প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফ আকবর: সামনাসামনি বসে যুক্তিতর্কে অক্ষম নপুংসকদের নিয়ন্ত্রণে মোবাইলের ফোনের কী-বোর্ড

আসিফ আকবর: টেনেটুনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছি নিয়মিত ছাত্র হিসেবে। কুমিল্লা তথা দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় জ্ঞানপাঠ নেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। আমার সহপাঠীরা দেশের সেরা সেরা জায়গায় কাজ করে। আরেকদিকে কুমিল্লা শহরের মফিজাবাদ কলোনীতে রয়েছে আমার বেড়ে ওঠার ছোট্ট ইতিহাস। চৌদ্দগ্রামের অজপাড়া গাঁ পোটকরা থেকে এসে আমার পরিবারের সদস্যরা আজ দেশে প্রতিষ্ঠিত। নানার পরিবার আরও সম্ভ্রান্ত। আমার দাদা ছিলেন কৃষক, নানা ছিলেন দেশের প্রথিতযশা অধ্যাপক। চরম বৈপরীত্যের মধ্যেই শিক্ষাদীক্ষাকে অপরিহার্য মনে করেই আমাদের বেড়ে ওঠা। গায়ক হিসেবে মানুষজন আমাকে চেনার পর পরিবারের কাছে নিয়মভাঙা এই অধমের একটু ইজ্জ্বত বেড়েছে। ফ্যামিলির সবচেয়ে ঘধঁমযঃু নড়ু টা শাইন করে ফেলেছে, তারাও অনেক খুশি। কুমিল্লার মতো রক্ষণশীল অথচ উচ্চাভিলাষী এডুকেটেড সোসাইটির একজন অধস্তন সদস্য আমি। গ্রাম শহর রাজধানী আর বিদেশ বিভুঁইয়ে মার্চ করার সময় নিজের স্ট্যাটাসের যোগ্যতার প্রতি কড়া নজরদারী রাখি যেন অহংবোধ চলে না আসে।

এ দেশে মুখোমুখি হতে চাওয়াটা ইদানীং খুনোখুনির নামান্তর। সব পর্যায়ের মানুষের ভেতর অসহিষ্ণুতা প্রকাশ্য রূপ ধারণ করেছে। সমাজে বিরাজমান চাপা অস্থিরতাগুলো সহিংস অবস্থানে চলে গেছে। পাওয়ার প্র্যাকটিস (চর্চা) পাওয়ার ডাইজেশনের (হজম) মধ্যে বিস্তর বৈষম্য তৈরি হয়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি আর সংসার চালোনোর ব্যথা সমান্তরাল রেখায় অবস্থান করায় আবহাওয়ার সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। মাস্তি প্রিয় জাতি ব্যস্ত মুখরোচক রস কলা নিয়ে, কোন ফাঁকে নিজেই রসগোল্লা হয়ে যায় সেই চিন্তা মাথায় নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখি বাস্তব জীবনের অর্জিত শিক্ষায়। কামরুপ কামাখ্যা থেকে আগত জটাধারী লেংটা বাবাদের এলোপাথারী মন্তব্যের তোপে সুচিন্তিত মতামতগুলো ফেসবুকে ভূপাতিত। ফেসবুক ঢোলের দুই দিকে পিটাচ্ছে, কুরুক্ষেত্র তৈরি করেছে ভার্চুয়্যাল মিডিয়ায়। রাগ রোষ মান অভিমান সব এখন এখানেই, সমাজের সব ভালবাসা ভেঙ্গে যাচ্ছে অযাচিত ঝগড়ায়।

প্রয়োজনে এন্ট্রি ফি নিয়ে সলিড রেজিষ্ট্রেশন দেওয়া উচিত ন্যাশনাল আইডি কার্ডধারীদের। নাম-ঠিকানা বিহীন ক-অক্ষর গোমাংসদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে আমাদের। কানার হাতে কুড়াল পরলে কোপাকুপির মাত্রা বোঝা মুশকিল, তাদের যন্ত্রণায় মাঝে মাঝে অর্জিত সামাজিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগুলো কোমায় চলে যায়। সামনাসামনি বসে যুক্তিতর্কে অক্ষম নপুংসকদের নিয়ন্ত্রণে মোবাইলের ফোনের কী-বোর্ড। যে কারণে লাইক, কমেন্ট করার চেয়ে ব্যান মারার দিকেই এখন বেশি দৃষ্টি দিতে হয়েছে। যেকোনো সময় দল ত্যাগে প্রস্তুত লাইকার ফলোয়ারের চেয়ে সমঝদার সমালোচক বেশি জরুরি। স্বল্পজ্ঞানী বিজ্ঞানীদের হাত থেকে নিজের জীবন বাঁচাতে সামাজিক কৃমিগুলেকে ইগনোর করা শিখে গেছি। ভালোবাসা অবিরাম। লেখক : সংগীতশিল্পী। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত