প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজবাড়ীতে বেড়েই চলছে পদ্মা নদীর পানি, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

সোহেল মিয়া:[২] শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) ও রাজবাড়ীর তিনটি পয়েন্টেই বেড়েছে পানি। পানি বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে রাজবাড়ীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

[৩] নিম্নাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলগুলোতে ঢুকে পড়ছে পানি। ফলে পানিবন্দি মানুষদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলার ৫ টি উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ৬৭ টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার ৪৫ হেক্টর ফসলি জমি।

[৪] শুক্রবার(৩ সেপ্টেম্বর) রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

[৫] পানি উন্নয় বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সকাল ৬ টায় পরিমাপ করা তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় রাজবাড়ীর তিনটি পয়েন্টের পদ্মার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টের পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। আর সদরের মহেন্দ্রপুর পয়েন্টে পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে তা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

[৬] অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে নিন্মাঞ্চলের ১ হাজার ৪৫ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে নষ্ট হচ্ছে রোপা আমন, রোপা আউশ, আগাম সবজি, আখ বীজতলা ও বাদামসহ বিভিন্ন ফসল।

[৭] এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর, বরাট, খানগঞ্জ, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর, বাহাদুরপুর,সেনগ্রাম, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর, রতনদিয়া,হরিণাবাড়িয়ার চর, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম ইউনিয়নের বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।

[৮] শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্য, ওষুধসহ গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী মানুষ সারাদিন পানির মধ্যে অবস্থান করায় ঘা-পাঁচড়া দেখা দিতে শুরু হয়েছে। বাথরুম তলিয়ে যাওয়ায় নারীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

[৯] পানি বাড়ায় জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সদরের গোদারবাজার, চর সেলিমপুর, গোয়ালন্দের দেবগ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। বিলীন হচ্ছে মসজিদ, বসতভিটাসহ জনপদ। সবমিলিয়ে বন্যা ও ভাঙ্গন কবলিতরা চরম সংকটে দিনপার করছে।

[১০] জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুল হক বলেন, জেলার ১৩ টি ইউনিয়নের ৬৭ টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫টি উপজেলায় ২১৩ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসের মাধ্যমে চাহিদা পেলে আরও বরাদ্দ দেয়া হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত