প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] য‌শোর জেনা‌রেল হাসপাতা‌লে ১৮ দি‌নে ১১৪ ক‌রোনা রোগীর মৃত‌্যু

র‌হিদুল খান : [২] করোনা রোগীর চিকিৎসা সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত অক্সিজেন ও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অতি প্রায়াজনীয় এ যন্ত্রটি ছিল না। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে এখন হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ২১ টি। গত ১৮ দিনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১৪ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী মারা গেলেও কারো ক্ষেত্রে এ যন্ত্রটি ব্যবহারের প্রয়োজন মনে করেননি চিকিৎসকরা।

[৩] যার কারণে ২১টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা আজ পর্যন্ত অব্যবহৃত থেকে গেছে। অবশ্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেছেন যন্ত্রগুলো প্রস্তুত আছে। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কম ও প্রচন্ড শ্বাস কষ্টের জন্য প্রয়োজন হওয়া মাত্র হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ব্যবহার করা হবে।

[৪] হাসপাতালের নিজস্বভাবে ১৫ টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা যন্ত্র রয়েছে। এছাড়া সাজেদা ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডেশেনের রয়েছে আরও ৬টি। করোনা রোগীদের উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন প্রয়োজন হলে এগুলো ব্যবহার করা কথা। কোনো রোগীর উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন প্রয়োজন হয়নি বলেই ব্যবহার করেননি চিকিৎসকরা।

[৫] গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৭ টার দিকে হাসপাতালের এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সুমন হোসেন। পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন না পেয়ে সুমন মারা যান বলে দাবি করেন তার বন্ধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মৃত্যুর আগে সুমনের প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭০ এর নিচে ছিলো।

[৬] এরপরেও তার উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন দিতে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দেয়া হয়নি। ১১ দিন করোনার সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর কাছে হেরে যায় মেধাবী ছাত্র সুমন। একই ধরণের কথা জানিয়েছেন আরও কয়েকজন। তাদের ভাষ্য,হাই ফ্লো তো দূরের কথা প্রয়োজনের সময় মিলছে না সিলিন্ডার অক্সিজেন। এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারে দুর্বল। মানুষ বাধ্য হয়ে থাকছেন।

[৭] সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীদের চিকিৎসায় সাধারণ সিলিন্ডার ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। নাম ও শয্যা নম্বর গোপন রাখার শর্তে একজন রোগী জানান, নিজেদের টাকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে আনতে হয়েছে। শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেলেও হাসপাতাল থেকে ঠিকমতো সরবরাহ করছিল না। পাঁচ মিনিট/ দশ মিনিট পর খুলে নেয়া হচ্ছিল। তাই স্বজনেরা অক্সিজেন কিনে দিয়েছেন। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন পাচ্ছেনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন সেটা আবার কি। ওয়ার্ডে মাঝে মধ্যে সিলিন্ডার অক্সিজেন পেয়েছেন।

[৮] সূত্র জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে যেসব রোগীর শারীরিক অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে চলে যায় তাদের বেশিরভাগেরই দরকার হয় উচ্চমাত্রার অক্সিজেন। তার জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সাধারণ সিলিন্ডারে প্রতি মিনিটে ১৫ লিটার অক্সিজেন দেয়া সম্ভব। করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের দরকার হয় তাদের ৫০ ভাগ সুস্থ হয়ে যান ১৫ লিটারের মধ্যেই। কিন্তু এরপরও যাদের অতিরিক্ত অক্সিজেন দরকার হয় তাদের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা যন্ত্র লাগে। এটা দিয়ে ৫০/৬০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেয়া সম্ভব।

[৯] হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ৩৫ শতাংশ রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। যাদের অধিকাংশের প্রয়োজন পড়ছে উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন। এরপরেও হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে না। এতে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। গত ১৮ দিনে রেডজোন ,আইসিইউ ও এইচডিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১ জুলাই ৪ জন, ২ জুলাই ৪ জন, ৩ জুলাই ৭ জন, ৪ জুলাই ৭ জন, ৫ জুলাই ৬ জন, ৬ জুলাই ৬ জন, ৭ জুলাই ৬ জন, ৮ জুলাই ৫ জন, ৯ জুলাই ৭ জন, ১০ জুলাই ১০ জন, ১১ জুলাই ৬ জন, ১২ জুলাই ১২ জন, ১৩ জুলাই ৯ জন ও ১৪ জুলাই ৪ জন, ১৫ জুলাই ৩ জন, ১৬ জুলাই ৪ জন, ১৭ জুলাই ১০ জন ও ১৮ জুলাই ৪ জন।

[১০] এদিকে যশোরের সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় যশোর জেলায় নতুন করে ১৩৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে ১৮ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ১৭ হাজার ৬৮ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। যশোরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে ২৬৯ জনের। এছাড়া ঢাকায় ৬ জন খুলনায় ৭ জন ও সাতক্ষীরার হাসপাতালে মারা গেছেন ১ জন।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত