প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সার্ভার জটিলতায় পাসপোর্ট পাচ্ছে না শিশু-কিশোররা

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর লালবাগের নিউ পল্টন লাইনে মামুনুর রশিদের ১০ বছর বয়সি ছেলে মেহেতাব হোসাইন সোহান দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। জরুরি ভিত্তিতে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। ইত্তেফাক

এ কারণে গত ১০ সেপ্টেম্বর সোহানের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্টের আবেদন করা হয়। ই-পাসপোর্টের সুপার এক্সপ্রেসের নিয়ম অনুযায়ী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সোহানের পাসপোর্ট হওয়ার কথা। ১২ সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে সোহানের ছবি তুলতে নিয়ে গেলে তার বাবা জানতে পারেন যে সার্ভার ডাউনের কারণে শিগিগর তার ছেলের পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব হবে না।

সোহানের পাসপোর্টের আবেদনের তথ্য পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায় জন্মনিবন্ধন সনদের সার্ভার ডাউন। ফলে সোহানের জন্মনিবন্ধন সনদ পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। পাসপোর্ট অফিস থেকে একটি মোবাইল নম্বর সোহানের বাবাকে দেওয়া হয়। বলা হয়, প্রতিদিন একবার করে ফোন দেবেন, যদি জন্মনিবন্ধন সনদের সার্ভার চালু পাওয়া যায়, তখনই আপনি সন্তানকে নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে আসবেন।

গতকাল আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন সনদের সার্ভার পাসপোর্ট অফিস পায়নি। ফলে সারা দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে পাসপোর্ট প্রদান বন্ধ রয়েছে। ১৮ বছর বয়সের নিচে শিশু ও কিশোরদের জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণের সুযোগ নেই। এই বয়সিদের আবেদন করতে হয় জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে।

পাসপোর্ট অফিসে কথা হয় আক্তার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ১৭ বছর বয়সের মেয়ে আরিশা তাহানিয়া নিধিকে চিকিত্সার জন্য ভারতে নিয়ে যেতে হবে। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে তার পাসপোর্টের আবেদন করা হয়। কিন্তু পাসপোর্ট অফিস থেকে বলা হয় যে নিধির জন্মনিবন্ধন সনদ পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।
সার্ভার সংযোগ না পেলে পাসপোর্ট প্রদান সম্ভব নয়। এরকম ভুক্তভোগী বেশ কয়েক জন শিশু-কিশোরের বাবা-মাকে পাসপোর্ট অফিসে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তারা ছবি তোলা শাখায় বারবার যোগাযোগ করছেন যে সার্ভার পাওয়া গেল কি না।

এ সমস্যা সমাধানের জন্য গত ১৯ সেপ্টেম্বর আগারগাঁওয়ে বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) মহাপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ডিআইপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী বলেন, ‘নির্দেশ দিয়েছি বুধবার থেকে সার্ভার সংযোগের দরকার নেই। পূর্বের মতো কম্পিউটারে জন্মনিবন্ধন সনদ পরীক্ষা করে পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে সম্প্রতি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্ভারেও ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন, সার্ভার ডাউন থাকায় সঠিক সময়ে সেবা মিলছে না। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস নিয়েও সঠিক সময়ে ই-পাসপোর্ট মিলছে না। দেশে ও বিদেশে মিশনগুলোসহ মোট ১৫০টি কেন্দ্র থেকে এমআর (মেশিন রিডেবল) পাসপোর্ট ও ই-পাসপোর্ট প্রদান করা হয়।

এই ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রতিদিনই কোনো না কোনো কেন্দ্রের সার্ভার অচল হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার মাদারীপুর আঞ্চলিক অফিসের সার্ভার অচল ছিল। ফলে ঐ জেলায় সেদিন কোনো পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দিন আগে আগারগাঁওয়ে পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার অচল হয়ে যায়। প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা পর আবার সচল হয়। বিদেশে মিশনেও মাঝেমধ্যে সার্ভার অচল হওয়ার খবর পাচ্ছে ডিআইপি।

ডিআইপি সূত্র জানায়, চলতি ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪৩টি ই-পাসপোর্ট ও ১ লাখ ৪১ হাজার ৮৮৯টি এমআর পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মাসে অন্তত ৫ লাখ পাসপোর্ট মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ডিআইপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা ও সুরক্ষা বিভাগে ৯০০ জনবল চেয়ে আবেদন করেছে।

এই জনবল নিয়োগ হলে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলবে বলে মনে করছেন ডিআইপির শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রাথমিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে আগারগাঁওয়ে চার জন কর্মকর্তা ও ২৫ জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলে ঐ অফিসের চলমান সমস্যা দূর হবে।
ডিআইপির মহাপরিচালক জানান, পাসপোর্টের জন্য যারা আবেদন করেন, তাদের মধ্যে অর্ধেক হলেন শ্রমিক। তাদের সহযোগিতা করার জন্য আপাতত আগারগাঁওয়ে দুটি হেল্পডেক্স চালু করা হচ্ছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত