প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ১৪ বারেও জামিন মিললো না টাঙ্গাইলের সাবেক মেয়র মুক্তির

আরমান কবীর: [২] বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সাবেক এ মেয়রের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক মাসুদ পারভেজ।

[৩] সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই ও বর্তমান টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খানের ছেলে। গত নয় মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

[৪] জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সরকারি কৌঁসুলি এস আকবর খান বলেন, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেছিলেন। যে কোনো শর্তে তারা মুক্তির জামিন প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ আবেদন নামঞ্জুর করেন।

[৫] টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৮ আগস্ট সকালে বুকের ব্যথা নিয়ে সহিদুর রহমান খান মুক্তিকে জেলা কারাগার থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তবে এ সময় তার হৃদযন্ত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে থাইরয়েড ও কিডনিতে কিছু সমস্যা পাওয়া যায়। হাসপাতালে থাকতেই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। তিনদিন আগে তিনি করোনামুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে কোমর ব্যথার চিকিৎসা নিচ্ছেন।

[৬] ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় বছর পলাতক থাকার পর গত ২ ডিসেম্বর মুক্তি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে আছেন।

[৭] ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

[৮] এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২০১৪ সালের আগস্টে গোয়েন্দা পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

[৯] তাদের স্বীকারোক্তিতে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।

রানা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর কারাবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তাদের অন্য দুই ভাই এখনও পলাতক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত