প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মন্টু ডানিয়েল: দেহ মনের শক্তি-সামাজিক মুক্তি

মন্টু ডানিয়েল: স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল জানা আছে সবার, কিন্তু পালনের তাগিদ উপেক্ষা করি বার বার। পাঁচটি মৌলিক চাহিদার একটি চিকিৎসা- পরিণামে বিষয়টি স্বাস্থ্য, অথচ বিশ্ব ব্যকূল চিকিৎসা নিয়ে, সুস্থতা রক্ষার পরিবর্তে।‘prevention is better than cure’ এই সিদ্ধবাক্যটি এখনও বক্তব্য ও পুস্তকেই আশ্রিত, দৈনন্দিন জীবনের পালনীয় কর্ম হয়ে ওঠেনি। সমাজ ও রাষ্ট্র এমন কি বিশ্ব বিষয়টির গুরুত্ব এখনও তেমনভাবে বিবেচনায়ও নেয়নি।

মানব জাতির ইতিহাসে নেই, একটি অসুস্থ জাতি জগতের কোন কল্যাণে এসেছে। পশ্চাতে পরিবার সমাজ, দেশ অনিবিার্যভাবে অন্ধকারে নিপতিত হয়েছে। বিগত সত্তুর দশক পর্যন্ত চীন জাতি অসুস্থতার কারণে তার অগ্রগতির কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি। স্বাস্থ্যের দিকে নজর না দিয়ে বোকামীনির্ভর অন্যান্য বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেয়ায়- জাতীয়ভাবে পাখি নিধন, পোঁকামাকড় নিধনের দিকে নজর দেয়ায় প্রকৃতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লে সংক্রমণকারী ভাইরাস দ্বারা বার বার মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে। কোন কোন ভাইরাস চীনের গণ্ডি পার হয়ে বিশ্বকেও আক্রমণ কেরছে। বর্তমানের মহামারী কোভিড-১৯, করোনা ভাইরাস তার একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ।

কাউকে দোষাদোষি বা গীবৎ না করে ‘জোনাকি দৈহিক ও মানসিক গঠন কেন্দ্র’ নামে জীমের পাশাপাশি, আর্ট, গান, নাচসহ শিল্পকলার বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছি মার্চ, ২০১৪ থেকে। বিভিন্ন কোর্সের মাধ্যমে আজকে পর্যন্ত প্রায় ৫০০-জন মানুষকে সরাসরি সংযুক্ত করেছি। পরোক্ষ উপকারভোগীর সংখ্যা অগণিত। যুবতি/যুবতিসহ নারী পুরুষ নির্বিশেষে সর্ববয়সী মানুষ এখানকার সেবা নিয়ে উপকৃত হচ্ছে। এলাকার অসংখ্য উপকারভোগীদের পাশাপাশি ভারত ফেরত মো. শহীদুল, মিসেস শিউলী, মি. বার্নাড, শ্রী নিতাই চন্দ্র সরকারসহ বেশ কয়েকজন এখানকার সেবা নিয়ে এখন স্স্থু স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছেন।

জীমের সাথে যোগ ব্যয়াম-ইয়োগা, ম্যাডিটেশান যুক্ত করাতে একটি ফিউশন প্যাকেজ গঠিত হয়েছে, যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সকল সদস্য/সদস্যা চমৎকারভাবে বেনিফিটেড হচ্ছে। ডায়াবেটিক, প্রেসার, মাথা ধরা, গ্যাস্ট্রিক, হার্টের সমস্যা, শরীর ব্যথা, শিরদাঁড়া- ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য প্রভৃতি সব নিত্য বেমারের নিরাময় হচ্ছে। জীমের প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণ করার পর থেকে অপ্রয়োজনীয় ঔষধ সেবন বন্ধ করে দেয়া রোগের নতুন কোন উপসর্গ সৃষ্টি হয় না।

ইংল্যান্ডে অবস্থানকালীন সময়ে (২০০৭-খ্রি.) আমার নিজের শিরদাঁড় সমস্যা হওয়ায় বাধ্য হয়ে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়েছে। সুস্থতা অর্জনের পাশাপাশি ওখানেই সুযোগ থাকায় ফিজিওথেরাপি প্রশিক্ষণ নিয়েছি এবং ওখানে ৩-বৎসর সহকারী, অতঃপর পূর্ণঙ্গ থেরাপিস্ট হিসাবে কাজও করেছি। মাস্কুলোস্কেলেটাল, নিউরোলজিক্যাল, প্যাডিয়াট্রিক, কার্ডিয়োপালমোনারি, জেরিয়াট্রিক প্রভৃতি থেরাপিগুলো সমস্যা চিহ্নিন্তকরণ পূর্বক সঠিকভাবে দেহ কসরৎ করতে পারলে মানুষের দেহের সুস্ততা ফিরিয়ে আনা ও তা রক্ষা করা আকাশ কুসুম কিছু নয়। ইহা সর্বভাবে প্রমাণিত ‘দেহ মনের শক্তি– সামাজিক মুক্তি’ অচল দেহে জীমে ঢুকে কোর্স সমাপ্তির পর সুস্থ সবল দেহে কর্মজীবনে ফিরে যাবার মতো এমন আর কি আনন্দ থাকতে পারে।

অর্থনৈতিকভাবেও জীম এখন জীবিকার অঙ্গ হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিকভাবেও জীম এখন জীবিকার অঙ্গ হয়ে উঠেছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের জীম বাংলাদেশে প্রথম প্রতিষ্ঠা হলেও বর্তমানে বেশ আশান্বিত সংখ্যায় উন্নীত হয়েছে। গ্রামে গ্রামে জীম প্রতিষ্ঠা পেলে এবং যথাবিধিভাবে অনুশীলন করলে বলা যাবে- ‘প্রতিদিন জীমে যাও বাড়ির বাইরে ডাক্তার তাড়াও।’

ড্রাগসহ নানা রকম বদাভ্যাস ও সামাজিক দুরাচার এবং অবক্ষয়ের হাত থেকে ছাত্র-যুবাদের রক্ষা করতে চাইলে জীমের যে বিকল্প নেই একথা বলাই রাহুল্য। যে কোন ব্যক্তিকে তার নিজের দেহের সুখ-শান্তির প্রতি একবার মায়া ও ভালবাসা জন্মাতে পাললে , সে তখন নিজে থেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠবে। বক্তব্যের চেয়ে কর্মের দৃষ্টান্ত মানুষ বেশী পছন্দ করে। সেই জ্ঞানবাক্যটিও ব্যবহারিক জীবনে প্রতিফলিত হবে- ‘আমার দেশে সেই ছেলে কবে হবে কথায় না বড়ো হয়ে কাজে বড়ো হবে’।