প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিররঞ্জন সরকার: নিজের ধর্ম-মত প্রতিষ্ঠার জন্য যারা অন্যের গর্দান কাটে, নৃশংসভাবে প্রাণ কেড়ে নেয়, তারা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না

চিররঞ্জন সরকার: ‘আর কয়েক মুহূর্ত পরে মেরে ফেলা হবে তাকে। ইশরাত আখন্দের পাশে দাঁড়িয়ে দুই জঙ্গি তখনও নিজেদের মধ্যে মৃদু তর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। নাম জানতে চেয়েছিলো তারা। ‘ইশরাত’ শুনে এক জন বলেছিল, ‘ও বাঁচার জন্য ধর্মের নাম (মুসলিম নাম) নিচ্ছে। মুসলমান হলে হিজাব পরেনি কেন? মাথায় কাপড় নেই কেন?’ হিজাব পরার অভ্যেসটা ছোট থেকেই ছিলো না ইনস্টিটিউট অব এশিয়ান ক্রিয়েটিভস নামে একটি আর্ট গ্যালারির প্রাক্তন প্রধান ইশরাতের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনীর উচ্চশিক্ষা অস্ট্রেলিয়ায়। ওই আর্ট গ্যালারি ছাড়াও কাজ করেছেন বিভিন্ন সংস্থার উচ্চ পদে। নিজে শিল্পী। আবার মিউজিক ভিডিওয় অভিনয়ও করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় কফি খেতে গিয়েছিলেন গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে। জঙ্গিদের নাগাল এড়িয়ে পালানো ওই ক্যাফের এক কর্মী খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন ইশরাতের শেষ মুহূর্তগুলো। তিনিই জানিয়েছেন, ইশরাতের দিকে এগিয়ে আসা জঙ্গির প্রথম প্রশ্নই ছিলো, ‘তোমার মাথায় হিজাব নেই কেন?’ ইশরাত তাকে জানান, তিনি বাংলাদেশেরই নাগরিক। তবে কোনো দিনই হিজাব পরেননি। এর পরেই তার নাম জানতে চাওয়া এবং তা নিয়ে দুই জঙ্গির আলোচনা। মিনিটখানেকের একটু বেশি সময় ধরে ব্যাপারটা গড়ায়। এই সময়ে তৃতীয় এক জঙ্গি এসে বলে, ‘আমাদের হাতে কিন্তু বেশি সময় নেই।’ জঙ্গির ধারালো অস্ত্র নেমে আসে তখনই। ইশরাত পড়ে থাকেন কফির কাপে মুখ থুবড়ে।’

‘ধর্মবিশ্বাসে’ উন্মত্ত হয়ে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা। তারা অস্ত্রের মুখে দেশি-বিদেশি অতিথিদের জিম্মি করে। ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো দেশ। সেদিন জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে, যাদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি। সেই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা নিহত হন। ভয়াবহ সেই হামলার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো ১ জুলাই। সেদিনের জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা। নিজের ধর্ম-মত প্রতিষ্ঠার জন্য যারা অন্যের গর্দান কাটে, নৃশংসভাবে প্রাণ কেড়ে নেয়, তারা আর যাই হোক মানুষ হতে পারে না। ধর্ম-মত প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার এই ঘৃণ্য চর্চা বন্ধ হোক। ধর্ম হোক মানুষকে বাঁচানোর মন্ত্র। ধর্ম চর্চা হোক মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে। মানবধর্ম ছাড়া অন্য সব ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ হোক। ফেসবুক থেকে

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত