প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিপূ সৈয়দ নূরুলহৃদা: শরীরে বলিষ্ঠ হও, চিন্তা শক্তিতে নির্ভীক হওপাল্টা আঘাত করো!

নিপূ সৈয়দ নূরুলহৃদা: গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায় সময় শহর থেকে কাজ শেষে ক্যাম্পাসের বাসায় ফিরছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গাণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের দুই ছাত্রী। ফেরার পথে ক্যাম্পসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে পথ আটকে দাঁড়ায় ছাত্র লীগের চারকর্মী। ছাত্রীরা তাদের পরিচয় দেওয়ার পরও ইভটিজাররা হুমকিধমকি দিয়ে আজেবাজে অশ্লীল নোংরা কথাবার্তা বলতে থাকে ও হেনস্তা করে। ইভটিজাররাও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি, ইসলামের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ওই সময় ওইপথে প্রক্টর স্যারের গাড়ি দেখে ছাত্রীরা থামালে ইভটিজারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাবে তাদের একজন প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হাতে ধরা পড়ে। সর্বশেষ: ছাত্রীদের লিখিত অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রোক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘ওই চার ছাত্রের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতারা পরীমনির হাতে আজেবাজে লেখা দেখেন, উৎশৃঙ্খলতা দেখেন, নিজেদের যৌন নিপীড়ক কর্মীদের আজে বাজে অশ্লীল কর্মকাণ্ড দেখেন না কেন? হয়তো নেতারা এটাও বলবেন, এতো রাতে মেয়েরা ঘরের বাহিরে থাকে কেন? ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নের মতো এসব বর্বর তালিবানি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অতীতেও দেখা গেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা জড়িত থাকে। সাধারণ কোনো ছাত্র কখনো এমন সংঘবদ্ধভাবে অপরাধ সংগঠিত করার ভয়ঙ্কর দুঃসাহস করে না। এটা যে শুধু রাতে ঘটে কিংবা পথে ঘটে তাও না, ঘরের ভেতরও ঘটে এবং সেখানেও ক্ষমতাসীনদের উপস্থিতি বিদ্যমান। আমাদের মেয়েদের সীমাবদ্ধতা ও সমস্যা হলো- তারা পরিবার থেকে ছোট বেলা থেকে শোন, ধমক খায়, তুমি মেয়ে, তুমি এই করতে পারবে না, অই করতে পারবে না, তুমি নত হও, তুমি দুর্বল। ঘরের বাহির হলে- লোলুপ দৃষ্টিতে বিদ্ধ হয়, গুতা খায়, ধাক্কা খায়, লজ্জা পায়, কষ্ট পায়, ভয় পায়।

কিন্তু সাধারণত সংকোচে কাউকে বলে না, প্রতিবাদ করে না, রুখে দাঁড়ায় না, ফাইট করে না, ঘুষি মারে, অণ্ডকোষে লাথি লাগায় না। খাঁচায় বন্দি পাখি যেমন না উড়তে উড়তে, উড়তে ভুলে যায়, ভয় পেতে পেতে আর সে উড়তে পারে না, ভয় কাটাতে পারে না, তেমনি মেয়েরাও মনে মননে শরীরে দুর্বল অসহায়ত্ব বরণ করে নেয়। কিন্তু বাস্তবে এই মেয়েটি শক্তিতে চিন্তায় ছেলেদের চেয়ে কোনোভাবেই কম নয়। শুধু চিন্তায় ভাবনায় শরীরে প্যাকটিসই হলো মূল বিষয়। তুমি দুর্বল ভাবো বলেই দুর্বল, তুমি ভয় পাও বলেই তারা ভয় দেখায়- আজকে যদি ঘটনা উল্টো ঘটতো? ফাস্ট ইয়ারের ৪টি মেয়ে ফোর্থ ইয়ারের দুটি ছেলেকে পথ আটটে দাঁড়ালো, তখন সিরিয়ার ছেলেগুলো কি করতো? রাষ্ট্র ক্ষমতার কেন্দ্রে নারী। আমরা আফগানে সংঘবদ্ধ নারী বিদ্বেষি জঙ্গি তালিবান দেখি, নিজদেশে সংঘবদ্ধ নারী নিপীড়ক নারী ধর্ষক তালিবান জঙ্গি দেখি না। বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ ঘটনার মাত্র ৩ ভাগের বিচার পাওয়া যায়। আর বাকিদের ক্ষেত্রে বিচার প্রার্থী নারীরাই উল্টো হয়রানির শিকার হন। তালিবান নীতির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য কোথায়? বিচারহীনতাই অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ