শিরোনাম
◈ ‘চায়নাম্যান স্পিনার’ ক্রিকেটের প্রতিভা থেকে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য, সামনে এলো ডেভিড ইমনের অপরাধের নেপথ্য কাহিনি ◈ ‌ফিফা ৪০ হাজার কোটি টাকায় বিশ্বকাপ বিক্রি কর‌তে চায়! বিতর্কে জড়িয়ে আ‌ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম  ◈ ইসরায়েলি রাজ‌নৈ‌তিক বিশ্লেষক: নেতানিয়াহু ও ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই পতনের পথে ◈ শ‌নিবার বিএন‌পির স্থায়ী ক‌মি‌টির সভায় চুড়ান্ত হ‌তে পা‌রে নতুন রাষ্ট্রপতির নাম  ◈ মো‌দি সরকা‌রের বিরু‌দ্ধে আবার আন্দোলনের হুমকি ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির ◈ প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তির হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আমদানিনির্ভর এলএনজি: বৈদেশিক মুদ্রা ও ভর্তুকিতে রেকর্ড চাপের আশঙ্কা ◈ চাকরির স্বপ্নে মানবপাচার, স্ক্যাম সেন্টার থেকে যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা ◈ ক্রিকেট বিশ্বকাপের দলেও বেশি ক্রিকেটার চাই! ফুটবল বিশ্বকাপ দেখে দাবি অস্ট্রেলিয়ার ◈ ডেসকাটের পর এবার আরেক কোচ ভারতীয় দ‌লের দায়িত্ব ছাড়‌লেন

প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২১, ০২:০১ রাত
আপডেট : ১২ জুলাই, ২০২১, ০২:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নাদিম মাহমুদ: আমরা কেন ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারি না?

নাদিম মাহমুদ: আমি যে বাসায় থাকছি, সেই বাসায় বছরে অন্তত একবার গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ ইনস্পেকশন করে যায় হাউজিং এজেন্সি। এছাড়া বাসায় স্মোক ডিটেক্টর তো রয়েছে। বাসার সিঁড়িতে অন্তত ৩টি অগ্নিনির্বাপকও রাখা হয়েছে। আর যদি ল্যাবের কথা বলি, তাহলে বলা যায়, আমার ইনস্টিটিউট থেকে বছরে অন্তত দুইবার অগ্নিনির্বাপক ট্রেনিং থাকে এবং সেখানে সবাইকে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এসে শিখিয়ে যায়, কীভাবে আগুন ও দুর্ঘটনা মোকাবেলা করতে হয় তা হাতে-কলমে শিখি। এর বাইরেও বছরে একবার ব্ল্যাকআউট করে, জেনেরেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের সুরক্ষা চেক করা হয়।

এই হলো, একটি উন্নত দেশের জীবনযাত্রা। আমাদের দেশে যদি আমরা গত দশ বছরে কেবল আগুন লাগার ঘটনায় লাশের হিসেব কষি, তাহলে এই সংখ্যাটি এমন হবে যা অনেক ছোট দেশের বছরের গড় জন্মহারের সমান। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা জানতে পারি, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিলো না, জরুরি এক্সিটগুলো বন্ধ ছিল। এসব পুরাতন রোগের চিকিৎসা তো দেওয়া হয় না। বরং অগ্নিকাণ্ডের পর হেনতেন কমিটি করে দেওয়া। দুদিন শোকে মাতম থাকা হয়, ফেসবুকে মালিক-সরকারকে গালিগালাজ করা হয়। এরপর আমরা সবকিছু ভুলে যাই । ইস্যুর চাপে আমরা সবকিছু হজম করে ফেলি। কিন্তু কেন? আমরা কেন ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারি না? কেন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না?

কেন এই লাশের মিছিল আমাদের বারবার দেখতে হবে? যে দপ্তরের দায়িত্ব ছিল কারখানা অনুমোদনের আগে ভবনটি কোড-অব ম্যানার রাখছে কিনা, তা দেখভাল করার তাদের দায় কতোটুকু? যেসব দপ্তরের কাজ কারখানাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার তাদের দায় কতোটুকু? সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের শ্রমিকদের মৃত্যুর পরও এখন পর্যন্ত কোন মালিককে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা দেখলাম না। কারখানার মালিকের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ তার সম্পদ ক্রোক করা হয় না। দুর্বল ইনস্পেকশনের দায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কারো জেলে যেতে হয় না। দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কারো চাকরি খোয়াতে হয় না।

বরং অগ্নিকাণ্ডের পর সেইসব মালিকরা ইনসুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেন। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি ঋণ সুবিধা নিয়ে ফের মোটাতাজা হোন তারা। বহাল তবিয়তে থাকে তাদের কারখানা। শিশু শ্রমিকদের কারখানায় টেনে, মাসের পর মাস বেতন না দিয়ে কাজ করে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। সস্তা শ্রমের বাজারে সেরা এই দেশে এই লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মালিকরাই সরকারের বড় বন্ধু হয়েছে। সরকারকে আদৌও শ্রমিকরা বন্ধু হিসেবে কখনো পেয়েছে কিনা তা আমার সত্যি জানা নেই। দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। অব্যবস্থপনার খেসারতে খসে পড়া প্রাণগুলোর হত্যাকারীদের যেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন তেমনি, নিজেদের দুর্বলতাগুলো না ঢেকে সামনে এনে সমাধান করুন। অগ্নিকাণ্ড কোন প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, যার জন্য অদৃষ্টের দিকে আঙ্গুল তুলবেন, বরং অগ্নিকাণ্ডের সুযোগ রেখে কারখানা তুলে মৃত্যুপুরি করার দায় ওইসব মানুষদেরই। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়