প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিপদসীমার ওপরে ৪ নদীর পানি, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

নিউজ ডেস্ক: মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এ বৃষ্টিতে বেড়ে যাচ্ছে নদ-নদীর পানি। নদী অববাহিকার বহু এলাকা এখন প্লাবিত হচ্ছে। বর্তমানে দুধকুমার, যমুনা, পদ্মা ও গড়াই নদীর চার পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের কুড়িগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পাশাপাশি যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্ট এবং আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। বাংলা ট্রিবিউন

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চল, পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের অনেক নদী অববাহিকা এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে। চার নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে। আরও দুটি পয়েন্টে পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে আরও কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, সুরমা-কুশিয়ারা ছাড়া দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানির সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্ট এবং আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

কেন্দ্র জানায়, দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া যমুনা নদীর মথুরা পয়েন্টে পানি ৮, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি ৪২ এবং গড়াই নদীর কামারখালি পয়েন্টে পানি ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রামগড় স্টেশনে ৯১ মিলিমিটার। এছাড়া পঞ্চগড় স্টেশনে ৭০ এবং মনু রেলওয়ে ব্রিজ স্টেশনে ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া দেশের উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি স্টেশনে ৫৮ মিলিমিটার, পাসিঘাটে ৬১ এবং দার্জিলিংয়ে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্বদিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় আছে। এর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে নদীবন্দরগুলোর জন্য এক সতর্ক বার্তায় বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য এসব এলাকার বন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত