প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাহিদুর রহমান: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে কোন এলাকায় কী পরিমাণ সংক্রমণ, সেটির ওপর নির্ভর করে, ধাপে ধাপে

জাহিদুর রহমান : করোনাভাইরাসের ভারতীয় বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাড়াবাড়ি বন্ধ করুন। যতো দিন যাবে, ততো বেশি এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যাবে। এটাই সায়েন্স। যুক্তরাজ্যে এই মুহূর্তে ৭০-৮০ ভাগই এই ভ্যারিয়েন্ট। বিশে^র ৬৪টি দেশে অফিসিয়ালি এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যতোগুলো নমুনার জেনোম সিকোয়েন্সিং করা হবে, তার প্রায় শতভাগ এই ভ্যারিয়েন্ট বা এটির কাছাকাছি কিছু পাওয়া যাবে। এই পর্যন্ত আবিষ্কৃত হওয়া সবগুলো করোনা ভ্যাকসিন এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর। কতোটা বেশি আর কতোটা কম কার্যকর, এক ডোজ নিলে কী হবে, এতো কিছু আপনার জানা লাগবে না। মনে রাখবেন, শুধু বাংলাদেশ না আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও ক্ষমতাবানরা নিয়ন্ত্রণ করে, তারা নিজেদের স্বার্থ বিবেচনায় গবেষণার তথ্য প্রকাশ করে। সারা বিশ্বে এখন সবচে বড় স্নায়ু যুদ্ধ হচ্ছে করোনা ভ্যাকসিন বাণিজ্য নিয়ে।

ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবেশ ঠেকানো বাস্তবে অসম্ভব। কিন্তু সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে সারা দেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া অন্তত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সুতরাং বেশি আক্রান্ত জেলাগুলোতে এন্টিজেন টেস্টসহ যতো বেশি সম্ভব টেস্ট করা, সদর হাসপাতালে হাই ফ্লো অক্সিজেন সরবরাহ করা এবং লকডাউন, এর বাইরে আর কোনো কথা নেই। আর বড় স্যারদের প্রতি অনুরোধ, লোকজনকে মুখস্থ উপদেশ দেওয়া বন্ধ করে সবাই নিজের কাজটুকু করেন। আপনাদের লেকচার শুনতে শুনতে সবাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ একেবারে শুরু থেকেই ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অধিকাংশ দেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। বিপ্লব ঘটানোর আগে পড়াশোনা করেন। আপনি যখন অক্সফোর্ড নেবো না ফাইজার নিবো বলে আহ্লাদ করছেন, আফ্রিকার কোটি কোটি মানুষ তাদের চাহিদার একশ ভাগের এক ভাগও পাচ্ছে না। অথচ করোনা ভাইরাসের পরবর্তী হটস্পট হয়ত তারাই হতে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে প্রথম থেকেই যে কয়েকটি কারণে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকেছে, তার প্রধানতম কারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মাধ্যমে ৩-৪ কোটি মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। যারা এই মুহূর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি করছেন তারা হয় অজ্ঞ অথবা জ্ঞানপাপী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হবে কোন এলাকায় কি পরিমাণ সংক্রমণ, সেটির উপর নির্ভর করে, ধাপে ধাপে। এর আগে যতো বেশি সম্ভব শিক্ষক এবং সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদেরও (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে) ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ফেসবুকে বিনোদন করেন, ছবি আপলোড করেন, ট্রল করেন, যা খুশি তাই করেন, কোনো সমস্যা নেই। দয়া করে শুধু করোনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর কিছু শেয়ার করা বন্ধ করেন। সবচে ভালো হয়, ব্রেকিং নিউজগুলোতে উত্তেজনা কম দেখালে। শিক্ষিত লোকজনের ছাগলামি আর নেওয়া যাচ্ছে না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত