প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পায়রা বন্দর সংলগ্ন রাখাইনদের উচ্ছেদে ক্ষতিপূরণ ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] পায়রা বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ৩’শ বছরের প্রাচীন রাখাইন পাড়া বিলুপ্তির পথে। একসময় এ অঞ্চলে ২১৫ রাখাইন পাড়া ছিলো যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪০টিতে। কয়েকশো পরিবার উচ্ছেদ হওয়ার পর বন্দর এলাকায় বর্তমানে মাত্র ছয়টি পরিবার অবস্থান করছে।

[৩] নাগরিক সমাজের উদ্যোগে রাখাইন অধিবাসীদের অধিকার আদায় ও উচ্ছেদে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী, বিশিষ্ট ব্যাক্তি, ভুক্তভোগী ও সংবাদ কর্মীগণ। সকাল সাড়ে ১১ টায় ভার্চুয়ালি এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

[৪] ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস আদিবাসী রাখাইনদের ভূমি অধিকারের সুরক্ষা ও পায়রা বন্দর প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে ৪টি দাবি উত্থাপন করেন।

ক. অবিলম্বে কলাপাড়া উপজেলার ছয়আনি রাখাইনপাড়ার ৬টি আদিবাসী পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও তাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এমন জায়গায় পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

খ. মৃতদেহ সৎকারের জায়গা এবং বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের জায়গা ও অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পায়রা বন্দরে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।

গ. আদিবাসী রাখাইনদের ভূমি অধিকার সুরক্ষায় স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যু, দালালদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঘ. রাখাইন জনগোষ্ঠীসহ সমতলের আদিবাসীদের ভূমি অধিকার সুরক্ষা ও ভূমি বিরোধ নিস্পত্তির জন্য একটি পৃথক আদিবাসী ভূমি কমিশন প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করতে হবে।

[৫] মানবাধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা বলেন, র্দীঘ দিন থেকে পটুয়াখালি ও বরগুনা অঞ্চলের রাখাইনদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে, তবে আগের যে কোনো সময় থেকে এখন রাখাইনদের অবস্থা সংকটাপন্ন। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিকতার কোনো পর্যায়ে আছি আমরা সেটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ভাবে অস্তিত্ব খুঁজছি।

[৬] বাপার সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, রাখাইনদের শুধু ক্ষতিপূরণ দিলে হবে না তাদের উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানাই। আদিবাসীরা এতো সুন্দর মানুষ, সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের ঐশ্বর্য যা আমাদের ধারণ করা উচিত অর্থাৎ বাংলাদেশের বৈচিত্র, যদি অধিবাসীদের রক্ষা করা না যায় এটি আমাদের দ্বীনতার পরিচয়। পায়রা বন্দর প্রকল্প যেভাবে বাস্তবায়ণ করা হচ্ছে সেটি কোনো ভাবেই বিজ্ঞানসম্মত না। বড় কোনো ঘুর্ণিঝড় বা আইলার মতো দুর্যোগ আসলে এই চ্যানেল ভরাট হতে সময় লাগবে না।

[৭] ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, রাখাইন আদিবাসীদের উচ্ছেদ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্রের একইবারে বিপরীত।

[৮] অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পায়রা বন্দরের উন্নয়ন জনগণের জন্য নয়। আদিবাসীদের ভূমি অধিগ্রহণ করতে হলে অধিগ্রহণের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করতে হবে। অন্যায়-অত্যাচার, ভূমিহীন, স্যংখ্যালঘুদের উচ্ছেদ নিপীড়নসহ সমাজের নানা অসংগতি সামাধান মুক্তিযুদ্ধের অংশ।

[৯] মানবাধীকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে রাজনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নের কথা বলা হয়নি, মানুষের মুক্তির কথা বলে ছিলেন। এই মুক্তির মধ্যে সাম্য, মানব সভ্যতা, ন্যায়বিচার থাকবে। সকলের কাছে প্রশ্ন, এই কথাগুলো কি শুধু কথার কথা ছিলো, নাকি আমরা চেয়েছি বলে লিখেছি, বলেছি? অথচ সবকিছুর ব্যত্বয় ঘটছে।

[১০] ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, পায়রা বন্দর সংলগ্ন ৩ শ বছরের ছয়আনিয়াপাড়া রাখাইন গ্রামটি পায়রা বন্দরের উন্নয়নের কারণে উচ্ছেদের সম্মুখীন হওয়ায় তা রক্ষার দাবি জানান।

[১১] তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ সালে কলাপাড়া, কুয়াকাটাসহ পটুয়াখালী অঞ্চলে এক লাখের বেশি রাখাইন বাস করতেন। রাখাইনদের প্রধান নেতা উসুয়ে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে জেল খাটেন এবং মুক্তিযুদ্ধে অনবদ্য ভূমিকা পালন করেন।

সর্বাধিক পঠিত