প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]তালিবানের নতুন সরকারে আছেন মাদ্রাসা শিক্ষক, পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত, গেরিলা যোদ্ধা, এফবিআই মোস্ট ওয়ান্টেড এবং গুয়েন্তানামো বে কারাগারে সাজা খাটা ব্যক্তিরা

আসিফুজ্জামান পৃথিল: [২] ১৯৯৪ সালে যে চারজন মিলে তালিবান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ তাদের একজন। তিনি সবচেয়ে বেশিদিন ধরে রাহবারি শুরার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৬-২০০১ সালে তলিবানের প্রথম দফায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন আখুন্দ। তার উপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিবিসি

[৩] ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যৌথ অভিযানে মোল্লা আব্দুল ঘানি বারাদার করাচি থেকে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী আট বছর তিনি কারাগারে বন্দী থাকেন। দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কাতারের দোহায় চালু করা তালেবানের রাজনৈতিক দপ্তরের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি । তালেবান নেতা হিসাবে ২০২০ সালে প্রথম বারাদার যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তার ঠিক আগে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের দোহা চুক্তিতে তালিবানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তিনি। তিনি পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় দক্ষ বলে বিবেচিত হন। তিনি আফগান সরকারের উপ-প্রধান।

[৪] ধারণা করা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা ইয়াকুবের বয়স বয়স ত্রিশ বছরের কিছু বেশি। তিনি বর্তমানে দলের সামরিক শাখার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তালিবান যখন পুরো আফগানিস্তান জুড়ে নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছিলো, ইয়াকুব তালিবান যোদ্ধাদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা আফগান সামরিক বাহিনী বা সরকারের কর্মকর্তাদের কোন ক্ষতি না করে। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ফেলে যাওয়া বাড়িঘর লুটতরাজ করা না হয়, সেই নির্দেশও দিয়েছিলেন।

[৫] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। পিতা জালালুদ্দিন হাক্কানির মৃত্যুর পর তিনি হাক্কানি নেটওয়ার্কের নতুন নেতা হন। আফগানিস্তানে আফগান বাহিনী এবং তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ কিছু হামলার জন্য তাকে দায়ী করা হয়। ধারণা করা হয়, তার বয়স ৪৫ বছর।

[৬] পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে একজন শিক্ষত ও সংবেদনশীল ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর আগেও তার জাতিসংঘের সঙ্গে দরকণাকষির অভিজ্ঞতা রয়েছে।

[৭] তালিবানের ২য় ডেপুটি সরকারপ্রধান আব্দুস সালাম হানাফি। তিনিও কাতারের নেগোসিয়েশন দলের অংশ ছিলেন।

[৮] এদের সবার উপরে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে থাকছেন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। আশির দশকে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। তবে সামরিক কমান্ডারের তুলনায় একজন ধর্মীয় নেতা হিসাবেই তার পরিচিতি বেশি। নব্বইয়ের দশকে শরিয়া আদালতের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন আখুন্দজাদা। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর তালিবান তাদের মতো করে ধর্মীয় আইনকানুন চালু করে। সেই সময় হত্যাকারী ও ব্যভিচারীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতো এবং চোরদের হাত কেটে ফেলা হতো। সেসময় বিচারবিভাগের প্রধান ছিলেন আখুন্দজাদা।

সর্বাধিক পঠিত