প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রুপায়ন চৌধুরী: বাংলাদেশের মত জায়গায় ব্যবসা করে টিকে থাকা সুকঠিন না শুধু, দুর্গম!

রুপায়ন চৌধুরী : বাংলাদেশের মত জায়গায় ব্যবসা করে টিকে থাকা সুকঠিন না শুধু, দুর্গম। আমি এটি নিয়ে আগেও লিখেছি। এটি এভারেস্ট ডিঙানোর মত অ্যাডভেঞ্চার। সরকারী প্রতিষ্ঠান বলেন বেসরকারী বলেন বিল দেয়ার সময় সবাই একরকম। যত বেশি বিল ঘুরানো যায়। এমন একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান নেই যারা বিলের জন্য পাগলের মত ঘুরে না। এরকম একটি প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবসা করে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বমানের হচ্ছে। এটি বিস্ময়ের।

এই প্রতিষ্ঠানগুলোর যারা দেশের মাটিতে দাঁতে দাঁত চেপে সংগ্রাম করে বিশ্বমানের হচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর গল্প আমাদের পত্র পত্রিকায় সেভাবে চোখে পড়ে না। আমাদের পত্র পত্রিকায় কি চোখে পড়ে— অমুক জন গুগলে চাকুরী পেয়েছে। আমাদের পত্র পত্রিকারা দেশের মেধা পাচারে কি ভূমিকা রাখছে না? আমি খুব আত্নবিশ্বাসের সাথে বলতে পারব সিনেসিস সহ দেশের অনেক প্রথম সারি কোন্পানিতে এত মেধাবী ও অসাধারণ প্রতিভার কর্মী কাজ করে তারা এই মুহূর্তে বিশ্বের যেকোন কোন্পানিতে চাকুরি পেতে পারে। তাদের নিয়ে গল্প আমাদের পত্রিকায় নেই।

তারা যে সংগ্রামের সাথে এখানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তুলছে সেই গল্প কোথাও নেই। এই সতিকারের মেধাবীদের পত্রিকায় যখন আমরা স্থান দিই না, আমরা তাদের অ্যাপ্রিশিয়েশন করা শুরু করি যারা বিদেশ চলে যাচ্ছে, হয়ত দেশে তাদের অবদান তেমন কোন কাজে লাগবে না। গুগলে বা অ্যামাজনে চাকুরি যেন আমাদের দেশের তরুণদের ভবিষ্যত। এই মানসিক দীনতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সতিকারের প্রতিভাবানদের গল্প আমাদের পত্রিকায় আসুক, যে ছেলে দেশের একটু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে একটি স্টার্টআপ দিয়েছে তার গল্প। যারা এনআইডি সিস্টেম বানিয়েছে তাদের গল্প ভরে উঠুক, যারা সিবিভিএমপি সিস্টেম বানিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পুরস্কার নিয়ে এসেছে সেইসব প্রতিভাবানদের গল্পে ভরে উঠুক আমাদের পত্রিকা। আমাদের পত্রিকার পাতা যেন মেধা পাচারের মাধ্যম হয়ে না উঠুক।

আরেকটা কথা, বিভিন্ন দাতা গোষ্ঠীর প্রকল্পগুলো যখন হয় এখানে এমনভাবে টেন্ডারের ক্রাইটেরিয়া তৈরি করে যেন বাংলাদেশের কোন কোন্পানি যেন প্রধান ভূমিকায় অংশ নিতে না পারে। সামনেও বড় কিছু প্রকল্প আসবে এগুলোতে শুনছি এমনভাবে ক্রাইটেরিয়া তৈরি করো যেন বাংলাদেশের কোম্পানি অংশগ্রহণ করতে না পারে। এটি নিয়ে নিউজ দেখি না। দেশের জনগণের প্রকল্প এইগুলি, ঋণ প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলিতে বাংলাদেশের কোম্পানি কাজ করবে, এটি বাংলাদেশের কোম্পানির অধিকার।

সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশনা থাকা দরকার যেন সব কোম্পানি এই দেশের হয়।বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দিলে দেশে কোন চাকুরির সুযোগ তৈরি হয় না, কাজগুলো দায়সারা ভাবে হয়, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সাইবার সিকিউরিটিতে। এখানে এমন অনেক পেশাজীবী আছে যারা রিমোট লগইন নিয়ে কোন দেশ থেকে কাজ করছে আপনি নিজেও জানেন না, যেখানে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগ করা যায় না। দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল তথ্য দায়িত্বহীন ও জবাবদিহিতাবিহীন বিদেশী পেশাজীবীর হাতে থাকে। দেশের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশী কোম্পানিকে কাজ দেয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

শেষ কথা, গুগল ও অ্যামাজনে যোগ দেয়া অবশ্যই প্রশংসার। আমার কাছে আমার যে বন্ধুটি লেদ মেশিন দিয়ে মফস্বলে উদ্যাক্তা হয়েছে সে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশের জন্য, আমাদের মানুষের জন্য।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত