প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেবিদ্বারে লিখিত অভিযোগে ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব

শাহিদুল ইসলাম: [২] গত ১২ জুলাই শনিবার ভোরে নিজবাড়িতে জন্ম নেয় ‘আল্লাহর হাওলা’ নামে এক ফুটফুটে শিশুপুত্র। জন্ম নেয়ার পর নবজাতকের পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পেয়ে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করে ওই পরিবার।

[৩] ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের কাজী বাড়িতে। এ ঘটনায় ভিক্টিমের পরিবার র‌্যাব-১১ এর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করে।

[৪] শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১১ এর কেপিএস মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনা অনুসন্ধানে এলাকা পরিদর্শনে যায়। পরিদর্শ শেষে বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেপ্তার করে। প্রথমে র‌্যাব কর্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাবাদ শেষে সন্ধ্যায় দেবিদ্বার থানায় হস্তান্তর করে।

[৫] স্থানীয়রা জানান, নির্যাতিতার পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তার বাবা দিনমজুর ছিলেন, প্রায় দেড় মাস পূর্বে মেয়ের এমন অপ্রত্যাশিত
ঘটনা শোনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। মা’ও অনেকটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। কিছুদিন পূর্বে মা’ পার্শ্ববর্তী বাড়িতে কাজ করতে যেয়ে বাম হাত ভেঙ্গে যায়। অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে পারছে না। এক মাত্র ভাই চট্রগ্রামে একটি প্লাষ্টিক কোম্পানীতে চাকরি করেন। প্রায় ৪ বছর পূর্বে একই গ্রামের প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় ভিক্টিমের। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে ৬ মাসও টেকিনি ওই সংসার। তার পর থেকেই তার পিতার বোঝা হয়ে পিত্রালয়ে আশ্রিত থেকে মানুষের বাড়িতে ঝি- চাকরানীর কজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

[৬] প্রায় ৮-৯ মাস পূর্বে পাশ্ববর্তী মরহুম অধ্যাপক কাজী আবু তাহের’র বাড়ির ছাদে ওই নির্যাতিতা যুবতী ধান শুকানোর কাজ করতে গেলে একাধীকবার ধর্ষণের শিকার হন বলে জানায় ভোক্তভগী। ধারালো দা’ দেখিয়ে ওই ঘটনা কাউকে না জানাতে ধর্ষকের পক্ষ থেকে হুমকী দেয়া হয়। এক পর্যায়ে তার পরিবর্তিত শারিরীক অবস্থা লক্ষ্য করে বাড়ির লোকজনের চাঁপের মুখে ঘটনা জানাজানি হয়। তবে ভিক্টিম প্রথম থেকেই তার প্রতিবেশী কাজী মোঃ মফিজুল ইসলাম’র পুত্র চা’ বিক্রেতা কাজী সোহাগ’র নাম বলে আসছে।

[৭] ঘটনা অনুসন্ধানে সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে পারছে না। একটি প্রভাবশালী চক্র ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে, আদালত ও থানায় মামলা করতে কিংবা বিষয়টি সমাধানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ তুলেন স্থানীয়রা।

[৮] স্থানীয় পৌর কমিশনার এম,এ আউয়াল বলেন, গত শনিবার (১২ জুলাই) ভোররাতে মেয়েটির পৈত্রিক নিবাসে একটি পুত্র সন্তন ভূমিষ্ট হয়। ঘটনার পর থেকে ওই প্রসূতী বারেরা গ্রামের প্রতিবেশী কাজী মোঃ মফিজুল ইসলামের ছেলে কাজী সোহাগ (২৫)’র নামই বলে আসছেন।

[৯] এ ব্যাপারে র‌্যাব-১১’র কেপিএস মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রতিবন্ধী ধর্ষনের অভিযোগে গ্রেপ্তার
হওয়া সোহাগ ১৫ সেপ্টেম্বর হইতে ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২০ একাধীকবার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরবির্ততে দেবিদ্বার থানায় আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

[১০] দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক) মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, র‌্যাব-১১’র অভিযানে সন্দেহভাজন আসামি হিসাবে
সোহাগকে সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। মামলা শেষে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে উপাস্থপন করা হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত