প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরুল হক: ‘নেভার, নেভার আনটিল মাই ডেথ’!

মঞ্জুরুল হক: প্রথমে অতিউৎসাহীরা বললো, ‘আফগান প্রেসিডেন্টর সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টও দেশ ছেড়ে পালিয়েছে’। না। তিনি পালাননি। দেশেই আছেন এবং নিজেকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। এটা পুরোনো খবর। নতুন খবর বিবিসি তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এতো কথার দরকার নেই। তার শেষ কথা হলো- ‘না, আমি পরাজয় স্বীকার করবো না। তালেবানের সঙ্গে আলোচনা বা আপোসের প্রশ্নই ওঠে না’। ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ নর্দান এলায়েন্সকে নিয়ে হয়তো কিছুদিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। তারপর একসময় পরাজয় মেনে নেবেন অথবা নিহত হবেন, কারণ ৩ লাখ ট্রেইন্ড সোলজার যখন হাই তুলতে তুলতে ৭০/৮০ হাজার তালেবানের কাছে সারেন্ডার করে, তখন সালেহ কাকে পাশে পাবেন? তবে ভালো লেগেছে তার হাসিটুকু। সারেন্ডার করবেন কি-না প্রশ্নের উত্তরে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, ‘নেভার, নেভার আনটিল মাই ডেথ!’ যারা বলছিলেন, ‘মার্কিন কোলাবরেটররাই দেশ ছাড়ছে’। হ্যাঁ, যে ছেলেটার বয়স মোটে ১৮, সেও দেশ ছাড়ছে। সে ইউনিভার্সিটিতে পড়তে চায়। বোরখাবৃত নারীও দেশ ছাড়ছে, কারণ সে জানে তাকে মাইল মাইল হেঁটে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। তালেবানরা তা করতে দেবে না। তারা কিন্তু কেউই কোলাবটেরটর নয়।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ তারিখে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর গত ১০ দিনে ৮৮ হাজার আফগান দেশ ছেড়েছে। এয়ারপোর্ট লকড। তার পরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ টার্মিনালের বাইরে রাত-দিন বসে আছে। পাসপোর্ট, ভিসা, টাকা, মালপত্র কিচ্ছু নেই। স্রেফ জীবনটা সঙ্গে করে পালাতে চায়, কারণ ‘বদলে যাওয়া’ তালেবান নরম করে বলেছে, ‘নারীরা বাড়িতে থাকবে।’ যদিও অতিউৎসাহী বন্ধুগণ মনে করে তালেবান নারীদের পড়তে দেবে, কাজ করতে দেবে, এমনকি মর্যাদাও দেবে! কিন্তু ভাঙা রেকর্ড বলছে, জেনাকারী নারীকে পাথর মেরে হত্যার বিধান চেঞ্জ হবে না। অন্য কিছু কিছু বিষয়ে বিবদমান তালেবান, আল-কায়েদা-আইএস-এর অমিল থাকলেও এই একটি বিধানে তারা সব এক। জেনাকারী মানেই নারী। সে যার সঙ্গে ‘জেনা’ করলো, সেই লিঙ্গধারী পুরুষটি পীর-আউলিয়া! তার কোনো শাস্তি হবে না। পুংলিঙ্গের এমনই মহিমা! আরও একটা অন্তঃমিল দিয়ে লেখাটা শেষ করি।

১০ দিন আগের বা এখনকার আফগানিস্তানের সঙ্গে অদ্ভুতভাবে বাংলাদেশের মিল দেখা যায়। শুধু নারীকে অর্ধেক শরীর মাটিতে পুতে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা ছাড়া প্রায় সব ধরনের শরীয়াহ আইন দুই দেশেই বলবত। ওখানে অফিসিয়ালি, এখানে আনঅফিসিয়ালি। তারাও নিজেদের ভাগ্য বদলাতে চায় না। এরাও বদলাতে চায় না। তীব্র অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়নে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে কার কাছে যেন সকরুণ নালিশ জানায়। আর মনে মনে সান্ত্বনা খোঁজেÑ ‘আইজ না হোক পরকালে তোমরা ঠিকই শাস্তি পাইবা।’ কী পরম অসহায় নির্ভরতা!

পুনশ্চঃ তালেবান ইজ বেটার দ্যান আল-কায়েদা, আল-কায়েদা ইজ বেটার দ্যান আইএস, আইএস ইজ বেটার দ্যান আমেরিকাব্যাক গভর্নমেন্ট, গভর্নমেন্ট ইজ বেটার দ্যান মুজাহিদিন, তালেবান ইজ বেটার দ্যান অল… আফগানিস্তান ১০০ বছর আগেও এরকম ছিলো। এখনও এরকম। ভবিষ্যতেও এরকমই থাকবে। দ্য অ্যান্ড। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত