প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানী ছেড়েছেন অনেক ভাড়াটিয়া, অর্থ সংকটে বাড়িওয়ালারা !

ডেস্ক নিউজ: করোনা সংক্রমণ রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতও বন্ধ। লম্বা ছুটিতে রাজধানী ছেড়েছেন অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষ। বলতে গেলে রাজধানী এখন জনশূন্য। এ অবস্থায় ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না বাড়িওয়ালারা। ভাড়াটিয়ার আকাল থাকলেও গ্যাস, পানি-বিদ্যুতের বিল ঠিকই নিজের পকেট থেকে ভরতে হবে। কত দিন এ অবস্থা চলবে তা নিয়ে বাড়িওয়ালারা দুশ্চিন্তায় আছেন।

করোনা মহামারিতে গ্রামে চলে গেছেন শতকরা ৪০ ভাগ ভাড়াটিয়া। ফাঁকা পড়ে আছে অনেক ফ্ল্যাট, বাড়ি। রাজধানীর অনেক বাসার গেটে বা দেওয়ালে সাঁটানো হয়েছে ‘টু-লেট’ বা ‘বাড়ি ভাড়া’ বিজ্ঞাপন। সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

বড় বাসা ছেড়ে দিয়ে কম ভাড়ার বাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছে অনেক পরিবার। করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যে ধাক্কা লেগেছে, তাতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। আয় কমে গেছে অগণিত মানুষের।

রাজধানীতে আগে কাজের সুবাদে যারা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন, তারা এ পরিস্থিতিতে চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। অনেকে বাসা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে রেখেছেন বাড়ির মালিককে। এ কারণে মূলত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে করোনা মহামারিতে শুধু যে ভাড়াটিয়ারাই অর্থসংকটে বিপদে পড়েছেন, তা নয়; একই সংকটে পড়েছেন বাড়ির মালিকরাও। বাড়িভাড়ার টাকায় সংসার চালানো বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া না পেয়ে মাসের পর মাস অর্থকষ্টে ভুগছেন বলে জানা গেছে ।

লালমাটিয়ায় একটি ছয়তলা বাড়ির মালিক মোবাশ্বের হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমার বিল্ডিংয়ে আমি নিজে একটা ফ্ল্যাটে থাকি আর বাকি ১০টা ফ্ল্যাট চুক্তি ভিত্তিতে নারীদের হোস্টেল ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় হোস্টেলের প্রতিটি সিট ফাঁকা পড়ে আছে। যারা আমার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে হোস্টেলটি চালাতেন, তারাও ভালো নেই। কয়েক মাস তাদের জমানো টাকা থেকে আমাকে ভাড়া দিয়েছে কিন্তু এখন আর দিতে পারছে না। এই ফ্ল্যাটগুলো যে অন্য কারো কাছে ভাড়া দিব, তাও কেউ নিচ্ছে না। মাসের পর মাস টু-লেট ঝুলছে গেটে, কেউ দেখতেও আসে না।’

মোবাশ্বের হোসেনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে হোস্টেল পরিচালনাকারী মরিয়ম বেগম (ছদ্মনাম) এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানা যায়, গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা সেই মাসের ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে চলে গেছে। দফায় দফায় লকডাউন আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা আর রাজধানীতে ফেরেনি।

তিনি বলেন, আমি নিজেও নিঃস্ব হয়ে গেছি। এই হোস্টেলের আয় দিয়েই আমার সাত সদস্যের পরিবার চলত, বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে আছি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঢাকার ৮০ শতাংশ বাড়িওয়ালা বাড়িভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। বাড়িই যেহেতু তাদের ব্যবসা, তাই বিভিন্ন বিল ও করের ঊর্ধ্বগতি সাপেক্ষে তারা বছরে গড়ে ৯ শতাংশ ভাড়া বাড়ান। ৭৫ শতাংশ বাড়িওয়ালা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি বানিয়ে থাকেন। বাড়িভাড়া ছাড়া সাধারণত তাদের অন্য কোনো আয়ের উত্স থাকে না। তাই ঋণের কিস্তি পরিশোধ কিংবা সংসার চালানোর তাগিদে ভাড়া হাতে পাওয়া তার জন্য জরুরি।

বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া পরিষদের তথ্যমতে, ঢাকার মোট ভাড়াটিয়ার ৪০ শতাংশ রাজধানী ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন। করোনা মহামারিতে চাকরি চলে যাওয়া, বেতন কমিয়ে দেওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালাদের ওপর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ধরনের সমস্যা যে কেবল নিম্নবিত্তের তা নয়, ঢাকায় বাড়িভাড়ার টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারও।

এদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের আয়ে যে প্রভাব পড়েছে তা বিবেচনা করে বাড়িভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এরই মধ্যে এক থেকে তিন মাসের বাড়িভাড়া মওকুফের জন্য বাড়ির মালিকদের কাছে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ভাড়াটিয়া কল্যাণ সমিতি এবং ভাড়াটিয়া পরিষদ।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি, নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা হলেও বাড়িভাড়া মওকুফ করার জন্য। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শুনছেন না। অনেক মানুষ বেকার এবং আয় কমার কারণে তাদের পরিবারকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন, আর আয়ের আশায় পরিবারের কর্তা ব্যক্তিটি কোনো মেসে বা কম টাকা ভাড়ার বাসায় উঠেছেন। মানুষকে খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতিতেও অনেক বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াদের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে ভাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। যে কারণে অনেকেই বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ভাড়াটিয়াদের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে বাড়ির মালিকদের উচিত কিছুটা ছাড় দেওয়া, কিছুটা ভাড়া মওকুফ করা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত