এই সংখ্যার মাধ্যমে আগের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। গত বছর, ৭ মার্চ একদিনে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মুসল্লি ওমরাহ পালন করেছিলেন। রমজান মাসে মক্কার মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
পবিত্র রমজান মাসে ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ডের তথ্য দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির হারামাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই মোট ৯ লাখ ৪ হাজার মুসল্লি ওমরাহ পালন করেছেন। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এটি ছিল ১৪৪৭ হিজরির রমজানের চতুর্থ দিন।
এমন পরিস্থিতিতে কাবা শরিফের চারপাশের খোলা সাদা মার্বেল চত্বর অর্থাৎ মাতাফ এলাকা সারা দিন শুধু ওমরাহ পালনকারীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের সময় বিশেষ করে শুক্রবার এবং মাগরিব, ইশা, তারাবি ও শেষ দশকের তাহাজ্জুদের নামাজে মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের ঢল নামে। নামাজের স্থান দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মুসল্লিদের নির্দেশনা অনুযায়ী খোলা প্রাঙ্গণ ও নির্ধারিত এলাকাগুলোতে নামাজ আদায়ের আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মসজিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিকনির্দেশনা (সাইনেজ) অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে হাঁটার পথ, সড়ক ও খোলা প্রাঙ্গণে জমায়েত। এছাড়া মসজিদুল হারাম সংলগ্ন এলাকায় ভিড় ও যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অননুমোদিত মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, যেসব যানবাহন পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে পার্ক করা হবে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
পরিবহন ও বিকল্প নামাজ ব্যবস্থাপনা
মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবং মোট ১৪টি নির্ধারিত পার্কিং এলাকা থেকে পাবলিক বাস সার্ভিস চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নয়টি পার্কিং এলাকা পবিত্র নগরীর ভেতরে এবং পাঁচটি নগরীতে প্রবেশপথের সড়কে অবস্থিত।
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যারা মসজিদুল হারাম বা এর বাইরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারছেন না, তাদের নিকটবর্তী মসজিদ ও সুসজ্জিত নামাজ হলগুলোতে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজান মাসজুড়ে মুসল্লিদের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সুশৃঙ্খলভাবে ইবাদত নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নিয়েছে তারা।