প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আহসান হাবিব: রাষ্ট্রের দায়িত্ব হোক মানুষকে তার স্বনিয়ন্ত্রণের মধ্যদিয়ে একজন স্বাধীন প্রাণী হিসেবে জীবনকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া

আহসান হাবিব: আমি মদ্যপানের পক্ষে। ইনফ্যাক্ট আমি সব খাওয়ার পক্ষে। মানুষ যা খেতে চায়, খাক। এটা তার ওপরই ছেড়ে দেওয়া দরকার। কেউ যদি গোবর খেতে চায়, খাক। এটা তার অভিরুচি। সাপ, ব্যাঙ, তেলাপোকা, কুকুর ইত্যাদি যা আছে পৃথিবীতে, খেতে চাইলে খাক। মদ খাওয়ার জন্য লাইসেন্স কেন লাগবে? মদ খাওয়াকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। এটা খাওয়ার বিরুদ্ধে এই যে নিষেধাজ্ঞা, এটাই তো একধরনের অবদমন। আর বিশেষ কোনো লোক এটা খেতে পাবে লাইসেন্স থাকলে, এই বৈষম্য কেন? কারা ওরা যারা মদ খেতে পারবে? পয়সাওয়ালা? তো আমাদের যাদের পয়সা নাই, তারা কি দোষ করলো? ওরা দামিটা খাক, আমরা না হয় কমদামিটা খাবো, কিন্তু খেতেই পারবো না লাইসেন্স ছাড়া, এই আইন কেন? এটা তো রীতিমতো নিপীড়ন।

তবে মদ খেয়ে কেউ মাতলামি করে অন্যের বিঘ্ন ঘটালে তার পাছায় ডাণ্ডা মেরে লালঘরে নিয়ে যাক, কোনো আপত্তি নাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শুধু এটুকু দেখবে। কিন্তু আমি মদ খেয়ে আমার ঘরে আমি নাচবো, গাইবো- তাতে কার কী! প্রতিবেশীর যদি আমি কোনো ব্যাঘাত না ঘটাই, তাহলে সমস্যা কী? আর আমার ঘরে যদি শত শত মদের বোতল থাকে, তাহলে কার ক্ষতি? সেসব তো বাজার থেকে কেনা, চোরাই মাল নয়, তাহলে? আর যদি চোরাই হয়, তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরবে, না ধরতে পারলে তাদের ব্যর্থতা। কিন্তু মদ আছে সন্দেহে আমার বাসায় কেন তল্লাসি চালানো হবে? যা হবে বাইরে। কারণ এসব তো আর নিজে হেঁটে হেঁটে ঘরে আসে না, নাকি? আর পর্নোগ্রাফি কেন নিষিদ্ধ হবে? পৃথিবীর কোন দেশে পর্নোগ্রাফি নেই? সেসব দেশ কি রসাতলে গেছে নাকি সেসব দেশের মানুষ সারাদিন পর্নে মুখ গুঁজে বসে আছে?

পর্নোগ্রাফিকে আইনসিদ্ধ করে এটাকে একটা শিল্প সেক্টর হিসেবে গড়ে তোলা হোক। পর্নো দেখে না এমন মানুষ দেখাতে পারবেন? শুধু বানালেই দোষ? না বানালে দেখবে কি করে? যৌনতাকে মুক্ত করে দেওয়া হোক। মানুষ তার পার্টনার বেছে নিক। পছন্দ না হলে ছেড়ে দিক। কিন্তু কেউ কাউকে যৌন হয়রানি করলে পাছার কাপড় তুলে ডাণ্ডা দিয়ে পিটিয়ে তাকে লালঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হোক।

ধর্মের ব্যাপারেও একই কথা। যে কেউ যেকোনো ধর্ম পালন করতে পারবে। কেউ না চাইলে তাও সে পারবে। রাষ্ট্রের এখানে নাক গলানোর দরকার নেই। কখন দরকার? কেউ যদি পালনে বাধা দেয় কিংবা কেউ পালন করছে না বলে তাকে হুমকি দেয়, তাহলে এদের ধরে পাছায় ডাণ্ডা মেরে লাল করে লালঘরে ঢুকিয়ে দেওয়া হোক। রাষ্ট্রের কাজ আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা, নিরাপত্তা বিধান করা। রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে না, সোজা কথা।

কেউ যদি হিজাব পরতে চায়, পরুক। কেউ যদি স্লিভলেস পরতে চায়, পরুক। কেউ আজানুলম্বিত জোব্বা পরতে চায়, পরুক। কারো ব্যক্তিগত চয়েজে বাধা দেওয়ার কোনো দরকার নেই। বাধা কখন দেবে? যখন সে অন্যের ক্ষতি কিংবা হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কেউ যদি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে চায়, পিঠের ছাল তুলে লালঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।

মানুষের এসব মৌলিক দিক উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে আমি। যত আইন করে এসব বাধা দেওয়া হবে, অবদমন বাড়বে, মানসিক রোগ বাড়বে, অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। এসব বিষয়ে রাষ্ট্র যদি তার ক্ষমতার ডাণ্ডা মাথার ওপর উঁচিয়ে বসে থাকে, তাহলে মানুষ বাঁচবে কী করে? রাষ্ট্রের দায়িত্ব হোক মানুষকে তার স্বনিয়ন্ত্রণের মধ্যদিয়ে একজন স্বাধীন প্রাণী হিসেবে জীবনকে উপভোগ করার সুযোগ করে দেওয়া। ব্যস, এটুকুই…।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত