প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সর্বনাম: দেশে প্রথম ডিজিটাল কমিউনিকেশন সিস্টেম আবিষ্কার করেন প্রবাসীরা

শোয়েব সর্বনাম : আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের আন্টির হাজবেন্ড ছিলেন প্রবাসী। ভদ্রলোক ওমান থাকতেন। বছর দুই বছরে দেশে আসতেন। আসার সময় লগে করে চকলেট ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য নিয়া আসতেন। আমার চৌদ্দগোষ্ঠীর কেউ কখনো বিদেশ করেন নাই। ফলে, সেই দম্পতির মহানুভবতায় আমি মাঝে মধ্যে কিছু বিদেশি চকলেট ও একটা সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর অর্জন করছিলাম। তো, একসময় তিনি বিশাল সাইজের একটা ডেকসেট নিয়া দেশে ফিরলেন।

সেই আমলে ডেকসেট একটা বিরাট ব্যপার বইলা গণ্য করা হতো। মহল্লায় প্রবাসী কেউ থাকলে তাদের ওয়াইফের বেডরুমে এই জিনিস শোভা পেতো। আমি ভাবতাম, প্রবাসীদের স্ত্রীগন খুব সঙ্গীতপিপাসু হইয়া থাকেন। কিন্তু কিছুদিন পর আবিষ্কার করলাম, ঘটনা ভিন্ন। একদিন দেখা গেলো যে, আন্টির সেই প্রবাসী হাজবেন্ড বিদেশ থেকা নানান নিত্যব্যবহার্য পণ্যের লগে একটা ফিতাক্যাসেটে ভয়েস রেকর্ড কইরা কুরিয়ার করছেন। সেই ক্যাসেট ছাড়া হবে। সেই উপলক্ষে আন্টির শ্বশুর সাহেব গ্রাম থেকা আসছেন। আরও কিছু ময় মুরুব্বিও আছেন। নির্দিষ্ট সময়ে সেই ক্যাসেট প্লেয়ারে চালানো হলো।

সালামালকি দিয়া প্রবাসীর বক্তব্য শুরু হইলো, আব্বা স্লামালাইকুম। উপস্থিত সকলে উচ্চস্বরে জানাইলেন, ওয়ালাইকুম। তারপরে রেকর্ড করা ভয়েস চলতে থাকলো, আশা করি ভাল আছেন। আপনাদের দোয়ায় সম্প্রতি একটা ভালো কোম্পানিতে আমার কাজ হইছে। উপস্থিত সকলে আওয়াজ দিলেন, আলহামদুলিল্লা! এইরকমভাবে প্রায় পয়াতাল্লিশ মিনিট সেই এনালগ যুগেও ডিজিটাল কমিউনিকেশন চলতে থাকলো, যার বেশিরভাগ আলাপ বৈষয়িক। সবশেষে গ্রামের বাড়িতে ডিপ টিউবওয়েল ও মোল্লার জমিটা বর্গা দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়া প্রবাসী ভদ্রলোক তার বক্তব্য শেষ করলেন।

ক্যাসেট শোনা শেষে শ্বশুর সাহেব মোনাজাত ধরলেন, আমরা সেই মোনাজাতে সামিল হইলাম। প্রবাসীর কল্যাণ কামনায় সেই মোনাজাতের শেষে মিস্টি বিতরনের পর সকলে প্রস্থান করেন, যদিও মহিলারা তখনো অন্দরে অবস্থান করতেছিলেন। সকলে চইলা যাওয়ার পরে শুধুমাত্র ঘনিষ্ট কিছু মহিলার উপস্থিতিতে ক্যাসেটের উল্টাপিঠ ছাড়া হবে।
পরে আমি আমাদের বাসার ছুটা বুয়ার কাছে ডিটেইল শুনছিলাম, সে আমার খালার লগে ট্যাংরা মাছ কাটতে কাটতে ক্যাসেটের উল্টাপিঠের বিবরণ দিতেছিল। তার বিবরণ ছিলো এইরকম, ‘ইছিছিছিছি, কি যে খাছড়া ব্যাডা! যদি আপনে শুনতেন’! এই উপায়ে দেশে প্রথম ডিজিটাল কমিউনিকেশন সিস্টেম আবিষ্কার করেন প্রবাসীরা। আজকের ইমো মেসেঞ্জার হোয়াটসঅ্যাপের যুগে সেইসকল কমিউনিকেশন বলে কিছু আর নাই! ফেসবুক থেকে