প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অবশেষে চাকরিচ্যুত হলেন সেই বিতর্কিত এসআই লাভলী ফেরদৌসী

আয়াছ রনি: [২] অবশেষে চাকরিচ্যুত হলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজার থেকে ফেনিতে বদলী হওয়া বিতর্কিত এসআই লাভলী ফেরদৌসী। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে এ শাস্তির মুখোমুখী হতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

[৩] তার বিরুদ্ধে নেয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা পিবিআই পুলিশের অন্যান্য সদস্যদের জন্য হুশিয়ারী বলেও মনে করেন তারা। পিবিআই ফেনী জেলার তত্বাবধায়ক (এসপি) আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন এসআই লাভলী তার অফিসে সংযুক্ত হলেও চাকরিচ্যুত।

[৪] সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে পুলিশ কর্মকর্তা স্বামীর সংসারের ইতি ঘটিয়ে পরকীয়া প্রেমিক কক্সবাজারের রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি কাইম্মারঘোনা এলাকার বেলাল আহমদের ছেলে সুদর্শন শাহজাহানকে বিয়ে করেন এস আই লাভলী ফেরদৌসী। আগের স্বামীর দুই সন্তান, দ্বিতীয় স্বামী ও এক সন্তানসহ ৫ জনের সংসারের ঘানি টানতে শুরু করেন তিনি। তাছাড়া দ্বিতীয় স্বামী বেকার হওয়ায় স্বামীর হাতখরচও যোগান দিতে হয় তাকে। ফলে সরকারি বেতনে সংসারের ব্যায় পুষিয়ে উঠতে না পেরে পুলিশ রুলের পরিপন্থি কাজে পা বাড়ান এসআই লাভলী। জড়িয়ে পড়েন অনিয়ম আর দুর্নীতিতে। বিশেষ করে মামলা তদন্তে স্বামীকে সঙ্গে নেয়া, স্বামীকে দিয়ে অনৈতিক সুবিধা হাতিয়ে মামলার প্রতিবেদনে নয়ছয় করা, ক্ষমতার অপ-প্রয়োাগ, অর্থ আত্মসাতসহ নানা অপরাধের সাথে তার নাম জড়িয়ে যায়।

[৫] একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বাদী পক্ষের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অডিও ফাঁস হয় সম্প্রতি। যেখানে ঘুষ হিসেবে দেয়া টাকার পরিমাণ নিয়ে অসন্তুষ প্রকার করেন এসআই লাভলী ফেরদৌসী ও তার স্বামী শাহজাহান। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে, পিবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। এ অবস্থায় পুলিশের এলিট ফোর্স নামে পরিচিত এ শাখার সুনামও ক্ষুন্ন হয়। এ নিয়ে নড়েচড়ে বসে পিবিআই কর্তৃপক্ষ।

[৬] ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি প্রায় এক সপ্তাহ কক্সবাজারে অবস্থান করে অভিযোগের তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে এসআই লাভলী ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তার বিরুদ্ধে পুলিশের শৃঙ্খলা আইনে শাস্তির সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। কমিটির সুপারিশে এসআই লাভলীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

[৭] নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী একজন বলেন, একজন পুলিশ অফিসার কাজ করতে গিয়ে একটু সুবিধা নিতেই পারেন। তাকে শতভাগ ভাল মানুষ মনে করার কোন কারণ নেই। কিন্তু লাভলী ফেরদৌসীর বিষয়টি ছিল পুলিশ রুলের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। স্বামীকে দিয়ে মামলা তদন্ত, স্বামীকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দেয়া। যা কখনো সমর্থন যোগ্য নয়।

[৮] নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর এবং পিবিআইয়ের নামে প্রতারণার সামিল। তার অপরাধের কারণে কক্সবাজার পিবিআইয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে ‘স্বামীকে দিয়ে মামলা তদন্ত ও তদন্ত কাজে স্বামীকে সঙ্গে নেয়া’র বিষয়টি লাভলী স্বীকারও করেছেন। মূলত স্বামীর লোভের কারণে লাভলী পুলিশের শৃঙ্খলা পরিপন্থি নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলেও উল্লেখ করেন পিবিআই’র এ কর্মকর্তা।

[৯] তদন্ত কমিটির দায়িত্ব পালন করা একজন কর্মকর্তা নাম উল্লেখ না করার শর্তে বলেন, একজন দায়িত্বশীল অফিসার হয়ে স্বামীকে দিয়ে মামলা তদন্ত করার ঘটনায় পিবিআইয়ের উর্ধতন কর্মকর্তারা বিস্মিত এবং হতবাক। এটাই তাকে চরম বিপদে ফেলেছে। এসআই লাভলী ফেরদৌসীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ গুলোর অধিকাংশরই সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে রুল মতো ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়।

[১০] পিবিআই ফেনী জেলার তত্বাবধায়ক (এসপি) আসাদুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজার থেকে পিবিআই ফেনী জেলায় সংযুক্ত হয়েছেন এসআই লাভলী ফেরদৌসী। কিন্তু এরপর পরই তিনি চাকরিচ্যুত হন। শুনেছি তার (এসআই লাভলী ফেরদৌসীর) বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি সত্যতা পাওয়ার প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে চাকরি হতে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ