প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ : সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে উত্তম

খান আসাদ : প্রচলিত ‘লুটেরা পুঁজিবাদী’ ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশ কী অচিরেই একটি সুষমবণ্টনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বদলে যেতে বা বিবর্তিত হতে পারে? এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন কি সম্ভব? বাংলাদেশের লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বদল হলে, কী কী বদলে যাবে? অর্থনীতি ক্ষেত্রে, উন্নয়ন নীতি ও বাজেট প্রণয়ন ব্যবস্থা বদলে যাবে। বর্তমান উন্নয়ননীতির মৌলিক দর্শন হচ্ছে, একটি পুঁজিপতি শ্রেণি তৈরি করা, যারা কর্মসংস্থান বাড়াবে। আগামীর সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, তিন ধরনের মালিকানা হবে, সমবায়ী, রাষ্ট্রীয় এবং সত্যিকার শিল্প উদ্যোক্তা ব্যক্তি/যৌথ মালিকানার। লুটেরা অর্থনীতির বদলে, সংহতি অর্থনীতি। মিস্ত্র ধরনের মালিকানা, যা লুটেরা পুঁজির মনোপলি বিলুপ্ত করবে। রাজনীতি ক্ষেত্রে, ভোটের গণতন্ত্রের বদলে জনগণতন্ত্র হবে। ভোটের গণতন্ত্রের যে সমস্যা, কালো টাকা, পেশীশক্তি, ধর্মের ব্যবহার, মিডিয়ার ব্যবহার এবং আমলাতন্ত্র ব্যবহার বন্ধ হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থাকবে, যারা ব্রডলি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অঙ্গীকার ধারণ করবে। কারণ লুটেরা ব্যবস্থা থেকে সুষমবণ্টনের চেতনা ও অঙ্গীকার আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেই আছে। তবে, নির্বাচন বা ভোটাভুটি হবে অনেক পর্যায়ে এবং অনেক নীতিগত বিষয়ে। যেমন, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন হবে ‘জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, উন্নয়ননীতি নির্বাচন।

জনগণ যে উন্নয়ননীতি পছন্দ করবে এবং যারা এই উন্নয়ননীতি প্রস্তাব ও বাস্তবায়নে দক্ষ তাদেরকেই নানা পদে দায়িত্ব দেবে, এবং বাৎসরিক মূল্যায়ন করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিও দেবে। শিক্ষা ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে, কুদরত ই খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট আরও কিছু সংস্কার করে, বাস্তবায়িত হবে। শিক্ষা হবে প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। একজন বিশ্বনাগরিকের মানের জ্ঞান ও দক্ষতা লাভ করবে। নিজের সম্ভাবনা বিকাশের অনুকূল শিক্ষা পাবে। শিক্ষার ফলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, আরও মানবিক ও পরিশীলিত একটি ব্যবস্থা অর্জন, যা একটি সমাজবিপ্লব, তা কী শান্তিপূর্ণভাবে সম্ভব? কোনো গণঅভ্যুত্থান বা সশস্ত্র বিপ্লব ছাড়া? এই প্রশ্নের কোনো সঠিক বা বেঠিক উত্তর নেই। কারণ এর উত্তর নির্ভর করে, যারা ব্যবস্থাবদলে নেতৃত্ব দেবেন, তাদের জ্ঞানের ক্ষমতার ও আন্দোলন গড়ে তোলার দক্ষতার ওপর। তবে, যারা সহিংসতার পথেই কেবল সমাজবিপ্লব হবে বলে বিশ্বাস করেন, তাদের চিন্তার সমস্যা হচ্ছে, অভিজ্ঞতাবাদ। মানে, সমাজবদলের প্রশ্ন এলেই ফরাসী বিপ্লব, রাশান বা চীনা বিপ্লবের অভিজ্ঞতা মাথায় আসে। কিন্তু রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র বা পূর্ব ইউরোপের ব্যবস্থা বদলে তেমন কোনো সহিংসতা ছিলোনা। অর্থাৎ সমাজবদল করতে হলে, সহিংসতাই একমাত্র পথ, অন্য বিকল্প নেই, এই ধারনাটি ভুল। সমাজবিপ্লবের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বদলের জন্য তিনটি পূর্বশর্ত দরকার। একটি হচ্ছে সমাজমনোবৈজ্ঞানিক; মানুষ বিরক্ত, ক্ষুদ্ধ, বৈষম্য অন্যায় অবিচার ব্যবস্থা থেকে মুক্তি চায় কি না।

বাংলাদেশে সংকটের অবস্থাটি এই পর্যায়ের যে মানুষ পরিবর্তন চায়। দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, এমন একটি বিপ্লবী রাজনৈতিক নেতৃত্ব যারা সংগঠিত ও ক্ষমতা গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তত। তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, মতাদর্শগত সমাজ শক্তি কী রকম। লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যাবস্থার চেয়ে সুষমবণ্টনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে উত্তম। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতার কারণে, এই ভাবনার একটি সমাজ শক্তি আছে। এই সমাজশক্তি কিন্তু বাংলাদেশের নানা শ্রেণী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে এমন একটি বিপ্লবী তত্ত্বের দরকার যেটি কীভাবে পরিবর্তন প্রত্যাশী সমাজ শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হবে এবং কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তা উপস্থাপন করবে। বিপ্লবী তত্ত্ব নির্মাণ করতে হলে, আগে, কারা সংশোধনবাদী, এনজিওবাদী, বা ছহি মার্ক্সবাদী নয়, ইত্যাদি বিষয় দূরবীন দিয়ে অনুসন্ধান করা বন্ধ করতে হবে। আমাদের একটি কার্যকর বিপ্লবী তত্ত্ব দরকার, যা মার্ক্সবাদ বিষয়ক টীকা ভাষ্য নয়, বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও থিয়োরি অফ চেঞ্জ। এমন একটি বিপ্লবী নেতৃত্ব দরকার যারা পরিবর্তনকামী সমাজশক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে চায়, ভবিষ্যৎ সমাজ স্বপ্ন নিয়ে মতবিনিময় করতে চায় এবং রাষ্ট্রপরিচালনার সাহস রাখে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত