প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ১৪ জুলাইর পর বিধিনিষেধ শিথিলের সম্ভাবনা, মার্কেট খুলবে, গণপরিবহন চলবে

আনিস তপন: [২] চলমান বিধিনিষেধ, করোনা সংক্রমণের বর্তমান হারসহ সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে। একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কি সে বিষয়ে ধারণা নেয়ার জন্য শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে অনুষ্ঠিত বৈঠকে। তবে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কারণ বৈঠকের আলোচ্য বিষয়ের উপর সারসংক্ষেপ তৈরী কওে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পাঠানো হবে। সেখানে আরো আলোচনা হয়ে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

[৩] আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সূত্র জানায়, চলমান বিধিনিষেধে শ্রমজীবী ও দরিদ্র মানুষের আয় কমে যাওয়া. খাদ্য সংকট বৃদ্ধিসহ তাদেরই অধিকাংশ অংশের বেশি সমস্যা হয়েছে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যাদের জরিমানা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবি ও দরিদ্র মানুষ এ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।

[৪] আসন্ন ঈদে গার্মেন্ট কারখানা কত দিন ছুটি থাকবে, বেতন-ভাতা কখন কিভাবে মালিক পক্ষ পরিশোধ করবে, ঈদের আগে পরে কত দিন ছুটি থাকবে সে বিষয়ে বিজেএমইএ’র সঙ্গে আলোচনা হবে। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাদের শ্রমিকদের ঈদ উপলক্ষে গ্রামে আসা-যাওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কারণ ব্যবসায়ী এসব সংগঠনের আলোচনার প্রেক্ষিতে গণপরিবহন চলাচলে অনুমতি বা মার্কেট, শপিংমল খুলে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে স্বাস্থ্যঝুকির কথা চিন্তা করে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব যেমন রয়েছে তেমন আবার মানুষের জীবন-জীবিকা বিবেচনায় কিছুটা শিথিল হওয়া প্রয়োজন এই বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সভায় অনেক বিষয়ে অনেক তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন সভার আলোচনা এবং তথ্য উপাত্তসহ সব কিছু সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে পাঠানো হবে তার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তবে গার্মেন্ট শিল্প কবে থেকে বন্ধ হবে তার উপর অনেক সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

[৫] জানা গেছে, এসময় গরুর হাটের কারণে কিছুটা ছাড় দেয়ার সম্ভাবনা আছে। একটা দুয়ার অন্তত খোলার সম্ভাবনা আছে। খুলে দিলেও কয়দিন বা কত সময়ের জন্য তা সরকারের ভাবনায় রয়েছে। স্বাস্থ্যঝুকি বিবেচনায় ঈদের পর আবার কঠোর বিধিনিষেধ জারির মত সিদ্ধান্তে যাওয়ার ভাবনাও চলছে।

[৬] গত ঈদে বিধিনিষেধ থাকায় মানুষের বাড়ি যেতে অনেক দুর্ভোগ হয়েছে এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হতে পারে। কারণ ঈদে তো মানুষ বাড়ি যেতে চাইবে। বাবা-মা, পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে চাইবে। এখানে আবেগের বিষয় জড়িত এই বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। চলতি বিধিনিষেধের মধ্যেও মানুষের চলাচল একবারে বন্ধ করা যায়নি। পায়ে হেঁটে, রিকসা-ভ্যান গাড়ি, অটোরিক্সায় রাজধানীতে যেমন প্রবেশ করেছে আবার একই সময় ছেড়েছেও। এই বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। কারণ অন্তত ঈদে যদি গণপরিবহন চলে তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছুটা হলেও এক্ষেত্রে মানুষের চলাচলে উপকার হবে। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুকি থাকলেও সরকার ভাল কোন সিদ্ধান্ত দেবে। যা মানুষের চলাচলে কিছুটা উপকার হবে।

[৭] বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার কারণে সংক্রমণ একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে এখন রয়েছে। নমনীয় হলে যদি আবার তা ঊর্ধ্বমুখী হয় তবে তা ভয়ের কারণ হবে। এটাও সরকারের চিন্তা-ভাবনায় রয়েছে। তাই মধ্যপন্থা অবলম্বনের চিন্তা করছে সরকার। এজন্য ঈদের আগে-পরে অন্তত ৬ থেকে ৮ দিনের জন্য গণপরিবহনসহ অন্যান্য বিষয়ে নমনীয় হতে সরকারের ভাবনায় রয়েছে।

[৮] বৈঠকে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার মোবাইল কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেট সংকটের কথা উল্লেখ করে আরো কিছু ম্যাজিস্ট্রেট সেনা বাহিনীতে নিয়োগ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিবকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব অনুরোধ জানিয়েছেন।

[৯] এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ঈদে মাঠ প্রশাসন খোলা রাখা এবং কাজে যাতে কোন ব্যাঘাত না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া বাইরে আসলেও সরকারি কর্মকর্তাদের অসদাচরণ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

[১০] খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন জানান, আসন্ন ঈদে কোরবানির হাট ব্যবস্থাপনা এবং ঈদে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে করণীয় নির্ধারণসহ দরিদ্রদের খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

[১১] এক লক্ষের উপর পশু কোরবানির জন্য গত এক বছর বা তারও অধিক সময়ে খামারীরা প্রস্তুত করেছেন। এসব বিক্রি করতে না পারলে প্রায় এক লখ কোটি টাকার ব্যাবসা-বাণিজ্য নষ্ট হবে। আবার পশুর হাটের মাধ্যমে সংক্রমণ আরো বৃদ্ধি পেলে মৃত্যুর মিছিল শুরু হবে, এই আশঙ্কাও রয়েছে। করোনা সংক্রমণের বর্তমান গতি বিবেচনায় আরো দুই সপ্তাহ ঝুকি রয়েছে এই বিষয়টি বৈঠকে জানিয়েছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটি।

[১২] তিনি জানান খুলনা বিভাগের বর্তমান ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরবিচ্ছিন্ন অক্সিজেন সাপ্লাই, জনবল ও হাসপাতালের বেড বৃদ্ধিসহ কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

 

সর্বাধিক পঠিত