প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকন রেজা: করোনায় মৃত্যু না সাকিবের লাথি, কোনটা জরুরি?

কাকন রেজা : পাকিস্তান গাধা রপ্তানি করে তাদের আয় বাড়াচ্ছে, ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর এমন একটা খবরে বড় মনোকষ্ট পেয়েছি। বলা হয়, পাকিস্তান আমাদের থেকে সব বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে, তাহলে গাধা রপ্তানিতে কেন এগিয়ে থাকবে! আমাদের ওই জিনিস কম আছে নাকি? গাধার জন্ম না উৎপাদন বলবো, যাই হোক তাতে নাকি পাকিস্তান সারাবিশে^ তৃতীয়। প্রথম হলো চীন। আমদানিতেও চীন প্রধান। কারণ চীনাদের ধারণা গাধার তেল নানা ওষুধি কাজে লাগে। বিশেষ অঙ্গের বল বৃদ্ধিতেও নাকি গাধার তেল বেশ উপকারী। কিন্তু কথা সেটা না, এক্ষেত্রে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো, কথা সেটা। আবার বলছি আমাদের তো ওই জিনিস কম নেই। শুধু পায়ের রকমফের। চারপেয়ে না হলেও দুপেয়ে প্রচুর রয়েছে।

নিজেদের কথায় আসি। আমরা এখন নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। দুর্নীতি, টাকা পাচার এসবের বিতর্ক তো গুঞ্জরিত হচ্ছেই। একজন বলছেন, টাকা পাচার হচ্ছে, কিন্তু আমরা করছি না, অন্যরা করছে। ওই যে, ‘ঘরের কথা পরে জানলো কেমনে’র অবস্থা। বিভিন্ন জায়গায় শক্তিমানদের পেশী ও অস্ত্র প্রদর্শনীও চলছে। চলছে, খুন-জখম-গুম, সড়ক দুর্ঘটনা সব। বৃষ্টিতে ভাসছে ঢাকা, চট্টগ্রাম। রাস্তা নিয়ে ট্রল হচ্ছে।

এসব ছাপিয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এই করোনার নিদানকালে আমাদের টিকা কার্যক্রম বন্ধ। মধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে সারাবিশ্বে আর কোনো দেশের টিকা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে কিনা আমার ঠিক জানা নেই। প্রথম ডোজ তো বন্ধই, দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমান ১৪ লাখ মানুষকেও সে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমাদের টিকা প্রাপ্তির সবেধন নীলমনি যে উৎস তা বন্ধ। এখন রীতিমতো হারিকেন হাতে খোঁজা হচ্ছে টিকা। অবশ্য শেষ কথা যা জানা যাচ্ছে তাতে চীনের সাথে টিকা কেনার চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। সাথে অ্যামেরিকা দিচ্ছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা’র প্রায় ১১ লাখ ডোজ টিকা। যা দ্বিতীয় ডোজের জন্য অপেক্ষমানদের দেওয়া হবে। তবে সেই টিকা আসার নিশ্চিত দিনক্ষণ জানা যায়নি।

এদিকে দুই ডোজের টিকার মধ্যে ব্যবধান বাড়লে করোনায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বাড়ে এমন কথা বলছেন অ্যামেরিকার বিখ্যাত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। বললাম, আমাদের প্রথম ডোজ তো বন্ধই, দ্বিতীয় ডোজের জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তার মধ্যে ছড়াচ্ছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। ভয়ংকর সংক্রামক এই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি এবং প্রাণঘাতীও। আমাদের দেশের সীমান্ত অঞ্চলগুলো এখন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে বিপর্যস্ত। সীমান্ত অঞ্চলগুলোর হাসপাতালগুলিতে ঠাঁই নেই। অক্সিজেন স্বল্পতার কথাও জানান দিচ্ছে গণমাধ্যম। একদিকে টিকা নেই, অন্যদিকে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ। অর্থাৎ জীবন-মৃত্যুর এক ভয়াবহ যুদ্ধে অবতীর্ণ বাংলাদেশ।

অথচ দেখুন, এ নিয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের তেমন চিন্তা বা উদ্বেগ নেই। তাদের চিন্তা-উদ্বেগ নানা কারণে। আর এই মুহূর্তে বড় চিন্তা হলো ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান কেন স্ট্যাম্পে লাথি মারলেন। সাকিবের এই লাথি এখন সব ছাপিয়ে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানি না, ‘সাকিবের লাথি’ বিষয়েও কোনো বিশেষ কলাম লেখা হচ্ছে কিনা। জীবন এবং মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও যখন ক্রিকেট মাঠের গল্প তথা ‘সাকিবের লাথি’ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন কেন পাকিস্তান গাধা রপ্তানিতে আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে! জান-জবানের চেয়ে যেখানে খেলা বড় হয়ে ওঠে চিন্তা করে দেখুন তো, সেখানে রপ্তানি না করতে পারা কতটা বেদনাদায়ক।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সর্বাধিক পঠিত