প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চট্টগ্রামে বাসার ভেতরে দেশি মদের কারখানা, আটক ৬

রাজু চৌধুরী : [২] চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন বদ্দারহাট এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে গড়ে তোলা হয়েছে মদ তৈরির কারখানা। অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

[৩] রোববার (২৭ জুন) পাঁচলাইশ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবু বকর সিদ্দিক এই ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেন।

[৪] তিনি বলেন, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচশাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে, খতিবেরহাট এলাকায় মসজিদের পশ্চিম পাশে কবরস্থান ও মাদ্রাসার পিছনে একটি পাঁচ তলা ভবনের ৫ম তলায় দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৭শ ৬ লিটার দেশিয় মদ উদ্ধার করা হয়।এই সময় মাদক ব্যবসায়ী ও মদ তৈরির কারিগরসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, আটককৃত দেশি চোলাই মদ বিক্রেতারা পুলিশের নজর এড়াতে কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশের ভবনে ফ্ল্যাট ভাড়া করে গড়ে তুলেছিল মদ তৈরির কারখানা। তাদের তৈরিকৃত দেশি মদ সহজে ও বেশি দামে নগরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করার জন্য এই কারখানায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ী আসত।

[৫] গ্রেপ্তারকৃতরা ৬ জনই রাঙামাটি জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- উচির দোয়াই মারমা (88), মাসাং মারমা (৪০), আইজিং মারমা (৩৩), যে মারমা (৪০), আছেমা মারমা (৩০) ও ইইয়ং মারমা (২০)।

[৬] আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পাঁচলাইশ জোনের এসি শহীদুল ইসলাম, উত্তর বিভাগের পরিদর্শক (ক্রাইম) মো. মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো.কবিরুল ইসলাম।

[৭] পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, মসজিদের পশ্চিম পাশে কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশে একটি দুইটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ১ বছর ধরে মদ তৈরি করে আসছে তারা। ওই এলাকায় মানুষের চলাচলও বেশি ছিল। কবরস্থান ও মাদ্রাসার পাশের ভবন হিসেবে পুলিশকে ফাঁকি দেওয়ার জন্যই তারা ফ্ল্যাটগুলো বেছে নিয়েছিল।

[৮] তিনি আরও বলেন, তৈরিকৃত মদ পলিথিন ও স্যালাইনের ব্যাগে করে নগরের লালখান বাজার, চকবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হতো। নগরের বিভিন্ন স্থানসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরিকৃত দেশিয় মদ ও মদ তৈরির উপকরণ সরবরাহকারী এবং মদের ক্রেতা-বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মদের কারখানা তৈরিতে সহায়তার জন্য ভবনের মালিক বা অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত