প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আমাদের সময়.কমে প্রকাশিত সংবাদের পর গোপালগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন ৩৫ পরিবারকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা

আসাদুজ্জামান বাবুল: [২] গোপালগঞ্জে মধুমতি নদী ভাংগনে বসতবাড়ী ও ফসলী জমি হারিয়ে গৃহহীন ৩৫টি পরিবারের কমপক্ষে দেড় থেকে ২ শতাধিক মানুষকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ভাংগন প্রতিরোধের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা।

[৩] জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইলিয়াছুর রহমান বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের কাছে এ খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌছে দেন।

[৪] এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা মো, রাশেদুর রহমান, প্রকল্প কমকর্তা (পিআইও) মো, আলাউদ্দিন ও ইউপি চেয়ারম্যান সুপারুল আলম টিকে ছাড়াও স্থানীয় গন্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

[৬] জেলা শহর থেকে কমপক্ষে ১৫-২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সাবেক প্রয়াত: এমপি মোল্লা জালালের গ্রামের বাড়ী বড়ফা। মোল্লা জালালের নামে এই ইউনিয়নের নামকরন  হয়েছে জালালাবাদ ইউনিয়ন। ইউনিয়নের ইছাখালী মোল্লাপাড়া ও সিকদার পাড়ায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন। গত ১০ দিনে ভাংগনের কবলে পড়ে জালালাবাদ ইউনিয়নের ইছাখালি গ্রামের মোল্লাপাড়া ও সিকদারপাড়ায় কমপক্ষে ৪ কিলোমিটার এলাকার ২৫টি বসতবাড়ী ও কমপক্ষে ২০০ একর ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতে ভেসে গেছে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বই খাতা কলমসহ নানান প্রজাতির অসংখ্য গাছপালা ।

[৭] নদী ভাঙ্গনে সবকিছু হারিয়ে গৃহহীন মানুষগুলো সরকারী রাস্তার উপরে খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে রাত্রীযাপন করছে বলে জানালেন গৃহবধূ রোকেয়া বেগম ।

[৮] শুক্রবার ঘটনাস্থল সরোজমিন পরিদর্শনকালে রোকেয়া বেগম বলেন, সবকিছু হারিয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাসের যন্ত্রনা যে কতো কঠিত তা একমাত্র সে-ই জানে যে উপভোগ করেছে। একপাশে গবাদিপশু আর আরেক পাশে স্বামী ও ছেলেমেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দেয়া থাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুশি গৃহবধু রোকেয়া অভিযোগ করে বললো, বসতবাড়ী হারিয়ে রাস্তার উপর আশ্রয় নিয়েও শান্তিতে নাই।  চেয়ারম্যান মেম্বাররা বলছেন, এখানেও নাকি থাকা যাবেনা। আমরা এখন যাবো কোথায়। কে দেবে আমাদের আশ্রয়, আর কে দেবে খাবার?

[৯] স্থায়ীভাবে নদী ভাঙগন প্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে হুমায়ারা আরো বলেছেন, কমপক্ষে দেড় শতাধিক বসতবাড়ী নদী ভাংগনে হুমকির মুখে। এখোনই স্থায়ীভাবে ভাংগন প্রতিরোধ করা না হলে আর এভাবে যদি নদী ভাংতে থাকে তাহলে অচিরেই এই দেড়শতাধিক বসতবাড়ীও নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।

[১০] উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো, ফাইজুর রহমান বলেছেন, জালালাবাদ ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মোল্লাপাড়ায় ভয়াবহ ভাংগন দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে ভাংগন কবলিত এলাকায় ভাংগন প্রতিরোধের কাজ চলছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করতে যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন তা আমাদের হাতে নেই। প্রয়োজনীয় অথ পাওয়া গেলে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

[১১] উল্লেখ থাকে যে,গত ২৩শে সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জে নদী ভাংগনে ৩৫টি পরিবার গৃহহীন শিরোনামে দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। আজ শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদশন করেছেন পানি উন্নয়নের প্রজেক্ট অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো, ফাইজুর রহমান।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত