প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার রক্ষায় মালালার আকুতি

ডেস্ক রিপোর্ট: স্কুল থেকে ফেরার পথে ২০১২ সালে তালেবানের গুলিতে বিদ্ধ হওয়া পাকিস্তানের নারী শিক্ষা অধিকারকর্মী এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই আফগানিস্তানের মেয়েদের শিক্ষা ও নারী অধিকার সুরক্ষায় কোনও ধরনের আপোষ না করতে বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আফগান মেয়েদের শিক্ষাবিষয়ক একটি প্যানেলের আলোচনায় অংশ নিয়ে ওই আহ্বান জানান তিনি। ঢাকা পোস্ট

আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী তালেবানের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা কাজ করার প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ায় ২৪ বছর বয়সী মালালা ইউসুফজাই বলেন, ২০ বছর আগে ক্ষমতায় থাকার সময় তালেবানরা যে ধরনের কাজ করেছে, এখনও একই কাজ করতে পারে বলে তিনি উদ্বিগ্ন। যদিও সেই সময়ের পর থেকে দেশটিতে নারীদের কাজ এবং শিক্ষার সুযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অধিকার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষায় আপোষ করতে পারি না। আফগান নারীদের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিতে এবং অঙ্গীকার রক্ষার সময় এসেছে এখন। এবং সেসব গুরুত্বপূর্ণ অধিকারের একটি হলো শিক্ষার অধিকার।’

চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে আফগান নারী এবং তরুণীদের অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকার করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা। কিন্তু তারা সেটি কীভাবে করবেন তা এখনও পরিষ্কার নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১‌১ সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোটের অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ২০ বছর পর গত আগস্টে তালেবান ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসায় দেশটিতে নারীদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

তালেবান বলেছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসনের পর থেকে তারা পাল্টে গেছেন। ওই সময় আফগান নারীরা পরিবারের কোনও পুরুষ সদস্য ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হতে পারতেন না। গত সপ্তাহে উচ্চ-মাধ্যমিক স্কুল ছাত্রদের জন্য খুলে দিলেও এখনও মেয়েদের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি তালেবান। যে কারণে এবারে তালেবান দেশটির নারীদের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল হবেন, সেটি নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, তালেবান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা করতে পারে একমাত্র আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন এবং নারীদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার মাধ্যমে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যারা আফগান নারী ও মেয়েদের দুর্দশার বিষয়ে কথা বলেছেন; তাদের মধ্যে আছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ।