প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষায় ইসলাম

মুহাম্মদ মিজানুর রহমান: পিতামাতার পরেই আত্মীয়স্বজনের অধিকার। কিন্তু আজকাল অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে যান। আল কোরআনে বিষয়টি বেশ জোর দিয়েই বলা হয়েছে। ‘তোমরা আত্মীয়স্বজনকে তাদের হক আদায় করে দাও। মিসকিন ও মুসাফিরের হক আদায় করতেও ভুলবে না। কখনো অপব্যয় করো না। অবশ্যই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান হচ্ছে তার প্রতিপালকের বড়োই অকৃতজ্ঞ।’ (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৬-২৭)। হাদিস শরিফে এসেছে,‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন ঠিক রাখে। (বুখারি)। অন্যত্র বলা হয়েছে,‘তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সাথে শরিক করো না। এবং পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো। আর উত্তম ব্যবহার করো নিকটাত্মীয়ের সাথে।’ (সূরা আন নিসা, আয়াত : ৩৬)।

আত্মীয়তার বন্ধনকে কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। মানুষে মানুষে জড়িয়ে আছে এই নিবিড় সম্পর্ক। সামাজিক জীবনে মানুষের এই হৃদ্যতা ছাড়া চলা কঠিন। একে অপরের সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে। ভালোবাসার এই সম্পর্ক ছাড়া জীবন অর্থহীন। আত্মীয় ঐ ব্যক্তি যার সাথে মনের গভীর যোগসূত্র তৈরি হয়। তার বিপদে মন কেঁদে উঠে। রক্তের বন্ধন ছাড়াও আত্মীয় হয়। তবে রক্তের আত্মীয় আর এই আত্মীয়ের মাঝে অধিকারগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়ের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সরাসরি নির্দেশ করেছেন। এবং এই বিধানের ব্যতিক্রমের ভয়াবহতা সম্পর্কেও বলেছেন। ‘তোমরা শীঘ্রই এ থেকে ফিরে যাবে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে আর আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করে ফেলবে। আর যারা এরূপ করবে, আল্লাহ তাদের উপর অভিশম্পাত করেন। আর এ ধরণের লোকদেরকে তিনি বধির এবং অন্ধ করে দিয়েছেন।’ (সূরা মোহাম্মাদ, আয়াত : ২২-২৩)।

পবিত্র কোরআনে যে আত্মীয়তার কথা বলা হয়েছে তা দু’ধরণের হতে পারে। এক. রক্ত সম্পর্কীয়। দুই. বিবাহ সম্পর্কীয়। এর বাইরেও সামাজিক দিক থেকে মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। যা একপর্যায় আত্মীয়তায় রূপ নেয়। এ সমস্ত আত্মীয়দের প্রতি প্রতিবেশী বা দ্বীনি ভাই হিসেবে অবশ্যই দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার অর্থ তাদের সার্বিক খোঁজখবর রাখা। তাদের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসা। তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার ইত্যাদি। যদি কোনো ব্যক্তি তার আত্মীয়ের সাথে খারাপ আচরণ করে, যার সাথে খারাপ আচরণ করল, তার উচিত নয় সে-ও তার সাথে খারাপ আচরণ করবে। বরং তার প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে তার আয়ু বৃদ্ধি পায়, রিজিকও প্রশস্ত হয়।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করলে সমাজের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট হয়। একসময় তাদের মাঝে হিংসা-দ্বেষ ছড়িয়ে পড়ে। যে আত্মীয় আরেক আত্মীয়ের কল্যাণ কামনা করবে সে-ই তার বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আপনজনের দেওয়া এই আঘাত বড়ই পীড়াদায়ক মনে হয় ঐ ব্যক্তির কাছে। সে-ও প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠে। তাই ইসলাম এটি দূর করতে সঠিক ব্যবস্থা নিয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালেক রা: থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন,‘কোনো মুসলমানের পক্ষে জায়েজ নয়, তার ভাই এর সাথে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা।’ (মুসলিম)। আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক আল্লাহর আরশের সাথে ঝুলন্ত। সে বলে, যে ব্যক্তি আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক রাখবেন। আর যে আমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন। (মুসলিম)। সুতরাং রাসূলের সাথে সম্পর্ক রক্ষাকারী কোনো ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে না। মহানবি সা: আরো বলেছেন,‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি)।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত