প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহাজাদা এমরান: অবিলম্বে গর্ভবতী মায়েদের ভ্যাকসিন দিন

শাহাজাদা এমরান: দিন যত যাচ্ছে ততই চতুর্দিকে গর্ভবতী মায়েদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে চলছে। অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। মরণব্যাধি করোনায় গর্ভবতী মায়েরা আক্রান্ত হলেও করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার অনুমতি এখনও তারা পায়নি। করোনায় আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর হারও অন্য আক্রান্তদের তুলনায় আনুপাতিক হারে অনেক বেশি। তাই বিশেষজ্ঞ মহলের জোর দাবি, আর কোন কালক্ষেপণ না করে অতীব দ্রুততার সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গর্ভবতী মহিলাদের করোনা ভ্যাকসিন দেয়া শুরু করা হোক। কারণ, করোনায় একজন ব্যক্তি মারা গেলে শুধু একজনই মারা গিয়েছে বলে গণ্য হয়, কিন্তু গর্ভবতী মহিলা করোনায় মারা গেলে মা ও অনাগত শিশু এক সাথে দুইজনই মারা যাচ্ছে ।

গর্ভবতী মায়ের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, আমেরিকার উচ্চ পদস্থ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যত শীঘ্রই সম্ভব প্রেগনেন্ট নারীদের কোভিড ভ্যাকসিন নেবার সুপারিশ করেছেন। প্রধান মিডওয়াইফারি অফিসার জেনারেল প্রাকটিশনার ও ধাত্রীদেরকে বলেছেন তারা যেন প্রেগনেন্ট নারীদেরকে নিজেকে ও তার অনাগত সন্তানকে রক্ষার জন্য কোভিড ভ্যাকসিন নিতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রেগনেন্ট নারীদের সংক্রমণে ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবের ওপর গবেষণার চিফ ইনভেস্টিগেটর প্রফেসর ম্যারিয়েন নাইট বলেন, মা ও শিশু উভয়ের সুরক্ষার জন্য প্রেগনেন্ট নারীর কোভিড ভ্যাক্সিনেশনের গুরুত্ব বলে শেষ করা যাবে না।

একই সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, গর্ভবতী নারীদের বেলায় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট আগের অন্য যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অধিক ধ্বংসাত্মক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই একই গবেষণায় আরো দেখা যায়, করোনায় আক্রান্ত পাঁচজন প্রেগনেন্ট নারীর একজন স্বাভাবিক সময়ের আগেই প্রিম্যাচিউর বাচ্চা প্রসব করেন।

কুমিল্লার বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কুমিল্লা নগরীসহ জেলার সর্বত্র আশঙ্কাজনক হারে গর্ভবতী মায়েরা এখন করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ সরকারি হাসপাতালে আসছেন কেউবা বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন। অনেকেই আবার নিজ বাড়িতেই থাকছেন। ইতিমধ্যে অনেকে মারাও গেছেন।

জাতীয় টিকা পরামর্শক কমিটি চলতি মাসের ২ আগস্ট অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মাকে করোনাভাইরাস টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এর জন্য স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় বিশেষজ্ঞ-চিকিৎসকদের সংগঠন অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) টিকা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা কমিটির কাছে তুলে ধরে। কিন্তু কি কারণে সরকার অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী নারীদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, তা জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কেউ।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমেন রায় বলেন, আমার কাছে চলতি আগস্টের এক তারিখ থেকে পাঁচ তারিখের হিসেবে আছে। এই সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন ও সদর হাসপাতালে ২ জন গর্ভবতী নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কথা বলতে পারব না।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও করোনা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, গর্ভবতী মহিলাদের করোনা হলে অবশ্যই ঝুঁকি আছে। কিন্তু আমাদের তো এই মুহূর্তে তাদের টিকা আওতায় আনার নির্দেশনা নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত না দিচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, করোনার এই ভ্যাকসিনটি যখন তৈরি করা হয় তখন কিন্ত গর্ভবতী মহিলাদের ওপর পরীক্ষা করা হয়নি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও জেলার সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মজিবুর রহমান বলেন, এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত সাধারণ নারীদের তুলনায় গর্ভবতী নারীদের মৃত্যুহার অনেক বেশি এবং শতভাগের কাছাকাছিও বলতে পারেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব পারলে আজকে থেকেই গর্ভবতী মায়েদের করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা। এমনিতেই অনেক বিলম্ব হয়ে গেছে। অনেক গর্ভবতী নারীরা মারা যাচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, করোনায় যদি স্বাভাবিক একজন মহিলা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তাহলে কিন্তু একজনই মারা গেল। অপর দিকে, গর্ভবতী মহিলা মারা গেলে কিন্তু মায়ের সাথে অনাগত শিশুটিও মারা গেল। সুতরাং চিকিৎসক হিসেবে বলেন, আর আমার ব্যক্তিগত মত হিসেবে বলেন, আমি বলব গর্ভবতী মহিলাদের খুবই দ্রুততার সাথে টিকা দেওয়া উচিত এবং এই বিষয়ে আমাদের হাইকোর্টেরও একটি নির্দেশনা রয়েছে ।

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন বলেছেন, গর্ভবতী মহিলারা এখন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এটি সঠিক কথা। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা গর্ভবতী মায়েদের টিকা দিতে পারি না। লেখক: সাংবাদিক,সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত