শিরোনাম
◈ পাহাড়ি আম-আনারসসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা, চাঁদাবাজি বন্ধে গুরুত্ব সরকারের ◈ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ◈ ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত ◈ দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্ত কেজরিওয়াল-মমতা, আটককে ‘অপহরণ’ বললেন তৃণমূল নেত্রী ◈ সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত বহু যাত্রী; বাতিল বহু ফ্লাইট ◈ আবুধাবি টেস্ট, বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে লড়‌ছে আফগা‌নিস্তান, এখ‌নো ১৩৫ রানে পিছিয়ে ◈ যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, শিশুসহ নিহত ৯ ◈ ফেসবুকে পরিচয় কে এই রাজু, ১৭ দিনের সম্পর্কের পর কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে কী ঘটেছিল স্কুলছাত্রীর সঙ্গে ◈ চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি: বাংলাদেশের লাভ কতটা, ঝুঁকি কোথায়? ◈ কোনো দেশের মুখাপেক্ষী নয়, সমমর্যাদার অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৯ জুন, ২০২১, ০৬:১১ বিকাল
আপডেট : ২৯ জুন, ২০২১, ০৮:২১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কিছু সংশোধন এনে বুধবার ২০২১-২২ সালের বাজেট পাশ

বিশ্বজিৎ দত্ত: আয়কর, কাস্টম ও ভ্যাটে কিছু পরিবর্তন হলেও মূল বাজেট কাঠামোতে কোন পরিবর্তন না করেই বুধবার পাশ হচ্ছে ২০২১-২২ সালের বাজেট। সরকার এবারের বাজেটকে বলছে জীবন ও জীবিকার বাজেট। যদিও স্বাধীন অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বাজেটে কোভিডকালীন নতুন দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ বাড়েনি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিতেও বরাদ্দ বৃদ্ধি পায়নি, অতিমারিতে বেকার হয়ে আয় কমে যাওয়া মানুষদের দিকে যথাযথ নজর দেয়া হয়নি বাজেট বরাদ্দে।

প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ছয় লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে ঘাটতি দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এবারও বড় ঘাটতির বাজেট। ২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০তম বাজেট এটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে জনপ্রশাসনে। ভর্তুকি, প্রণোদনা, পেনশনসহ মোট পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের ১৮.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এ খাতে। বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ৮৫ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। যদিও আনুপাতিক হারে এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জনপ্রশাসনে মোট বাজেটের ১৯.৯ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাত। এ খাতে মোট বাজেটের ১৫.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। আনুপাতিক হারে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে মোট বরাদ্দের ১৫.১ শতাংশ দেওয়া হয় শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে।

বাজেটে সরকার যে বাড়তি ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে, তার সিংহভাগই হবে করোনা মহামারির প্রভাব মোকাবিলায়। এর অংশ হিসেবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত সংকট মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরেরও ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আবার করোনাভাইরাসের কারণেই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বাড়িয়েছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত এ বাজেটে, যা মোট বাজেটের ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। যেখানে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা।

আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে এ বাজেটে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর দেওয়ায় সমর্থ হলেও কর প্রদানকারীর সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ২৫ লাখ ৪৩ হাজার। ফলে কর ফাঁকি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণসহ তাদের কর জালের আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এ বাজেটে থাকবে। এছাড়া আমাদের রাজস্ব জিডিপির অনুপাত সম-অর্থনীতির অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। ফলে রাজস্ব জিডিপি অনুপাত বর্তমানের যৌক্তিক পর্যায়ে বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ বাজেটে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উৎস থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরও ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াবে দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ঘাটতি পূরণ অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

  • সর্বশেষ