শিরোনাম
◈ বিশ্বকা‌পে মারা‌দোনা‌কে নি‌য়ে এক প্রজন্মের হৃদয়ভাঙার গল্প! ◈ চার দিন শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর ১২ জনকে ফেরত নিল ভারত ◈ ভারতের ভিসা আবেদনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় যে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে আইভ্যাক ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হচ্ছে! ◈ এসএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে যা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ◈ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে সরকার ◈ প্রাথমিকে সঙ্গীত শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেনি মন্ত্রিপরিষদ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী ◈ হাসপাতাল বন্ধ, তবে বন্ধ হচ্ছে না আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ, বিকল্প হাসপাতালে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ◈ ৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেই ঝড় তুলল সুইডেন, তিউনিসিয়াকে ৫-১ ব্যবধানে হার ◈ আইন ভেঙে ঢাকার ভালো মাঠ পার্ক অভিজাত সোসাইটিকে দিচ্ছে রাজউক ও সিটি করপোরেশন

প্রকাশিত : ১৯ জুন, ২০২১, ০১:১১ রাত
আপডেট : ১৯ জুন, ২০২১, ০১:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসান শান্তনু: নব্য মৌলভি ত্ব-হার বিষয়ে প্রশাসন কঠোর হবে?

হাসান শান্তনু: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত, যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বখতিয়ার কামাল ২০১৫ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে 'নিখোঁজ' হন বলে সংবাদ প্রচারিত, প্রকাশিত হয়। তাঁর এক স্ত্রীর পক্ষে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় এ বিষয়ে তখন সাধারণ ডায়েরিও হয়। বিএনপিপন্থী এ চিকিৎসকের 'সন্ধানের' বদলে তাঁর কোনো কোনো সহকর্মী, অনুসারী তখন 'সরকার পতনের' দাবি জানান। 'নিখোঁজের' সপ্তাহ খানেক পার হওয়ার আগেই জানা যায়, যৌন বিশেষজ্ঞ ডা. বখতিয়ারের আত্মগোপনে যাওয়ার মূল কারণ ছিলো তাঁর ব্যক্তিগত যৌনতা। দ্বিতীয় স্ত্রী, বা বান্ধবীর সঙ্গে কয়েকদিন কাটাবেন- এ কথা প্রথম স্ত্রীর কাছে লুকাতে তিনি মুঠোফোন সেটসহ অন্য যোগাযোগ বন্ধ রেখে আত্মগোপন করেন।

'নিখোঁজের' আটদিন পর আজ শুক্রবার 'উদ্ধার' হয়েছেন কথিত ধর্মীয় বক্তা আবু ত্বহাসহ তার চার সাথী। পুলিশের দাবি, ত্বহাসহ চারজন ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। ত্বহার একাধিক বিবি, বা স্ত্রী থাকায় ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতার কারণে ডা. বখতিয়ারের মতো, বা কোন কারণে তিনি আত্মগোপন করেছেন- এ বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নাগরিকদের কাছে উপস্থাপনের পুরো দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। তবে ত্বহা ইসলাম ধর্মের যে 'রাজনৈতিক সংস্করণে' বিশ্বাস করেন, সেটা খুবই ভয়ানক। ইউটিউব চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তার কথিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা বলছে, তিনি কট্টর ওহাবিবাদে বিশ্বাসী।

প্রচলিত রাষ্ট্র, সমাজ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে 'ইসলামি শাসন ব্যবস্থা' চান ত্বহা, তার অনুসারীরা। আল কায়েদা, আইএসআইসহ পৃথিবীর সব প্রান্তের ইসলাম ধর্মীয় জঙ্গি সংগঠন একই মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি ঢাকাকে অ্যাখ্যায়িত করেছেন 'কেয়ামতের শহর' হিসেবে। আইএসআইয়ের আদলে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকার মতো ঢাকাকে ধবংস করার 'জেহাদি পরিকল্পনা, সেই লক্ষ্যে কার্যক্রম' আছে কী না- কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ, পরিপূর্ণ তদন্তের মধ্য দিয়ে এসব বিষয়ে প্রশাসনের নিশ্চিত হওয়া জরুরি। তিনি কোনো অর্থেই ধর্মীয় চিন্তাবিদ নন, তার বক্তব্যের পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে উগ্রতা, উস্কানি।

'নিখোঁজের' পর যে গোষ্ঠী ত্বহাকে 'মহান ইসলামি চিন্তাবিদ' হিসেবে তুলে ধরেছেন, তারা আসলে সরকারকে 'ইসলামবিদ্বেষী' হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন! ইসলামের কথিত এ প্রচারক জনপ্রিয় বক্তা হওয়ায় 'দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের অংশ হিসেবে' সরকার তাকে গুম করেছে- এমন কথাও বলেছেন তারা। যে কোনো সরকারের সমালোচনার নানা দিক থাকে।সরকারের কাঁধে 'ধর্মনাশের ষড়যন্ত্রের' দোষ চাপাতে গিয়ে চরম উগ্রবাদী একজনকে 'চিন্তাবিদ' বানিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিটা সমাজ ও রাষ্ট্রেরই হবে। ত্বহার 'ওয়াজ, বয়ানে' তরুণ, যুব সমাজ থেকে ধর্মীয় উগ্রবাদী জন্ম নেয়ার আশঙ্কাকেই ভাবনাচিন্তায় বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। রাষ্ট্রবিরোধি উস্কানি দেয়া, মধ্যযুগীয় নারীবিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রশাসন নেবে কী?

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়