহাজাদা এমরান: [২] সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলমান রয়েছে। সমপ্রতি জলাবদ্ধতা নিরসনে হাসপাতাল উঁচু করার কাজ হাতে নেওয়া হলেও ধীরগতির কারণে রোগী ও রোগীর স্বজনদের দুর্ভোগ কমছে না। পাশাপাশি হাসপাতালে সেবা দিতে আসা ডাক্তার-নার্সসহ অন্যান্য কর্মীরাও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ছেন। সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিন গিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।

[৩] হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আঙিনার একটি অংশে কংক্রিট ফেলা হয়েছে। অন্য অংশ প্লাবিত। মানুষ কাদাজল মাড়িয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করছে। মরদেহ ও মুমূর্ষু রোগীকেও কাদাজলের ওপর দিয়ে হাসপাতালে আনা-নেওয়া হচ্ছে। বহির্বিভাগ, যেখানে মানুষের স্রোত থাকে, এর সামনের অংশ বছরের সিংহভাগ সময় জলাবদ্ধ থাকে।

[৪] সূত্র জানায়, হাসপাতালটি কুমিল্লা সদরের কুচাইতলি এলাকার পশ্চিমাংশে অবস্থিত। ওই এলাকার পূর্বাংশ পশ্চিমাংশ থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু। বৃষ্টি হলে পূর্বাংশের সব পানি জমা হয় পশ্চিমাংশে। তাছাড়া হাসপাতালে প্রবেশপথের মূল রাস্তাটিও অনেক উঁচু। যার কারণে হাসপাতাল আঙিনা সহজে প্লাবিত হয়ে যায়। এদিকে হাসপাতাল আঙিনায় ব্যাপক পানি ঢুকলেও তা বের হওয়ার জায়গা নেই। পানি সহজে বের হতে না পারায় শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধতা থাকে হাসপাতালটিতে। সারা বছরে প্রায় ৯মাস জলাবদ্ধ থেকে হাসপাতাল আঙিনা।

[৪] এতে করে চিকিৎসা নিতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালের বাইরের দুর্গন্ধযুক্ত পানি গায়ে মেখে উল্টো হাসপাতালের ভেতরের অংশকে স্যাঁতসেঁতে করে তুলছেন তারা।
হাসপাতালে এমআরআই করাতে নাঙ্গলকোট থেকে আসা আলী আক্কাছ নামে এক ব্যক্তি জানান, ভালো সেবার আশায় এখানে এসেছি। এমআরআই করানোর কক্ষটা ভালোই, কিন্তু বাইরের পরিবেশ একেবারে বাজে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক ডাক্তার বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জলাবদ্ধতার সমস্যাটি বেশ পুরনো। সিটি করপোরেশনের সাথে সমন্বয় করে কার্যকরী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। চারদিকে অগোছালো ইট-কংক্রিট ফেলে বরং হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার।

[৫] হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন জানান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আঙিনা উঁচুকরণের কাজ পেয়েছে কুমিল্লা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কার্যালয়। কিন্তু কাজের গতি যথেষ্ট ধীর হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। আমরা তাদের সাথে বসবো। দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করার জন্য তাদের পরামর্শ দেওয়া হবে।

[৬] গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল আঙিনা উঁচুকরণের কাজ শেষ হবে। পানি সরার লাইন সিটি করপোরেশনের ড্রেনের সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত