প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হামিম কামরুল হক: ‘ঈশ্বরকে তো দেখিনি, কিন্তু তলস্তয়কে দেখলে মনে হয় ঈশ্বর যেন তাঁরই মতো’

হামিম কামরুল হক : লেভ তলস্তয়, যাঁর নামে আর কোনো বিশেষণ, উপাধি, খেতাবের দরকার হয় না। নিজেকে অবতার ঘোষণা করলে বিপুল পরিমাণ অনুসারীও পেয়ে যেতেন। জীবনকে কামে-ঘামে, ভোগে-ত্যাগে, অলসতায় আর বিপুল পরিশ্রমে যাপন করে গেছেন। ম্যাক্সিম গোর্কির ভাষায়,‘ ঈশ্বরকে তো দেখিনি, কিন্তু তলস্তয়কে দেখলে মনে হয় ঈশ্বর যেন তাঁরই মতো’।

নিপীড়িত নির্যাতিত দুখোবর সম্প্রদায়কে নিজে জাহাজে তুলে কানাডা পাঠিয়েছিলেন। কাউন্ট থেকে হয়ে গেছেন কৃষক। ‘যুদ্ধ ও শান্তি’, ‘আন্না কারেনিনা’, ‘পুনরুজ্জীবনের মতো মহাকায় উপন্যাসের লেখক, শেষ জীবনে এসব রচনা বাতিল করেছিলেন। যাপনের বিচিত্র সব সূত্র আছে তার লেখায়। মহাত্মা গান্ধীর ওপর তার বিরাট প্রভাব পড়েছিলো। হ্বিটগেনস্টাইনের মতো প্রতিভাও তলস্তয়ের মতোই জীবন চেয়েছিলেন। তিনিও বিপুল বিত্তের জীবন ছেড়ে হয়েছিলেন হতদরিদ্র মানুষ। হ্বিটগেনস্টাইন ‘আন্না কারেনিনা’ পড়ে ধর্মের প্রকৃত মর্ম বুঝতে পারেন। ‘আমি কে তা না জেনে আমি বাঁচতে পারি না’। লেভিনের এ কথাগুলো হ্বিটগেনস্টাইনকে মাতিয়ে দিয়েছিলো। যুদ্ধের সময় তার সর্বক্ষণের সঙ্গী তলস্তয়ের ‘দ্য গসপেল ইন ব্রিফ’ । জগতে কতো রাজা, সম্রাট, বাদশা, শাহেনশাহ, সিজার, জার এসেছে, হারিয়ে গেছে,–শেলির সেই কবিতার অজেমেন্ডিয়াসের মতো। মহাকালের ধুলায়, হাওয়ায়, ফেনায় তাদের চিহ্নও নেই। কিন্তু তলস্তয়ের মতো মানুষের কেবল জন্ম হয়। আর কখনোই মৃত্যু হয় না।
৯ সেপ্টেম্বর ছিলো তার জন্মদিন। ১৮২৮ সালে ৯ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মেছিলেন। তারপর রয়ে গেছেন আমাদের এই নশ্বর পৃথিবীর এক অবিনশ্বর মানুষ হয়ে। জয়তু লেভ তলস্তয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত