প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আল্লাহ মানুষকে বিপদ আপদ কেন দেন?

ডেস্ক রিপোর্ট   : আমার কাছে যুবক বন্ধুদের নিকট থেকে অনেক প্রশ্ন আসে, সেই সকল প্রশ্ন দেখলেই এই বিষয়টি বুঝা যায়। আমাদের যুবকগণ এই প্রশ্ন করেন, উস্তাজ, আল্লাহ যদি রাহিম-ই হয়, আল্লাহ যদি ন্যয়পরায়নই হয়, এবং আমরা বিশ্বাস করি যে আল্লাহ আছেন এবং তিনি মুতলাক (Absolute) রহমতের মালিক। আল্লাহ মুতলাক আদালতের অধিকারী। আল্লাহ মুতলাক কুদরতের অধিকারী। তাহলে কেন তিনি এই সকল খারাপ বিষয় সমূহের অনুমতি দিয়ে থাকেন?

যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে মন্দ জিনিসের অস্তিত্ব কেন আছে?
সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা যেহেতু তিনি তাহলে তিনি কেন সকলকে ক্ষতিকারী এমন একটি ভাইরাস সৃষ্টি করলেন? যদিও কেউ এটাকে বায়োলজিক একটি অস্ত্র হিসেবে ল্যাবরেটরিতে উৎপাদন করেও থাকে তবে আল্লাহ কেন এমন একটি বিষয়ের অনুমতি দিলেন?

এক অর্থে বলতে গেলে, এগুলো অনেক প্রাচীন প্রশ্ন। দুনিয়াতে মন্দ ও খারাপ জিনিস কেন রয়েছে? দুঃখ, দুর্দশা, ব্যাথা, বেদনা কেন আছে? নিষ্পাপ শিশুরা কেন মৃত্যুবরণ করে? মূলত এই প্রশ্ন সমূহ সকল ধর্মের জন্যই অনেক কঠিন প্রশ্ন। এই সকল কঠিন প্রশ্ন সমূহ এই ধরণের কঠিন সময়ে আরও অনেক বেশী পরিমাণে করা হয়ে থাকে এবং অনেক মানুষ এই সকল প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব পেয়ে হক্ব এবং সঠিক বিষয়কে খুঁজে পেয়েছেন আবার কেউ কেউ এই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসকে হারিয়ে ফেলেছেন। এর সকল বিষয়ের সাথে সাথে খারাপ এবং মন্দের সমস্যার উত্তর খুঁজে না পাওয়ার কারণে যারা নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসকে হারিয়েছেন, তারা কেউই আবার এই সকল মন্দ ও খারাপ বিষয়ের ব্যপারে কোন সমাধান খুঁজে বের করতে পারেননি।

প্রথমত যুবকদের এই সকল কঠিন প্রশ্ন সমূহ করা এবং এই ধরণের আত্মজিজ্ঞাসা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। তাদের এই সকল প্রশ্ন সমূহকে গ্রহণ করা এবং সঠিক জবাব দেওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালানো আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
এই ধরণের প্রশ্ন করো না তাহলে গুনাহ হবে, এ জাতীয় কথা যুবকদেরকে বলবেন না। যুবকদের এই সকল প্রশ্নকে আমি ইব্রাহীমি আচরণ হিসেবে মূল্যায়ন করে থাকি। এগুলা না ডেইজিম (Deism), না এথেইজ (atheism), না অন্য কিছু।
এই সকল প্রশ্ন করা স্বাভাবিক এবং এক অর্থে মানবিক। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর নবী এবং তাওহীদি উম্মতের অগ্রপথিক। কিন্তু তিনি আমাদের রবকে প্রশ্ন করে বলেন,
رَبِّ اَرِن۪ي كَيْفَ تُحْـيِ الْمَوْتٰىۜ
হে প্রভু, তুমি আমাকে দেখাও তুমি কিভাবে মৃতকে জীবিত করো? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইব্রাহীম (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন,
اَوَلَمْ تُؤْمِنْ
তুমি কি বিশ্বাস করো না? ইব্রাহীম (আঃ) এই জবাব দেন,
بَلٰى وَلٰكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْب۪يۜ
অবশ্যই বিশ্বাস করি, কিন্তু আমার অন্তর যেন প্রশান্তি পায় এই জন্য জিজ্ঞাসা করছি। (বাকারা, ২৬০)
মূলত আজকের যুবকরাও আমাদেরকে এই প্রশ্ন করে; উস্তাজ বিশ্বাস করি, কিন্তু আমার আকল যেন নিশ্চিন্ততা লাভ করে এই জন্য প্রশ্ন করি। এই জন্য আমাদের এমন উত্তর দিতে হবে যেন তাদের কালব এবং আকল প্রশান্তি লাভ করে।
প্রিয় বন্ধুগণ,
বর্তমান সময়ের যুবকদেরকে এই কথা বলতে পারবেন না যে, আকলকে এক কিনারায় রেখে দিয়ে ঈমান আনোয়ন কর। আমাদের এমন একটি ঈমানের ভাষায় কথা বলতে হবে যাতে করে তাদের আকল এবং কালব উভয়কেই নিশ্চিন্ততা দান করবে। এখন আমি আমার যুবক বন্ধুদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই।

প্রিয় যুবক-যুবতীরা,
প্রথমত এটা তোমাদের জানতে হবে যে; মহাসৃষ্টির উদ্দেশ্য, সৃষ্টির হিকমাহকে বুঝা ব্যতীত, জগতসমূহের ব্যপারে সঠিক একটি ধারনা অর্জিত হওয়া ছাড়া এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস ছাড়া, এই দুনিয়াতে কেন মন্দ, খারাপ, দুঃখ, ব্যাথা রয়েছে সেটাকে বুঝা যাবে না। সকল দার্শনিকগণ ইতিহাস জুড়ে এই সকল বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। মহান আল্লাহর আসমাউল হুসনা সমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সিফাত রয়েছে। একটি নাম রয়েছে, সেটা হল, আল হাকীম। অর্থাৎ তিনি, সকল কিছুর মধ্যে এবং সকল আদেশের মধ্যে হিকমত রেখে দিয়েছেন। এই দৃষ্টিকোন থেকে তার সৃষ্টির মধ্যে এবং দ্বীনের মধ্যে عَبَث (আবাছ) বলতে কিছু নেই। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা মু’মিনুনে বলেন,
اَفَحَسِبْتُمْ اَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثاً
তোমরা কি মনে করেছিলে আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি?
وَاَنَّكُمْ اِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ
এবং তোমাদের কখনো আমার দিকে ফিরে আসতে হবে না? তোমরা কি ভেবেছ আমাদের দিকে তোমাদের ফিরে আসতে হবে না? (মু’মিনুন, ১১৫)
এখানে عَبَث (আবাছ) পরিভাষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহ এখানে বলছেন আমি তোমাদের عَبَث (আবাছ) সৃষ্টি করিনি। কোরআনে عَبَث (আবাছ) পরিভাষাটি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়ে থাকে যথাঃ লাগবু (لغو), লাহবু ( لهو) ও সাহবু ( سهو); অর্থাৎ অর্থহীন, ফায়দাহীন এবং উদ্দেশ্যহীন।

প্রিয় যুবকগন,
এর আলোকে আল্লাহর সৃষ্টিতে, মহাবিশ্বে এবং আমাদের দ্বীনের মধ্যে ফায়দাহীন, উদ্দেশ্যহীন এবং অর্থহীন কোন বিষয় নেই। প্রথমেই আমি বলতে চাই, এই মহাবিশ্বে মুতলাক ( Absolute) খারাপ বলতে কোন কিছু নেই। আপেক্ষিক খারাপ বিষয় সমূহ রয়েছে। কিন্তু মুতলাক ( Absolute)বা পরম খারাপ কোন কিছু নেই। এমনকি খারাপ তার নিজের স্বত্বায় অস্তিত্বশীল নয়। সে নিজের জাতের মাধ্যমে অস্তিত্ববান নয় এবং কোন খারাপকেই সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। কিন্তু তিনি তার সীমানাহীন হিকমতের মাধ্যমে, সাময়িক সময়ের জন্য তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে খারাপ বিষয়ের অবস্থানকে অনুমতি দেন।
তবে এর পেছনে কারণ সমূহও রয়েছে। অন্ধকার ছাড়া যেমন আমরা আলোকে বুঝতে পারব না। তেমনি ভাবে বাতিল না থাকলে হক্বকেও চিনতে পারব না। যুলুম না থাকলে আদালতকে উপলব্ধি করতে পারব না। খারাপ না থাকলে ভালোকেও অনুধাবন করতে পারব না। কিন্তু যেকোন যুলুমের কারণকে, যে কোন বাতিলের অস্তিত্বকে এবং যে কোন খারাপ বিষয়কে সরাসরি আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা সঠিক নয়।

رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلاًۚ
কোন কিছুই তিনি বাতিলভাবে সৃষ্টি করেননি (আলে ইমরান, ১৯১)।
আমাদের রব কোরআনের তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে এই ভাবে বলেনঃ
وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ اَحَداً۟
তোমার রব কারোর প্রতি যুলুম করেন না। (কাহফ, ৪৯)
وَلَا تُظْلَمُونَ فَت۪يلاً
তোমাদের উপর বিন্দুমাত্র যুলুমও করা হবে না। (নিসা,৭৭)
وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَب۪يدِ
তোমার রব তার বান্দাদের উপর কক্ষনো জুলুম করেন না। (ফুসসিলাত, ৪৬)
এছাড়াও সূরা শুয়ারাতে মহান আল্লাহ আমাদের উপর আগত মুসিবত সমূহের কারণসমূহ বলতে গিয়ে বলেন,
وَمَٓا اَصَابَكُمْ مِنْ مُص۪يبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ اَيْد۪يكُمْ وَيَعْفُوا عَنْ كَث۪يرٍ
তোমাদের ওপর যে মসিবতই এসেছে তা তোমাদের কৃতকর্মের কারনে এসেছে ৷ বহু সংখ্যক অপরাধকে তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়ে থাকেন৷ (শুরা,৩০)
আমাদের প্রিয় নবীর নিকট থেকেও সহীহ একটি সনদের মাধ্যমে এসেছে তিনি রবকে ডাকার সময় এই ভাবে বলতেন,
لبيك وسعديك
হে প্রভু আমি কেবলমাত্র তোমার দিকে অনুগামী হয়েছি।
والخير كله في يديك
সকল মঙ্গল ও কল্যাণ তোমার হাতে।
والشر ليس اليك
কোন প্রকার খারাপ ও মন্দ বিষয় তোমার কাছ থেকে নয়, তোমার সাথে সম্পৃক্ত করা যায় না। এই দৃষ্টিকোন থেকে
خيره وشره من الله
এই বাক্যটি সৃষ্টিগত (বান্দার কর্মের কারণে) দিক থেকে, সরাসরি ইসনাদগত (মূলগত) দিক থেকে নয়। মহান আল্লাহ এই সকল খারাপ বিষয়ের সৃষ্টি করেছেন বলে (নাউযুবিল্লাহ) বিষয়টি এমন নয়।
প্রিয় যুবক ভাই ও বোনেরা,
পৃথিবীতে যদি মন্দ এবং খারাপ বিষয় সমূহ না থাকত তাহলে সৃষ্টির উদ্দেশ্য হারিয়ে যাবে। দুনিয়াতে আদালত, মারহামাত এবং ভালো বিষয় সমূহকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যায়, জুলুম, মন্দ এবং অবিচারকে দূর করাকে মানুষের অন্যতম দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবস্থা যদি তাই হয় তাহলে আমরা যদি ভালো কাজকে পরিত্যাগ করে, মন্দকে প্রতিহত না করে পরে আল্লাহর দিকে ফিরে বলি,
-তুমি কেন মন্দ জিনিস সমূহ সৃষ্টি করলে?
-কেন তুমি আমাদের উপরে বিপদ দিলে?
-কেন তুমি এই সকল খারাপ বিষয় সমূহকে প্রতিহত করছ না?
-আমাদেরকে কি এই কথা বলার অধিকার আছে?
দুনিয়াতে যদি মন্দ ও খারাপ না থাকত তাহলে মানুষকে ইচ্ছা শক্তি দেওয়া হত না, মানুষকে কাজের স্বাধীনতা দেওয়া হত না। মানুষের ভালো ও খারাপ হওয়া এমনকি মু’মিন ও কাফির হওয়া তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির উপর ছেঁড়ে দিতেন না। কোন পছন্দ ও অপছন্দের অধিকার দিতেন না।
মানুষকে সৃষ্টি করার অন্যতম একটি হিকমত হল পরীক্ষা। এই ‘পরীক্ষা’ শব্দটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই দুনিয়া হল পরীক্ষার দুনিয়া। হিসাব এবং পুরষ্কার কিংবা শাস্তির জায়গা নয়।
এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন যে; পরীক্ষায় ফেল করার চেয়েও বিপদজনক একটি বিষয় রয়েছে।
– কি সেটা?
সেটা হল আমরা যে পরীক্ষার মধ্যে আছি এটাক কবুলই না করা।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা মূলকে বলেনঃ
اَلَّذ۪ي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيٰوةَ لِيَبْلُوَكُمْ اَيُّكُمْ اَحْسَنُ عَمَلاًۜ
অর্থঃ আল্লাহ জীবন এবং মৃত্যুকে কেন সৃষ্টি করেছেন জানেন? কাজের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য। (মূলক, ২)
একই বিষয়টি অন্য এক সুরায়, সূরা আ’রাফে বলা হয়েছে,
وَبَلَوْنَاهُمْ بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّـَٔاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
অর্থঃ আর আমি ভাল ও খারাপ অবস্থায় নিক্ষেপ করার মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করতে থাকি, হয়তো তারা ফিরে আসবে যেন তারা ফিরে আসে। যেন তারা ভালো, হক্ব এবং হাকিকতের দিকে ফিরে আসে। (আ’রাফ, ১৬৮)
সূরা আম্বিয়ায় একই বিষয়টি এইভাবে বলা হয়েছে;
وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةًۜ
আর আমি ভালো ও মন্দ অবস্থার মধ্যে ফেলে তোমাদের সবাইকে পরীক্ষা করছি,
وَاِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
শেষ পর্যন্ত তোমাদের আমার দিকে ফিরে আসতে হবে৷ (আম্বিয়া, ৩৫)
অন্য একটি বিষয় হল, দুনিয়াতে এমন অনেক কিছু আছে যা আমাদের দৃষ্টিতে খারাপ হলেও এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে। মুতলাক (Absolute) পরম খারাপ নাই বলতে আমি এই বিষয়টিই বুঝিয়েছি।
আমাদের পূর্বের দারসেও উল্লেখ করেছি এমন একটি আয়াত আমি পুনরাবৃত্তি করতে চাইঃ
وَعَسٰٓى اَنْ تَكْرَهُوا شَيْـٔاً وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْۚ وَعَسٰٓى اَنْ تُحِبُّوا شَيْـٔاً وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْۜ
অর্থাৎঃ হতে পারে কোন জিনিস তোমরা অপছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য উত্তম। হতে পারে কোন জিনিস তোমরা পছন্দ করো অথচ তা তোমাদের জন্য খারাপ ৷ (বাকারা,২১৬)
আমরা ব্যক্তি হিসেবে কিংবা সমাজ হিসেবে যে সকল অসুখ বিসুখের মুখোমুখী হই একই ভাবে সেগুলোরও একটি অর্থ রয়েছে। একটি উদ্দেশ্য আছে, একটি হিকমত এবং একটি ফিলোসফি রয়েছে। অসুস্থতাসমূহও মূলত মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্যের সেবা করে। অসুস্থতাসমূহ ইলাহী সতর্কতা, যা আমাদেরকে সৃষ্টির হিকমতকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
অসুস্থ না হলে আমরা সুস্থতার মূল্য ও মর্যাদাকে বুঝতে পারি না। সুস্থতা কি জিনিস আমরা বুঝতে পারতাম না। জীবনে যদি ভয়-ভীতি, সন্দেহ না থাকে তাহলে নিরাপত্তা কি সেটার মূল্য বুঝতে পারব না। অসুস্থতাসমূহ, শুধুমাত্র ইলাহী একটি সতর্কবাণীই নয়; কোন কোন বান্দার জন্য রহমত স্বরূপ; কোন কোন বান্দার গুনাহের কাফফারা। এর প্রতিটির দলীল হাদীস শরীফ সমূহে রয়েছে।
কোন কোন বান্দার সম্মান ও মর্যাদাকে বুলন্দ করার জন্য, মাঝে মধ্যে অসুস্থতা, মানুষকে আরও অনেক বড় মুসিবত সমূহ থেকে রক্ষা করার জন্য। যারা নিজেকে এবং নিজের রবকে ভুলে গিয়েছে তাদেরকে তাদের রব ও নিজেদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এসে থাকে। মাঝে মধ্য পদ-পদবী, মাল-মূলুকের মত আরও অন্যান্য অনেক বিষয় যেগুলোকে আমরা অনেক মূল্যবান মনে করে থাকি। সেগুলোর যে আসলে কোন মূল্য নেই সেটাকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য। মাঝে মধ্যে একটি নিঃশ্বাসের মত যেটাকে আমরা খুব বেশী মূল্য দেই না, এমন অনেক মূল্যবান বিষয়ের মূল্যকে বুঝানোর জন্য অসুস্থতা এসে থাকে।

সূত্র-

সর্বাধিক পঠিত