প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শিশু অপহরণের পর হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

মাসুদা ইয়াসমিন: [২] ঢাকার আশুলিয়ায় বাড়িওয়ালার ছেলে রাজা মিয়া (৯) কে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে (৩২) হত্যার ২ মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

[৩] রোববার (৬ জুন) ভোরে পাবনা জেলার সুজানগর সদর থানার তারাবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

[৪] গ্রেপ্তার আরিফুল পাবনা জেলার সুজানগর থানার ভাতশালা গ্রামের তফিজ উদ্দিনের ছেলে। ২৯ মার্চ ঘটনার দিনই লিজা আক্তার (২২) নামের এক তরুনীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা স্বামী- স্ত্রীর পরিচয়ে একই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পার্শ্ববর্তী পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

[৫] নিহত শিশুর রাজা মিয়া (৯)। সে আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি এলাকার কালাম মাদবরের ছেলে।

[৬] পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয় রাজা মিয়া। রাতে শিশুটির বাবা কালামের মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি ফোন করে রাজাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানান। তার মুক্তির বিনিময়ে চাওয়া হয় ৫০ লাখ টাকা। বলা হয়, ওই ব্যক্তি রাজধানীর উত্তরা সেক্টর থেকে ফোন করেছেন। মুক্তিপণ চাইলে ভুক্তভোগীর বাবা আশুলিয়া থানায় খবর দিয়ে শিশুকে খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরে তার বাড়িরই চারতলা থেকে একটি বস্তায় পাওয়া গেছে রাজার মরদেহ। সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, রাজাকে সর্বশেষ বাড়ির সামনের একটি চায়ের দোকানে আরিফুলের সঙ্গে দেখা যায়। এর ভিত্তিতে আটক করা হয় আরিফুলের স্ত্রী লিজাকে এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওই ফ্ল্যাটের বেলকোনিতে বস্তাবন্দি রাজার মরদেহ রাখার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে পুলিশ আরিফুলের স্ত্রীকে আটক করে আদালতে পাঠায়। এর দুই মাস পর আজ ভোরে প্রধান অভিযুক্ত আরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

[৭] আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক এসআই আল-আমিন জানান, আরিফুল ও লিজা ভবনের যেই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন, সেখানেই বারান্দায় রাখা ছিল রাজার মরদেহ। তার হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় গোঁজা ছিল। ধারণা করা হয়, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর বস্তায় ভরে ফেলে রাখা হয়। রাজা নিখোঁজের পর থেকেই পলাতক ছিলেন আরিফুল। দ্রুত স্থান পরিবর্তনের কারনে আরিফুলকে গ্রেফতার এর জন্য বেগ পেতে হয়েছে। সে কখনো নারায়নগঞ্জ, কখনো গাজীপুরের মাওনাসহ বিভিন্ন স্থান বদল করছিলো। সর্বশেষ প্রযুক্তির সহায়তায় পাবনায় গ্রামের বাড়িতে আরিফুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

[৮] এরআগে এ মামলায় লিজা বেগম নামের যে নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে আরিফুলের স্ত্রী ছিলো না। স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা বাসায় বসবাস করতো। টাকার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আরিফুল। রিমাণ্ড চেয়ে আজ দুপুরেই তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত