শিরোনাম
◈ অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে ইসরায়েলের বিশ্বজুড়ে নজরদারি, বাদ যায়নি পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও ◈ ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর মাদক ‘কুশের’ ভয়ংকর বিস্তার, আসক্ত হচ্ছে শিক্ষিত তরুণরা ◈ সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের নির্দেশ ◈ দেশভাগের ৭৯ বছর পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাল ভারত ◈ জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হতে যাচ্ছে ভারত: আইএমএফ ◈ ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩ ◈ মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নিয়োগ, অনুমোদন পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে বিএনপি ◈ কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ◈ গাজীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে গার্মেন্টসকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২১, ০২:০১ রাত
আপডেট : ১২ জুলাই, ২০২১, ০২:০১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নাদিম মাহমুদ: আমরা কেন ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারি না?

নাদিম মাহমুদ: আমি যে বাসায় থাকছি, সেই বাসায় বছরে অন্তত একবার গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ ইনস্পেকশন করে যায় হাউজিং এজেন্সি। এছাড়া বাসায় স্মোক ডিটেক্টর তো রয়েছে। বাসার সিঁড়িতে অন্তত ৩টি অগ্নিনির্বাপকও রাখা হয়েছে। আর যদি ল্যাবের কথা বলি, তাহলে বলা যায়, আমার ইনস্টিটিউট থেকে বছরে অন্তত দুইবার অগ্নিনির্বাপক ট্রেনিং থাকে এবং সেখানে সবাইকে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এসে শিখিয়ে যায়, কীভাবে আগুন ও দুর্ঘটনা মোকাবেলা করতে হয় তা হাতে-কলমে শিখি। এর বাইরেও বছরে একবার ব্ল্যাকআউট করে, জেনেরেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগের সুরক্ষা চেক করা হয়।

এই হলো, একটি উন্নত দেশের জীবনযাত্রা। আমাদের দেশে যদি আমরা গত দশ বছরে কেবল আগুন লাগার ঘটনায় লাশের হিসেব কষি, তাহলে এই সংখ্যাটি এমন হবে যা অনেক ছোট দেশের বছরের গড় জন্মহারের সমান। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পর আমরা জানতে পারি, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিলো না, জরুরি এক্সিটগুলো বন্ধ ছিল। এসব পুরাতন রোগের চিকিৎসা তো দেওয়া হয় না। বরং অগ্নিকাণ্ডের পর হেনতেন কমিটি করে দেওয়া। দুদিন শোকে মাতম থাকা হয়, ফেসবুকে মালিক-সরকারকে গালিগালাজ করা হয়। এরপর আমরা সবকিছু ভুলে যাই । ইস্যুর চাপে আমরা সবকিছু হজম করে ফেলি। কিন্তু কেন? আমরা কেন ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারি না? কেন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না?

কেন এই লাশের মিছিল আমাদের বারবার দেখতে হবে? যে দপ্তরের দায়িত্ব ছিল কারখানা অনুমোদনের আগে ভবনটি কোড-অব ম্যানার রাখছে কিনা, তা দেখভাল করার তাদের দায় কতোটুকু? যেসব দপ্তরের কাজ কারখানাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার তাদের দায় কতোটুকু? সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের শ্রমিকদের মৃত্যুর পরও এখন পর্যন্ত কোন মালিককে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘটনা দেখলাম না। কারখানার মালিকের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ তার সম্পদ ক্রোক করা হয় না। দুর্বল ইনস্পেকশনের দায়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কারো জেলে যেতে হয় না। দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কারো চাকরি খোয়াতে হয় না।

বরং অগ্নিকাণ্ডের পর সেইসব মালিকরা ইনসুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ নেন। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে আরো বেশি ঋণ সুবিধা নিয়ে ফের মোটাতাজা হোন তারা। বহাল তবিয়তে থাকে তাদের কারখানা। শিশু শ্রমিকদের কারখানায় টেনে, মাসের পর মাস বেতন না দিয়ে কাজ করে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। সস্তা শ্রমের বাজারে সেরা এই দেশে এই লাশের ওপর দাঁড়িয়ে মালিকরাই সরকারের বড় বন্ধু হয়েছে। সরকারকে আদৌও শ্রমিকরা বন্ধু হিসেবে কখনো পেয়েছে কিনা তা আমার সত্যি জানা নেই। দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। অব্যবস্থপনার খেসারতে খসে পড়া প্রাণগুলোর হত্যাকারীদের যেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন তেমনি, নিজেদের দুর্বলতাগুলো না ঢেকে সামনে এনে সমাধান করুন। অগ্নিকাণ্ড কোন প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, যার জন্য অদৃষ্টের দিকে আঙ্গুল তুলবেন, বরং অগ্নিকাণ্ডের সুযোগ রেখে কারখানা তুলে মৃত্যুপুরি করার দায় ওইসব মানুষদেরই। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ