শিরোনাম
◈ বেনাপোল বন্দরে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য, পাসপোর্টধারীর ৩০ হাজার টাকা ছিনতাই ◈ জুলাই আন্দোলনের শহীদ-আহতদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার নির্দেশ ◈ আওয়ামী শাসনামলের তিনটি নির্বাচনের পোস্টমর্টেম হওয়া প্রয়োজন: তথ্যমন্ত্রী ◈ সাকিব আল হাসান শুধু অবসরের জন্য নয়, ফিরলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিরবেন, আশা হাবিবুল বাশার সুমনের ◈ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কোন পথে, উত্তপ্ত হতে পারে সংসদ ◈ সংসদে ১১ জুন নতুন বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী ◈ বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ দিলেন আসিফ নজরুল ◈ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ◈ রমজানের ঘাটতি পূরণে ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় ◈ মানহানি মামলায় জামিন পেলেন ইনু, মেনন ও বিচারপতি মানিক

প্রকাশিত : ০৮ জুন, ২০২১, ০৫:৫৮ বিকাল
আপডেট : ০৮ জুন, ২০২১, ০৫:৫৮ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কল্লোল তালুকদার: মৃতপ্রায় কানাইখালী নদী

কল্লোল তালুকদার: "আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।"
ছবির ছোটো এই নদীটির নাম কানাইখালী। যত্রতত্র অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে এখন সে "নদী" পদবাচ্যটি হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। আমাদের গ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে ছোট্টো এই মৃত স্রোতস্বিনীটি অতীতে প্রবাহিত হতো। এটি মূলত পাগনার হাওরের মধ্য দিয়ে প্রবহমান সুরমার ছোটো একটি শাখা।
কাশবন না থাকলেও আমাদের ছোটো নদীর দুই পাড়ে আছে গহন করচবন।
#করচ জলাবদ্ধতা-সহিষ্ণু মাঝারি আকারের চিরহরিৎ বৃক্ষ। ৭-৮ মাস পানিবন্দী হয়ে থাকলেও তার কোনো সমস্যা হয় না। আবার এরা খরা-সহিষ্ণুও বটে।
হাওরাঞ্চলে একসময় করচ প্রাকৃতিকভাবে বিপুল সংখ্যায় জন্মাতো। বিলের পাড়ে বা কান্দায় করচবাগ মানে-ই তা মাছ, জলজ প্রাণী ও পাখপাখালির খাদ্যভাণ্ডার ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল। কিন্তু জনসংখ্যা বিস্ফোরণের কারণে এটি এখন সংখ্যালঘু প্রজাতি। হাওরের প্রাকৃতিক সোয়াম্প ফরেস্ট এখন কেবল স্মৃতি! ছবির বনটিও প্রাকৃতিক নয়; বনায়নের ফসল।
হাওরের বৈরী পরিবেশে জনবসতি বিস্তারে যে তিন-চারটি বৃক্ষ-প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, করচ তাদের অন্যতম। এসব বৃক্ষ বর্ষায় হাওরের দ্বীপ-সদৃশ গ্রামগুলোকে প্রলয়ঙ্কারী ঢেউ ও আফালের হাত থেকে রক্ষা করতো।
করচের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Millettia pinnata; এই নামটি সম্প্রতি গৃহীত হয়েছে। আগের নাম Pongamia pinnata এখন সমনাম হিসেবে বিবেচিত হয়। আঠারো শতকের ফরাসি তরুবিদ J A Millett করচের নমুনা সর্বপ্রথম সংগ্রহ করেছিলেন বলে তাঁর স্মরণে বৃক্ষটির গণ নাম রাখা হয়েছে "মিল্লেটিয়া"। প্রজাতিক পদ "পিনেটা" অর্থ পক্ষল বা পালক-সদৃশ। পত্রাক্ষে অণুফলকের সজ্জার ধরনের জন্য এই নাম। আসলে করচের পাতা সচূড় পক্ষল (imparipinnate), অর্থাৎ পত্রাক্ষের শীর্ষে একটি অণুফলক বা পত্রক বিদ্যমান।
করচ নামটি এসেছে সংস্কৃত #করঞ্জ হতে। ক-রঞ্জ, অর্থাৎ এখানে "ক" অর্থ মাথা; এই বৃক্ষের বীজের তেল দ্বারা মাথার চুল রঞ্জন করা যায়। প্রাচীন বৈদ্যকগণের নথিতে গাছটির আরও দুটো নাম পাওয়া যায়; যথা- #নক্তমাল ও #চিরবিল্ব। নক্ত শব্দের অর্থ রাত, আর আল শব্দের অর্থ জ্বলিত; অর্থাৎ এর বীজের তেল রাতে প্রজ্জ্বালন করা হয়- তাই নাম "নক্তমাল"। ভৈষজশক্তি সম্পন্ন বৃক্ষটি অনেকক্ষণ ধরে বমি করাতে সক্ষম, তাই নাম চিরবিল্ব।
করচের বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তার নাম পোঙ্গাম তেল। মালাবার অঞ্চলে গাছটির স্থানীয় নাম পোঙ্গাম থেকে পোঙ্গামিয়া শব্দটি উদ্ভূত হয়েছে।
হাওরবাসীর যাপিত জীবনে বহুবিধ কাজের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান করচ গাছ। কিন্তু নির্বিচারে বন উজাড় করার কারণে হাওরের জলাবন প্রায় বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে।
(লেখকের ফেইসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়